তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে ধীরে ধীরে নিজেদের গোটাচ্ছে চীন। অনেক দিন ধরেই কথাটি শোনা যাচ্ছে। সেটি হয়তো বাস্তব হতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমছে। বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীনের সেই ব্যবসা আসছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে।


তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে ধীরে ধীরে নিজেদের গোটাচ্ছে চীন। অনেক দিন ধরেই কথাটি শোনা যাচ্ছে। সেটি হয়তো বাস্তব হতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমছে। বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চীনের সেই ব্যবসা আসছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে।


চীনের হারানো ব্যবসার বড় অংশ যাচ্ছে ভিয়েতনামে। তারপর আসছে বাংলাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৭২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ হিস্যা ভিয়েতনামের থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে।


অন্যদিকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল, তার মধ্যে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) সেটি বেড়ে ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার হিস্যা বেড়েছে দশমিক ২৩ শতাংশ।


ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এমনটা জানা গেছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ হাজার ৪০৬ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছে। বাংলাদেশের মুদ্রায় হিসাব করলে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের চেয়েও এই অর্থ অনেক বেশি।


জাতীয় সংসদে গত ২ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। তার মানে বাজার হিস্যা দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধির সংখ্যাটি ক্ষুদ্র মনে করার কোনো কারণ নেই। টাকার অঙ্কে তা ৯৯৫ কোটি (১২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার)।


দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে চীন। পরের শীর্ষ চার অবস্থানে আছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত।


অটেক্সার হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর ৩ হাজার ৫৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে চীন। তখন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল আড়াই শতাংশ। গত আট মাসের (জানুয়ারি-আগস্ট) ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, বরং ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি ১ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।


সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাকের বাজার হিস্যা এখন ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে গত বছর এটি ছিল ৩৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।


অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট—এই আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ১২৯ কোটি বর্গমিটার সমপরিমাণ কাপড়ের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থের হিসাবে এই রপ্তানির পরিমাণ ৩৭১ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ২৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার সমান।


এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।


তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্বে ৪৮৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাকের ব্যবসা হয়। তবে গত বছর সেটি কমে ৪৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তার মানে পোশাকের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে। এ জন্য চীনসহ অনেক দেশেরই পোশাক রপ্তানি কিন্তু কমে যায়। তবে আশার কথা, বাংলাদেশে কমেনি।


চীন প্রসঙ্গে ফারুক হাসান বলেন, ‘চীনা উদ্যোক্তারা পোশাক ব্যবসা থেকে সরে বস্ত্রকলের দিকে ঝুঁকছে। ফলে তাদের পোশাকের ব্যবসা অন্য দেশে যাবে। সেই ব্যবসার বড় অংশ নিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশে বেশ কিছু ভালো মানের কারখানা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রেতাদের জোট-অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের অধীনে পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হচ্ছে। আশা করছি, আসছে বছর থেকে আমাদের পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে।


তিনি আরও বলেন, চীনের ব্যবসা যে বাংলাদেশে আসছে, আগামী বছর থেকে সেটি আরও প্রতীয়মান হবে।

Post A Comment: