চট্রগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হেরে গেছে বাংলাদেশ। দারুন লড়াই করে ২২ রানের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। জিততে হলে ইংল্যান্ডকে পঞ্চম ও শেষ দিনে তুলে নিতে হতো বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট। আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩৩ রান।

 ইংল্যান্ডের জয়ের উচ্ছাস



চট্রগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হেরে গেছে বাংলাদেশ। দারুন লড়াই করে ২২ রানের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।


জিততে হলে ইংল্যান্ডকে পঞ্চম ও শেষ দিনে তুলে নিতে হতো বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট। আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৩৩ রান।


গতকাল রোববার চতুর্থ দিনে একসময় মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশ জয়ের দিকে ভালোভাবেই এগুচ্ছে।


কিন্তু দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশ শেষ ১১ রানেই ৩ উইকেট হারালে ইংল্যান্ড ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে আসে। আর আজ মাত্র দশ রান তুলতেই পড়ে যায় বাকী দুটো উইকেট।


সবাই স্বীকার করবেন যে চট্টগ্রাম টেস্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। কখনো কখনো বাংলাদেশই বরং বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। কিন্তু ম্যাচে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত পরাজয়ই মেনে নিল। এই হারের কারণগুলো কী?


সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপু মনে করেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞতার অভাব আর সময়মতো পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারার ব্যর্থতাই পরাজয়ের বড় কারণ।


তবে আরও কিছু কারণে ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল বলে তাঁর ধারণা।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় বাংলাদেশ অনেকদিন ধরে টেস্ট খেলছিল না, অন্যদিকে নিয়মিত টেস্ট ম্যাচ খেলছে ইংল্যান্ড।
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু মনে করেন, অসম অবস্থানে থেকেই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় নেমেছিল।


"স্পিন বোলিংয়ে আর রিভার্স সুইং থেকে সুবিধা পেয়ে ইংল্যান্ড উইকেটগুলো তুলে নিতে পেরেছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ শুধু স্পিন নির্ভরই ছিল, সেভাবে সময়মত উইকেট নিতে পারেনি। ইংল্যান্ড এসব দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল"-বলেন গাজী আশরাফ হোসেন।


এই টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে দুর্বলতা ছিল বলেও মনে করছেন তিনি।


প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ৫ উইকেটে ২২১ রান করলেও ২৭ রানের ব্যবধানে বাকি পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফলে বাংলাদেশ ২৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় প্রথম ইনিংস।


সাবেক এই ক্রিকেট তারকা বলেন, "এই শেষ পাঁচটা উইকেট এত তাড়াতাড়ি হারানো ছিল বাংলাদেশের ভুল।"


আরও কিছু রান যদি বাংলাদেশের ইনিংসে যোগ হত, তাহলে টেস্টে জয়ের সম্ভাবনা আরও বেশি থাকতো বলে মনে করছেন তিনি।


তবে এসব কিছুর জন্য দীর্ঘদিন টেস্ট ম্যাচ না খেলা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টাকেই বড় করে উল্লেখ করছেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।


"ইংল্যান্ডের মতো দেশের স্পিনাররা প্রচুর বল করে টেস্ট ম্যাচে, সেক্ষেত্রে উইকেট সহায়তা করলে সেটা কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, কোন সময় ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হয়, কোন সময় উইকেট হারানো চলবে না, দিনের শেষ সেশনের আগ মুহুর্তে মনোসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না - এ বিষয়গুলো ইংল্যান্ড খুব ভালো জানে"।


বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা থেকে পিছিয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।


তাঁর মতে, "বাংলাদেশ এতদিন পর টেস্ট খেলতে নেমেও সাহসিকতার সাথে ইংল্যান্ডকে মোকাবেলা করেছে"।


"বাংলাদেশের মতো ইংল্যান্ডও যদি ১৪ মাস পর টেস্ট খেলতে নামতো তাহলে তারা বাংলাদেশের সাথে হারতো। মুশফিকের পরে টেস্ট অধিনায়ক হয়েও অ্যালেস্টার কুক ১৩৩টা টেস্ট খেলে ফেললো, আর এই সময়ে মুশফিক তার অর্ধেকেরও কম টেস্টে খেলেছে। ভালো খেলোয়াড়তো বেশিদিন থাকে না। যতদিন থাকে ততদিন তাকে খেলার সুযোগটা করে দিতে হবে"-বলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।


তাঁর মতে বাংলাদেশের আরও টেস্ট ম্যাচ খেলানো উচিত, শুধু অনুশীলন করেই ভালো খেলাটা বের করে আনা সম্ভব না।


ক্রিকেট বিশ্লেষক দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ও মনে করেন বাংলাদেশের উচিত আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ করে নেয়া।


তিনি বলেন, এতদিন পর খেলতে নেমে বাংলাদেশ যে বোলিং, ব্যাটিংয়ে এমন পারফরম্যান্স করেছে সেটাই অনেক বড় বিষয়।


তবে প্রথম ইনিংসের শেষ দিকে খুব তাড়াতাড়ি পাঁচটি উইকেট পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য এই টেস্টের সবচেয়ে বড় ভুল বলে তিনি মনে করেন।


আর এই ভুল থেকেই শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন গাজী আশরাফ হোসেন ও দেবব্রত মুখোপাধ্যায়।

Post A Comment: