কি ভাবে hepatitis-s1-liver-hepatitis-virusবে মানুষ হেপাটাইটিস-এ ও ই-এর দ্বারা আক্রান্ত হয় ?

ভাইরাস সংক্রামিত খাদ্য ও জল থেকেই এই রোগ ছড়ায় । যদি সংক্রামিত ব্যাক্তি শৌচালয় ব্যাবহার করার পরে হাত না ধুয়ে খাবারে হাত দেয়, তাহলে খুব সহজেই এই রোগ ছড়ায় । বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং যথোপযুক্ত শৌচালয় থেকে এই রোগ ছড়ায় । এছাড়া যদি কোন ব্যাক্তি সংক্রামিত কোন ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসে তাহলেও এই রোগ ছড়ায় ।


হেপাটাইটিস ই-এর সংক্রমন ঘটে দূষিত জল থেকে । সাধারনত এই রোগ একজনের থেকে অন্য জণের মধ্যে ছড়ায় না । এক জণের থেকে অন্য শরীরে রক্ত সষ্ঞালনের সময় হেপাটাইটিস ই-সংক্রমন হতে পারে, তবে তা খুব কম ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যায় ।


এই রোগের লক্ষন গুলো কি কি ?


প্রথম দিকে শারীরিক দুর্বলতা লক্ষ করা যায় । এই রোগের প্রাথমিক লক্ষন গুলো হলো-


ক্লান্তি
বমি বমি ভাব
খিদে না হওয়া
১০০% ফারেনহাইটের উপর জ্বর হওয়া
পেটের ডান দিকে ব্যথা
পরে আরো কিছু উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়, যেমন:
ঘাঢ় রঙের প্রস্রাব
হালকা রঙের মল
জনডিস, যেখানে ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ পান্ডুর বর্ণ ধারন করে
চুলকানিও থাকতে পারে। 


তবে হেপাটাইটিস এ-এর তুলনায় ই-এর লক্ষন গুলো আরো গুরুতর । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী পুরোপুরি ভাবে সেরে উঠে, তবে কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ এবং ই এর কারনে লিভার অচল হতে পারে । যার ফলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে (০.৫% – ০৩% ) ।


হেপাটাইটিস এ ও ই কে চিহ্নিত করার জন্য কি কি পরীক্ষা করা প্রয়োজন ?
লিভার ফাংশন বোঝার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয় । কিছু কিছু ক্ষেত্রে তলপেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি করার প্রয়োজন পড়ে ।


এই রোগের জটিলতা গুলো কি কি ?


বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ এবং ই আক্রান্ত ব্যক্তি দু’ থেকে তিন মাসের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে উঠে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় সকলেই পুরোপুরি ভাবে সুস্থ্য হয়ে যান ।


তবে সংক্রমিত হওয়ার ছয় থেকে ন’ মাসের মধ্যে দশ থেকে পনেরো শতাংশ রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে ।


সবচেয়ে ক্ষতিকারক ঘটনা হলো হেপাটাইটিস ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হয়ে লিভার ফেলিওর হতে পারে, যার কারনে মৃত্যুও হতে পারে । তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটে । কিন্তু অতিরিক্ত মদ্যপানের কারনে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে লিভারের জটিলতা আরো বৃদ্ধি পায়, সে ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি এবং সি এর সংক্রমনও ঘটতে পারে ।


গর্ভবতী মহিলা যারা অপুষ্টিতে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রেও হেপাটিক ফেলিওর লক্ষ্য করা যায় । হেপাটাইটিস এ এবং ই দ্বারা সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে লিভারের ক্রনিক রোগের উপসম ঘটে না ।


এই রোগের চিকিৎসা কি ?


হেপাটাইটিস এ এবং ই এর চিকিৎসা বাড়িতেই করা যায় । এই রোগ থেকে সেরে উঠার জন্য রোগীর প্রয়োজন বিশ্রাম । কোনরকম অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই । সুস্থ্য-স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য কতটা সময় প্রয়োজন তা ব্যক্তি সাপেক্ষে ভিন্ন হয় । যতদিন না পর্যন্ত জ¦র এবং জন্ডিস পুরোপুরিভাবে সারছে এবং খাওয়ার ইচ্ছে পুরেপুরিভাবে না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে ফেরত না যওয়াই উচিত ।


তবে সেওে উঠার পর রোগীকে মধ্যপান থেকে সর্ম্পূন দুরে থাকতে হবে । এই সময় মধ্যপান লিভারের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক ।


খুব অল্প ক্ষেত্রেই হেপাটইিটিস এ এবং ই সংক্রমিত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় । লিভারের গতিবিধি লক্ষ্য করা ছাড়াও ডিহাইড্রেশনের জন্য এবং উপযুক্ত পুষ্টি সরবরাহের জন্য ।


রোগ প্রতিরোধের জন্য কি কোন টিকার প্রয়োজন আছে ?


হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য ভ্যাকসিন পাওয়া যায় । হেপাটাইটিস ই প্রতিরোধকারী ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষ-নিরীক্ষা চলছে । যারা দু’বার হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধকারী টিকা নিয়েছেন, তাদের এই রোগ থেকে সম্পূর্ন ভাবে মুক্তি ঘটে । প্রথম প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার ছয় মাস থেকে বারো মাস পর দ্বিতীয় টিকাটি নিতে হয় । প্রাথমিক ডোজটি দীর্ঘকালিন প্রতিরোধের জন্য । টীকা নেওয়ার পর সাধারনত সেই স্থানে লালছে ভাব এবং শারীরিক অস্বস্তি অনুভূত হয় । ইমিউনোগ্লোবিউলিন প্রতিষেধক টিকার দ্বারা হেপাটাইটিস এ কে সাময়িকভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং ৯০% ক্ষেত্রে সংক্রমনের ঝুঁকি এড়ানো যায় । যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ এর টিকার ব্যাবহার বেশি করা হয় কারন হেপাটাইটিস এ দীর্ঘকালীন সুরক্ষা প্রদান করে । ভাইরাস কবলিত এলাকায় যাওয়ার আগে একটি ইমিউনোগ্লোবিন প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয় । সাধারনত তিন মাসের জন্য একটি প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয় ।


Post A Comment: