সরকারী-বেসরকারী নানা উদ্যেগ আর উন্নয়ন প্রকল্পের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি মালিকানায় বা ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সম্ভাবনার নিত্যনতুন দ্বার।

সরকারী-বেসরকারী নানা উদ্যেগ আর উন্নয়ন প্রকল্পের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি মালিকানায় বা ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সম্ভাবনার নিত্যনতুন দ্বার।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার অদূরে শরীয়তপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হতে চলেছে বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট বিমানবন্দর। একসময় এই গ্রামে কোনো পাঁকা পথ-ঘাট ছিল না। রিকশা-ভ্যান চলত না। বর্ষার দিনে মানুষকে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে চলতে হতো। পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হতো কাদামাখা দীর্ঘ পথ। আজ সেখানে বিমানবন্দর হবে, ভাবাই যায় না।

দ্রুতই এগিয়ে চলছে বিমানবন্দরের কাজ। শুধু তাই নয়, এই বিমানবন্দরকে ঘিরেই এখন চালুর অপেক্ষায় কোম্পানিটির হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুল।মধুপুর গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হবে এই বিমানবন্দর।

সফল ব্যবসা উদ্যোক্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা  সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের উদ্যোগই তৈরি হতে যাচ্ছে এই বিমানবন্দর ।

জানা গেছে, বিমানবন্দরটি নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন দাফতরিক আনুষ্ঠানিকতা চলছে। সব মিলিয়ে এখন কেবল চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।

প্রাইভেট বিমানবন্দর ও হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুল প্রসঙ্গে জয়নুল হক সিকদার গনমাধ্যমকে  বলেন, অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এই ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ অনেক কম। কাউকে এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে হলে বিদেশে যেতে হয়। আর সে কারণেই তিনি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ স্কুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া বিমানবন্দরটি চালু হলে যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলেও মনে তিনি ।

নির্মাণাধীন বিমানবন্দর এলাকায় গেলে দেখতে পাবেন, দুই পাশে লেক, মাঝখানে ৩ হাজার ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের রানওয়ে। যদিও ছোটখাটো একটি উড়োজাহাজের জন্য সাধারণত ২৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের রানওয়ে দরকার হয়। কিন্তু এখানে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ৩ হাজার ৩০০ ফুট জায়গা সংকুলান করা হয়েছে। লেকের চারপাশে আম, জাম, লিচুসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় আড়াই হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই রানওয়ের ওপর কংক্রিট ফেলার কাজ শুরু করবেন। প্রকল্পের ডিজাইন অনুসারে বর্তমান অবকাঠামোতে ড্যাস-৮ কিংবা জেট আকৃতির উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে পারবে। এরপর বড় আকৃতির বোয়িং ওঠানামা করার জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে এই প্রাইভেট বিমানবন্দরের দূরত্ব হলো মাত্র ৩৬ নটিক্যাল মাইল। বিমানবন্দরটি নির্মাণ হলে শরীয়তপুরসহ ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।

সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরটি ঘিরে একই প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুরের এই গ্রামে গড়ে উঠছে সিকদার গ্রুপের ‘আর অ্যান্ড আর হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুল।’ বিমানবন্দরটির বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুলটি। পুরো প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৪ হাজার বর্গমিটার জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এখানে কেবল বাংলাদেশি মেধাবীরাই নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। ছয়টি মডেলের ১২টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিনই চাপ বাড়ছে। বাড়ছে ট্রাফিক সমস্যা। আর সে কারণে ঢাকার অদূরে এমন একটি বিমানবন্দরের মাধ্যমে যদি ট্রেনিং স্কুল পরিচালনা করা যায়, তবে তা অত্যন্ত সুফল বয়ে আনবে। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা নিজেকে দক্ষ পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে বিমান, নৌ ও সেনাবাহিনীও। তা ছাড়া বিমান বাহিনী ছাড়া বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠেনি। ফলে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিতে পারছে না কেউ। আর সে কারণেই সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

জানা গেছে, ট্রেনিং স্কুলটির ব্যাপারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়া পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। চালুর আগেই সবার মধ্যে একটা আলোড়ন দেখতে পাচ্ছেন তারা। এ প্রসঙ্গে আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশনের চিফ পাইলট এবং ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর উইং কমান্ডার এম শফিকুর রহমান (অব.) বলেন, গত বছরই আমরা বাংলাদেশ আর্মি এবং নেভি থেকে ডিমান্ড পেয়েছি। তারা তাদের শিক্ষার্থীদের এখানে প্রশিক্ষণ করানোর জন্য খুবই ইচ্ছুক। এ ছাড়া সম্প্রতি আমরা ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও অফার পেয়েছি। তারাও এখানে প্রশিক্ষণ নিতে অত্যন্ত আগ্রহ দেখিয়েছে। আশা করছি, নতুন বছর থেকেই আমরা হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুলটি চালু করে ফেলতে পারব। এদিকে হেলিকপ্টার ট্রেনিং স্কুলটির করেসপনডিং অফিস হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইং ক্লাবসংলগ্ন আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশন হ্যাঙ্গারে।

Post A Comment: