মোবাইল ফোনের প্রধান কাজ হলো ফোন করা এবং খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠানো। ইন্টারনেট প্রসারের কারণে এই পদ্ধতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সরাসরি মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে ফোনে কথা না বলে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করার প্রবণতা বাড়ছে এখন। অনেকেই একাধিক মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন ও ট্যাব কম্পিউটার ব্যবহার করেন, আবার বাসা এবং অফিসের কাজের জন্য ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করতেই হচ্ছে। এভাবে একাধিক যন্ত্র থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে সব যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়। আর এ কাজগুলো করার জন্য রয়েছে ইন্টারনেটে ক্লাউড প্রযুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু সেবা। যেগুলো প্রয়োজনীয় এবং অনেকটাই বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় এসব সেবা।

মোবাইল ফোনের প্রধান কাজ হলো ফোন করা এবং খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠানো। ইন্টারনেট প্রসারের কারণে এই পদ্ধতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। সরাসরি মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে ফোনে কথা না বলে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করার প্রবণতা বাড়ছে এখন। অনেকেই একাধিক মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন ও ট্যাব কম্পিউটার ব্যবহার করেন, আবার বাসা এবং অফিসের কাজের জন্য ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করতেই হচ্ছে। এভাবে একাধিক যন্ত্র থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে সব যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় করার প্রয়োজন হয়। আর এ কাজগুলো করার জন্য রয়েছে ইন্টারনেটে ক্লাউড প্রযুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু সেবা। যেগুলো প্রয়োজনীয় এবং অনেকটাই বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় এসব সেবা।


অ্যান্ড্রয়েডে গুগল অ্যাকাউন্ট এবং আওএসের অ্যাপল
নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার সঙ্গে সঙ্গে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে নেওয়া উচিত। আগে থেকেই যদি জিমেইল ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তবে সেই অ্যাকাউন্টটিই যোগ করা ভালো। এর ফলে তথ্য সংরক্ষণ এবং আদান-প্রদানের কাজটি আরও সহজ হ
য়ে যাবে।
আইফোন ব্যবহার করার জন্য অ্যাপল অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক হলেও সব সেবার সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার কাজটি নিজেকেই করতে হবে।


ফোন নম্বর—গুগল কন্টাক্ট, আইক্লাউড কনটাক্ট
মোবাইল ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারি অংশ হলো ফোন নম্বর। নতুন ফোন কেনার পরে অথবা ফোন হারিয়ে গেলে আগের নম্বরগুলো খুঁজে পেতে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। ফোনের কন্টাক্টগুলো গুগল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করা উচিত। গুগলে সংরক্ষণ করা হলে নতুন ফোনে এমনকি কম্পিউটারের মাধ্যমেও ফোন নম্বর ও অন্য তথ্যগুলো দেখা ও সম্পাদনা করা যাবে।


ছবি—গুগল ফটো, আইক্লাউড ফটো
মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ছবিগুলো অনলাইনে বিনা মূল্যে ব্যাকআপ রাখার সুবিধা দেয় গুগল। প্রতিটি গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ১৫ গিগাবাইট জায়গা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। তবে এই ছবি ব্যাকআপ নেওয়ার সুবিধাটির জন্য মূল অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো জায়গা কমতে থাকবে, এমন না।
ক্যালেন্ডার—গুগল ক্যালেন্ডার
দৈনন্দিন কাজগুলো গুছিয়ে করা, সভা বা বিশেষ দিনগুলোর কথা লিখে রাখার জন্য ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হয়। ক্যালেন্ডার যে শুধু মোবাইলে দেখার প্রয়োজন হয়, এমন নয়। একাধিক যন্ত্র ব্যবহার করলে আলাদাভাবে একই অনুষ্ঠানের কথাও লিখে রাখা সম্ভব নয়। একাধিক যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় করার কাজটি সহজ করে দেয় গুগলের ক্যালেন্ডার অ্যাপটি। ওয়েব বা মোবাইল—যে যন্ত্র থেকেই লেখা হোক, অন্য সব জায়গা থেকেই এটি দেখা যায়। পাশাপাশি জিমেইল, নোটসহ অন্য বহু অ্যাপলিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে এখানে।


নোট—কিপ, এভারনোট
বিভিন্ন কাজের সময়ই নোট লিখে রাখার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি স্মার্টফোনেই নোট লেখার বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ থাকে। কিন্তু নোট লেখার অ্যাপ ‘গুগল কিপ’ অন্যান্য অ্যাপ থেকে আলাদা। দেখতে সাধারণ নোট অ্যাপের মতো হলেও এটি গুগলের ক্লাউড সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে যে যন্ত্র থেকেই নোট লেখা হোক না কেন, ইন্টারনেট সক্রিয় থাকলে অন্য সব ডিভাইসেই এটি সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। আরও একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে নোটের সঙ্গে তারিখ উল্লেখ থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল ক্যালেন্ডার যুক্ত হয়ে যায়।


ফাইল সংরক্ষণ—গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স
অনলাইনে ফাইল সংরক্ষণ একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে ব্যাকআপ রাখার সেবাগুলোর মধ্যে ড্রপবক্সকে এগিয়ে রাখতে হবে। কেননা, এটি উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস, লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএসের মতো জনপ্রিয় সব অপারেটিং সিস্টেম থেকে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে কম্পিউটার ও মোবাইলের যে একই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম থাকতে হবে, এমনটাও জরুরি নয়। একই ধরনের সেবা পাওয়া যাবে গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড থেকে, কিন্তু এই সেবাগুলো নির্দিষ্ট কিছু অপারেটিং সিস্টেম থেকেই কেবল ব্যবহার করা যায়।


ওয়েবসাইট বুকমার্ক—পকেট, ব্রাউজারভিত্তিক বুকমার্ক
প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নামের তালিকা তৈরি করা এবং দরকারমতো ব্যবহার করার অভ্যাস আমাদের সবার রয়েছে। এই সংরক্ষণের কাজগুলো আরও সহজে করা যায় পকেট নামের অ্যাপের মাধ্যমে। মোবাইল বা ডেস্কটপ—সব জায়গা থেকেই ব্যবহার করা যায় এই বুকমার্ক সেবা। পাশাপাশি মোজিলা ফায়ারফক্স ও গুগল ক্রোমের নিজস্ব বুকমার্ক-সুবিধা রয়েছে।


অফিস সফটওয়্যার—গুগল ডক, মাইক্রোসফট অফিস
আগে যখন অফিস স্যুট অ্যাপলিকেশন মানে বোঝা যেত অনেকগুলো বিশাল বিশাল অ্যাপলিকেশন। কিন্তু বর্তমানে এই ধারণা থেকে সরে আসছে ব্যবহারকারীরা। মাইক্রোসফট অফিসের বর্তমান অনলাইন সংস্করণ রয়েছে। আর গুগল ড্রাইভভিত্তিক গুগল ডকের ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়ে চলছে ব্যাপকভাবে। এই অ্যাপগুলোরও মোবাইল সংস্করণ রয়েছে। এই অ্যাপগুলো ইনস্টল থাকলে চলতি পথেও সেরে নেওয়া যাবে অফিসের কাজগুলো।

Post A Comment: