ম্যাচের ৩২ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত। ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি কিক। জাদুকরি এক গোলেই আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। নিজেই সেই রেকর্ড গড়া মায়াবী গোল, সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানো, ৪-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যাওয়া...ম্যাচসেরা মেসির কণ্ঠে অনেক কিছু পাওয়ার তৃপ্তি থাকল। তবে এই তৃপ্তিতেই পুরো তৃপ্ত তিনি নন। মেসি যে চান সেই আরাধ্য ট্রফিটা, যার জন্য আর্জেন্টিনার ২৩ বছরের অপেক্ষা!


​সেই গোল ও নিজের রেকর্ড সম্পর্কে মেসি বলেছেন, ‘আমি দাঁড়িয়ে সবকিছু বিশ্লেষণ করে দেখছিলাম। ভালো একটা স্ট্যান্স নিতে চেয়েছি, যেন রানআপের সময় পিছলে না যাই। এরপর ওয়ালটা দেখলাম, দেখলাম গোলকিপার কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তারপর ঠিক করলাম বলটা কোথায় পাঠাব। এত দূর আসতে পেরে আমি আনন্দিত, রেকর্ডটা পেয়েও। তবে আমরা এখানে এসেছি অন্য কিছুর জন্য।’
আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রাতে মেসি স্মরণ করলেন শুরু থেকে তাঁর সঙ্গে খেলা সব সতীর্থর, ‘আমার সতীর্থদের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
এ নিয়ে টানা তিন বছর তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। এবারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষের নাম জানা যাবে আগামীকাল। এবারও মেসি হতাশ হয়ে ফিরবেন কি না, সেই উত্তরও মিলবে আগামী রোববারের ফাইনালে। কিন্তু মেসি এখনই ফাইনালের চাপ নিতে চান না, ‘ফাইনালে হয় আপনি জিতবেন, নয়তো হারবেন। টানা তিনটা ফাইনালে উঠে আসাও কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার, এর ​কৃতিত্বও দিতে হবে। আশা করি, এবার আমরা জিতব।’

এবারের দলটিকে মনে হচ্ছে অনেক বেশি উজ্জীবিত, অনেক বেশি চাপমুক্ত। নিজেদের প্রকাশে উন্মুখ। আগের দুই আসরে এতটা ধারাবাহিক ছিল না আর্জেন্টিনা। মেসি নিজেই মন খুলে খেলছেন। প্রত্যাশার চাপ নিচ্ছেন না বলেই হয়তো। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বললেন, ‘আমাদের দলটা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছে। চিলির মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ থেকেই প্রতিটা কাজ আমরা ভালোভাবে করছি। কোপা এগোতে এগোতে দল হিসেবেও আমরা এগিয়েছি। আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও দারুণ উন্নতি এসেছে। আমরা ক্রমান্বয়ে উন্নতি করছি, কারণ এই শিরোপা আর টুর্নামেন্টের প্রতি আমাদের আকাঙ্ক্ষা আর শ্রদ্ধা অনেক বেশি।’

এবার কোপার মঞ্চে ট্রফি হাতে উৎ​সব করতে দেখা যাবে কি মেসিকে? আর্জেন্টিনার জাদুকর তো প্রত্যয়ী, ‘আরও একটা ফাইনালে উঠতে পেরে আমি অবশ্যই আনন্দিত। টানা তিনটা ফাইনাল, কম কথা নয়। আমরা এখন বলতে পারি, আমরা টানা তিনটা ফাইনালে উঠেছি। এই দলটা যা করেছে সত্যিই অবিশ্বাস্য। আশা করি, এবার আমরা শেষটাও জয় দিয়ে টেনে দিতে পারব। কারণ, এটাই আমাদের পাওনা।’

Post A Comment: