ক্যাকটাস এ দেশেও জন্মে। সবুজ এই গাছটায় কাঁটা থাকলেও এর রয়েছে অন্য রকম সৌন্দর্য৷ দৃষ্টিনন্দন এই ক্যাকটাস এখন ঘরের গাছ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শহুরে মানুষের কাছে।


শুধু একই প্রজাতির নয়, বরং একই টবে আছে সব রকম ক্যাকটাসের সমন্বয়—এমন টব কিনতে পাওয়া যায় ঢাকার বড় বড় সব নার্সারিতে। পাওয়া যায় বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্রাফটিং বা কলমের ক্যাকটাসও। ঢাকার আগারগাঁওয়ের গ্রিন সেভারস নার্সারির প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি জানান, প্রচলিত ক্যাকটাসের মাথা কেটে তাতে লাল, গোলাপি কিংবা হলুদ রঙের ক্যাকটাসের কলম করে বানানো হয় লাল, গোলাপি বা হলুদ ক্রাউন ক্যাপ গ্রাফটিং ক্যাকটাস। মূলত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা হয় এই গ্রাফটিং ক্যাকটাস। দেখতে আকর্ষণীয় এমন গ্রাফটিং ক্যাকটাস অনেকেই রাখেন তাঁদের নিজেদের সংগ্রহে। দাম শুরু ৩৫০ টাকা থেকে। আহসান আরও উল্লেখ করেন, গ্রাফটিং ক্যাকটাস একটু রোদপ্রিয়। তাই যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, এমন স্থানেই ক্যাকটাস রাখা ভালো।
বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাকটাসের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক—জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, ক্যাকটাস মরুভূমির উদ্ভিদ হলেও ইনডোর প্ল্যান্ট বা ছায়াবান্ধব গাছ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হয়তো মরুভূমির পরিবেশের মতো বেড়ে উঠছে না, কিন্তু অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও যে ক্যাকটাস বেড়ে উঠছে এবং তাতে যে আবার ফুলও ফুটছে, তা আজ প্রমাণিত। অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকটি বলতে গিয়ে তিনি জানান, এখন সহজেই ক্যাকটাসের চারা উৎপাদন সম্ভব। সে ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ক্যাকটাসের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবসাসফল হওয়া সম্ভব৷


যত্ন-আত্তি
বর্ণিল গ্রাফটিং ক্যাকটাসক্যাকটাসের এক বিশাল সংগ্রহ আছে গুলশান-তেজগাঁও লিঙ্ক রোডে ব্র্যাকের নার্সারি ব্র্যাক কাননে। এখানে মিলবে ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির ক্যাকটাস। সেখানে ১৫টি গ্রিন হাউসে চলে ক্যাকটাসের উৎপাদন-প্রক্রিয়া। কথা হলো ব্র্যাক কাননের ব্যবস্থাপক মো মাহবুব-ই খোদার সঙ্গে। তিনি জানালেন ক্যাকটাসের যত্ন-আত্তি সম্পর্কে।
* যেহেতু মরুভূমির উদ্ভিদ, এ জন্য ক্যাকটাসে চাই সূর্যের আলো৷ ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে এমন স্থানে ক্যাকটাস রাখতে হবে। আট দিন পরপর গাছটি রোদের আলোতে দিন।
* ২০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ক্যাকটাস রাখা ভালো।
* ১০ থেকে ১২ দিন পরপর অল্প করে পানি দিন। তবে অতিরিক্ত পানিতে ক্যাকটাস মারা যায়।
* পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ক্যাকটাসের গায়ে পানি না পড়ে। পানির স্পর্শে ক্যাকটাসের গায়ে ছত্রাকের আক্রমণ হয়৷ যে কারণে গাছে পচন ধরে।
* পানি ছাড়াও খাবার বলতে দিতে পারেন উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি-উপাদান (ম্যাক্রো ও মাইক্রো উপাদান) নিয়ে তৈরি তরল খাবার। প্রতি মাসে অল্প পরিমাণে দুবার দিলেই যথেষ্ট। পাওয়া যাবে ব্র্যাক কানন, আগোরা, আড়ংসহ বড় কিছু সুপারশপে। পরিমাণভেদে দাম পড়বে ১০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
* ক্যাকটাস টবে বা বাগানেও লাগাতে পারেন। মাটিতে ক্যাকটাস লাগানোর সময় এর কাঁটার হাত থেকে বাঁচতে হাতে ভারী কাপড় জড়িয়ে নিন। এবার চিমটার সাহায্যে টব থেকে সাবধানে উঠিয়ে মাটিতে রোপণ করুন। লক্ষ রাখুন, মাটির গভীরতা যাতে খুব বেশি না হয়। আর কোনোক্রমেই যেন ক্যাকটাসের গোড়ায় পানি না জমে।
* মা-গাছের মূলে অফসেট বা শাখা জন্মে৷ ছুরি দিয়ে সাবধানে কেটে তা আবার অন্য জায়গায় লাগানো যায়। মা-গাছের কাটা অংশ শুকাতে দুই দিন সময় দিতে হবে, না হয় পানি লেগে গাছে পচন ধরতে পারে।
* ক্যাকটাস এমনই এক উদ্ভিদ, খরা সহ্য করার ক্ষমতা যার আছে। ফলে দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকলেও অফিসের ডেস্কে রাখা ক্যাকটাসে পানি দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

Post A Comment: