শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুস্তম আলী (৬৫)। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর ছেলে নিয়ামত আলীও (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত নিয়ামতকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


তাঁরা উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গুরু চরণ দুধনই গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গত ২ এপ্রিল একই ইউনিয়নের নকশি গারোপাড়ায় হাতির আক্রমণে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০-৪০টি বন্য হাতির একটি দল গজনির গভীর জঙ্গল থেকে গুরু চরণ দুধনই গ্রামে হানা দেয়। সে সময় গ্রামের নূরু ইসলাম, আবুল কাশেম ও সাইফ আলীর চারটি টিনের ঘর গুঁড়িয়ে দেয়। গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে, ঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। ওই সময় একটি হাতি রুস্তম আলীকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে প্রথমে মাটিতে আছড়ে ফেলে। এরপর পায়ে পিষ্ট করে মেরে ফেলে। বাবাকে হাতির কবল থেকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে নিয়ামত গুরতর আহত হন। গ্রামবাসী নিয়ামতকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
গ্রামবাসী আবুল কাশেম (৪৫) বলেন, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ৩০/৪০টি বন্য হাতি গ্রামে আক্রমণ চালায়। হাতির ওই দল চারটি ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। রুস্তমকে পিষ্ট করে মেরে ফেলেছে। তাঁর ছেলেও আহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাতির আক্রমণের ভয়ে আমরা সব সময় অস্থির থাকি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা আজ বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বন্য হাতির তাণ্ডব থেকে গ্রামবাসীকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতামত নিচ্ছি আমরা।’

Post A Comment: