জাকারবার্গ বিহীন ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নিয়ে একবার ভাবুন তো? যাঁর হাত ধরে এক ডরমিটরি থেকে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়ে আজ ১৬৫ কোটি ব্যবহারকারীর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, সেই জাকারবার্গ ফেসবুকে না থাকলে কী হতে পারে? এ প্রশ্ন উঠছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের মনেও। জাকারবার্গ-পরবর্তী ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাই ব্যবস্থা নিচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কী সেই ব্যবস্থা?


ফেসবুকের পরিচালনা পর্ষদ প্রস্তাব দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো কারণে জাকারবার্গ যদি ফেসবুক ছেড়ে চলে যান, তবে তিনি ফেসবুক নিয়ে তাঁর ভোট দেওয়ার অধিকাংশ ক্ষমতা হারাবেন। অর্থাৎ, ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারাবেন তিনি। তাঁর মতামতের আর তেমন কোনো গুরুত্ব ফেসবুকে থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে ফেসবুক বোর্ড বলেছে, জাকারবার্গ-পরবর্তী ফেসবুকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে ফেসবুকে যাঁদের শেয়ার আছে, তাঁরা ভোট দেবেন। এতে জাকারবার্গের ‘ক্লাস বি’ শেয়ার ‘ক্লাস এ’ শেয়ারে রূপান্তরিত হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ জুন পর্যন্ত হিসাবে জাকারবার্গ ফেসবুকে ৪০ লাখ ‘ক্লাস এ’ শেয়ার ও ৪১ কোটি ৯০ লাখ ‘ক্লাস বি’ শেয়ারের মালিক। এর মাধ্যমে তিনি একাই ভোটের ক্ষেত্রে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষমতা রাখেন।

চলতি বছর ২০ জুন হতে যাচ্ছে ফেসবুকের বার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় এই প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে। ভবিষ্যৎ ফেসবুকপ্রধানের ক্ষমতা যাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্যই এই প্রস্তাব বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ।

চলমান রীতি অনুযায়ী, জাকারবার্গ ‘ক্লাস বি’ শেয়ার রাখার অনুমোদন রাখেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও ভোটের ক্ষমতায় অধিকাংশ ক্ষমতা রাখেন। এমনকি তিনি তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর ভোটের ক্ষমতা আর ‘ক্লাস বি’ শেয়ার তাঁর উত্তরাধিকারদের মধ্যে দিয়ে যেতে পারবেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাকারবার্গ যাতে ফেসবুক ছেড়ে যেতে না পারেন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পরিচালনা পর্ষদ। জাকারবার্গবিহীন ফেসবুক যাতে সাবলীলভাবে চলতে পারে, সে বন্দোবস্ত করার চেষ্টা করছে ফেসবুক বোর্ড।

Post A Comment: