আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে সাতক্ষীরায় মুস্তাফিজের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাবা আবুল কাসেম গাজী পায়চারি করছেন। বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, ‘এত সকালে এসেছেন!’ চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন।’

    

 

 

 

আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে সাতক্ষীরায় মুস্তাফিজের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, বাবা আবুল কাসেম গাজী পায়চারি করছেন। বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, ‘এত সকালে এসেছেন!’ চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন।’

 

আলাপচারিতায় আবুল কাসেম গাজী জানালেন, সামনে রোজা। ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। প্রথম রোজার দিন এলাকার আট মসজিদে ইফতারি দিতে হবে। প্রথমে ভেবেছিলেন, প্রতিটি মসজিদে টাকা দিয়ে দেবেন। পরে ছেলেদের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করেছেন, মাংস আর খিচুড়ি রান্না করে পাঠাবেন। সঙ্গে থাকবে খেজুর। প্রায় তিন হাজার রোজাদারের জন্য এ আয়োজন করতে হবে। বাবার চাওয়া, প্রথম রোজায় মুস্তাফিজ বাড়িতে থাকুক। গত বছর ঈদে মুস্তাফিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। এবার সবাই মিলে বাড়িতে ঈদের আনন্দ করতে চান তিনি। কথায় কথায় বাবা জানালেন, মুস্তাফিজ গতকাল রাত তিনটার দিকে ঘুমিয়েছে। উঠতে একটু দেরি হতে পারে।

সকাল আটটার দিকে শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের আশাশুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্র মুস্তাফিজের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। এর পরপরই কাকভেজা হয়ে আরও ২৫ ছাত্র এল ২৬ কিলোমিটার দূরের বুধহাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। তারা আসতেই ছুটে গেলেন মুস্তাফিজের বাবা। জিজ্ঞেস করলেন, বৃষ্টিতে ভিজে এসেছ কেন? অসুখ করবে তো! গামছা দিলেন মাথা মুছতে। পরে সবাইকে বসালেন দোতলার বারান্দা আর ঘরে। এরপর একে একে আরও লোকজন আসতে থাকলেন। আর বাড়তে থাকল বাবার ব্যস্ততা।

গতকাল রাত ১১টার দিকে মুস্তাফিজ প্রায় দুই মাস পর সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়ায় নিজের গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন। বাবা বললেন, ও অনেকটা রোগা হয়ে গেছে। প্রায় তিন কেজি ওজন কমে গেছে। বিদেশে গিয়ে দেশের খাবার খেতে না পেরে স্বাস্থ্যের এ দশা হয়েছে।

আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হলেন মুস্তাফিজ। আগত ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। সবাইকে বসার অনুরোধ করলেন। অনেকে ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ কারায় তাঁদের সঙ্গে ছবি তুললেন।

ভিন্ন খবরের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুস্তাফিজ বললেন, সকালে মুস্তাফিজের পছন্দ ভাত আর আলু ভর্তা। অন্য তরকারিও থাকতে পারে। তবে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার, মায়ের হাতের খিচুড়ি ও দেশি মুরগির মাংস। বললেন, দেশে থাকলে গ্রামে মায়ের কাছে ফিরতে ইচ্ছা করে। আর বিদেশে থাকলে দেশে ফিরতে ইচ্ছা করে। প্রথম রোজা পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চান উল্লেখ করে বললেন, ‘বিসিবির ওপর সব নির্ভর করছে।’ কখন, কোথায় থাকবেন—তা অনেক সময় আগে থেকে তিনিও জানেন না।

ভারতে আইপিএল ভালো কেটেছে জানিয়ে মুস্তাফিজ জানালেন, তাঁর জন্য বিদেশিরা বাংলা ভাষা শিখেছে। এটি খুব ভালো লেগেছে। ভাষা তাঁর খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। আকার-ইঙ্গিতে কথা বলেছেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন মুস্তাফিজের বাড়ি থেকে ফিরি, তখনো তিনি সকালের খাবার খাননি। বললেন, কয়টা দিন পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে থাকতে চাই। পায়ে সামান্য ব্যথা ছাড়া শরীর ভালো আছে। তবে ওজন কিছুটা কমেছে।

মুস্তাফিজের মা মাহমুদা খাতুন বললেন, পিঠা ওর খুব প্রিয়। ট্যাংরা মাছ আর বেগুনও খুব প্রিয়। খিচুড়ি আর দেশি মুরগির মাংস তো আছেই। তবে এবার ছেলেটা খুব কাহিল হয়ে গেছে। এত দীর্ঘদিন আগে বাড়ির বাইরে থাকেনি তো! বাড়ি এলে তো ভালো লাগে, ছোট ছেলে—বলেই জড়িয়ে ধরলেন মুস্তাফিজকে।

Post A Comment: