রহস্যময় এই পৃথিবীর অনেক কিছুই এখনও মানুষের অজানা। সৌরজগতের বাসযোগ্য এই গ্রহটির উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ নিয়েও বিস্ময়ের শেষ নেই। কিছু প্রাণী আছে যাদের আকার ভাবভঙ্গী শুধু অবাকই করে না, মজাও দেয়। তেমনই কিছু মজাদার প্রাণীর খোঁজখবর।  


 পিগমি মারমোসেট (Pygmy Marmoset)
বানর প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট এই পিগমি মারমোসেট। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Cebuellapygmaea.. এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৪ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, শুধু শরীরের দৈর্ঘ্যের মত লেজের মাপও এদের প্রায় একই। সাধারণত ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পশ্চিম পেরুর কিছু অংশে এদের দেখা মেলে। ছোট্ট এই প্রাণীটি খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় থেকে শুরু করে ফল, লতাপাতা সবই খায়। বানর প্রজাতির মধ্যে একমাত্র পিগমি মারমোসেটের পায়ে আছে গাছে ওঠার মতো নখ। ছটফটে ছোট্ট বানরটি এতই দ্রুত চলাফেরা করে যে তাদের ঠিক করে দেখা সম্ভব হয়না।



  লিফি সি ড্রাগন (Leafy sea dragon)
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এক ধরনের জলজ আগাছা ভাসতে দেখা যায়। দেখে মনে হবে, এই আগাছার ডালপালা ও পাতায় যেন পানি ভরা আছে। তবে দেখতে আগাছা মনে হলেও এটি আগাছা নয়, এক ধরনের প্রাণী। লিফি সি ড্রাগন মাছ জাতীয়, মেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের সারা শরীরে সবুজ আর হালকা কমলা রঙের সাথে সোনালী আভা দেখা যায়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Phycoudurus eques. অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে বেশি দেখা যায় বলে এদের আর এক নাম অস্ট্রেলিয়ান সি- হর্স। মজার ব্যাপার হল, স্ত্রী ড্রাগন উজ্জ্বল গোলাপি রঙের প্রায় আড়াই শ’ ডিম পুরুষ প্রাণীর লেজে স্থানান্তরিত করে। আর পুরুষ প্রাণী প্রায় নয় সপ্তাহ ধরে তার দেহে ডিমগুলোকে লালনপালন করে। এরপর ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো একে একে পুরুষ ড্রাগনের লেজ থেকে বেরিয়ে আসে। প্রাণীটিকে রক্ষায় ১৯৮২ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া সরকার লিফি সি ড্রাগন শিকার কিংবা ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।










 সান বিয়ার (Sun bear) 
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ভালুক এটি। এদের বৈজ্ঞানিক নাম HelarctosMalayanus. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে এরা বাস করে। সাধারণত ভালুক বিশাল আকারের হলেও এদের গড় দৈর্ঘ্য মাত্র ৪ ফুট। ওজন হয় ৬৫ কেজির মতো। এদের লোম ছোট ও রেশমি। এই ভালুকের বৈশিষ্ট্য হল- এদের বুক, নাক ও চোখের পাশে কমলা-হলুদ রঙের ঘোড়ার খুরের মতো ছাপ থাকে। এ কারণেই এদের সান বিয়ার নামে ডাকা হয়। অবশ্য এরা এখন ইতিহাস। ২০০৭ সালে International Union for Conservation of Nature ছোট্ট এই প্রাণীকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

 আয়ে আয়ে (Aye Aye)
মাদাগাস্কারের মানুষের মাঝে এই প্রাণীটি নিয়ে রয়েছে মজার কুসংস্কার। তাদের মতে আয়ে আয়ে হল সাক্ষাৎ শয়তানের দূত। এদের হাতের বড় আঙুলটি যদি কারও দিকে তাক করে, তাহলে তার নিশ্চিত মৃত্যু। বানরজাতীয় স্তন্যপায়ীদের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম নিশাচর এটি। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Daubentonia Madagascariensis. এদের হাতের অনামিকা একটু বড় হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, এটি বেশ মোটা ও শক্তিশালী। সাধারণত এই আঙুল দিয়ে এরা গাছে গর্ত করে পোকামাকড় ধরে খায়। তবে আঙুলের চাইতে আয়ে আয়ে’র চোখ দুটো দেখতে বেশি ভয়ানক। উজ্জ্বল, হিংস্র, সবুজ রঙের চোখ দুটোই মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়। তবে ছোটখাটো প্রাণীটি আদতে হিংস্র নয়। ফলমূলই মূলত এদের খাদ্য।

Post A Comment: