৬ আগস্ট, ১৯৪৫। জাপানের হিরোশিমাবাসীর ভোরটা ছিল আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই। গৃহিণীরা ব্যস্ত সকালের নাশতা তৈরিতে। ছোট বাচ্চারা মেতে ছিল খেলাধুলা-হুটোপুটিতে। কাজে বেরিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাড়ির পুরুষেরা। ক্ষণিক পরই হিরোশিমাবাসীর এ সাধারণ ভোরটি দুঃস্বপ্নের সকালে পরিণত হয়। চোখ ধাঁধানো আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে, আর কান ফাটানো শব্দে হিরোশিমার আকাশে আছড়ে পড়ে বিশ্বে মানুষের ওপর হামলায় ব্যবহৃত প্রথম আণবিক বোমা। স্থানীয় সময় সকাল সোয়া আটটায় মার্কিন বিমানচালক হিরোশিমাবাসীর ওপর ছাড়েন ‘ফ্যাট ম্যান’ সাংকেতিক নামের ১৬ কিলো টন টিএনটি ধ্বংসক্ষমতার বোমাটি। মাটিতে মিশে যায় গোটা শহর। বিস্ফোরণে প্রাথমিকভাবে এক বিশাল অগ্নিগোলক সৃষ্টির পর সেকেন্ডের মধ্যে এর ঝাপটা ছড়িয়ে পড়ে দেড় কিলোমিটার স্থানজুড়ে। এটি গুঁড়িয়ে দেয় বাড়িঘর, ভস্ম করে দেয় গাছপালা, মানুষসহ প্রাণিকুলকে। শহরের আকাশে ১৬ কিলোমিটার উঁচু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুনে মেঘ। হামলার পর পোড়া দেহ নিয়ে বহু লোক প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন হিরোশিমার বুক চিরে বয়ে চলা নদীতে। হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে অসংখ্য মানুষ। পোড়া মাটিতে পোড়া দেহ নিয়ে সেখানেই চিরকবর হয় তাদের অনেকের। হামলার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর বিনা সাহায্য, বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় গুরুতর আহত অনেকে। যারা বেঁচে যায় তারাও তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহায়। অনেকে পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী অকালে শিশুর জন্ম দেন। কেউ জন্ম দেন অসুস্থ শিশুর। জন্ম নেওয়া শিশুর অনেকে শিকার হয় আকস্মিক মৃত্যুর। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পর হিরোশিমার মজবুত গুটি কয়েক ভবন মাত্র টিকে ছিল। দীর্ঘ সাত দশক পরও সেগুলো ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়ে সেই দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছে।

 ৬ আগস্ট, ১৯৪৫। জাপানের হিরোশিমাবাসীর ভোরটা ছিল আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই। গৃহিণীরা ব্যস্ত সকালের নাশতা তৈরিতে। ছোট বাচ্চারা মেতে ছিল খেলাধুলা-হুটোপুটিতে। কাজে বেরিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাড়ির পুরুষেরা।



ক্ষণিক পরই হিরোশিমাবাসীর এ সাধারণ ভোরটি দুঃস্বপ্নের সকালে পরিণত হয়। চোখ ধাঁধানো আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে, আর কান ফাটানো শব্দে হিরোশিমার আকাশে আছড়ে পড়ে বিশ্বে মানুষের ওপর হামলায় ব্যবহৃত প্রথম আণবিক বোমা।

স্থানীয় সময় সকাল সোয়া আটটায় মার্কিন বিমানচালক হিরোশিমাবাসীর ওপর ছাড়েন ‘ফ্যাট ম্যান’ সাংকেতিক নামের ১৬ কিলো টন টিএনটি ধ্বংসক্ষমতার বোমাটি। মাটিতে মিশে যায় গোটা শহর।

বিস্ফোরণে প্রাথমিকভাবে এক বিশাল অগ্নিগোলক সৃষ্টির পর সেকেন্ডের মধ্যে এর ঝাপটা ছড়িয়ে পড়ে দেড় কিলোমিটার স্থানজুড়ে। এটি গুঁড়িয়ে দেয় বাড়িঘর, ভস্ম করে দেয় গাছপালা, মানুষসহ প্রাণিকুলকে। শহরের আকাশে ১৬ কিলোমিটার উঁচু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুনে মেঘ। হামলার পর পোড়া দেহ নিয়ে বহু লোক প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন হিরোশিমার বুক চিরে বয়ে চলা নদীতে।

হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে অসংখ্য মানুষ। পোড়া মাটিতে পোড়া দেহ নিয়ে সেখানেই চিরকবর হয় তাদের অনেকের। হামলার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর বিনা সাহায্য, বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় গুরুতর আহত অনেকে। যারা বেঁচে যায় তারাও তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহায়। অনেকে পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী অকালে শিশুর জন্ম দেন। কেউ জন্ম দেন অসুস্থ শিশুর। জন্ম নেওয়া শিশুর অনেকে শিকার হয় আকস্মিক মৃত্যুর।

ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পর হিরোশিমার মজবুত গুটি কয়েক ভবন মাত্র টিকে ছিল। দীর্ঘ সাত দশক পরও সেগুলো ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়ে সেই দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছে।

Post A Comment: