রক্তে উচ্চ মাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড থাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Hyperuricemia বলা হয়। ইউরিক অ্যাসিডের কারণে বাত, হাঁটু, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাঁটুতে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিড কিডনি ড্যামেজের কারণ হয়ে থাকে। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি বা কমে যাওয়ার আগে পরীক্ষা করানো উচিত। সাধারণত যে সকল কারণে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি পেয়ে থাকে সেগুলো হলো-

কারণ:
বংশগত
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
উচ্চরক্তচাপ
স্থূলতা
ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া
অতিরিক্ত মদ্যপান
অভুক্ত থাকা

সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের পুরুষদের ৩.৪ থেকে ৭.০ mg/dL এবং নারীদের ২.৪-৬.০ mg/dL পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড থাকা উচিত। ইউরিক অ্যাসিড দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় আছে।

১। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এটি দিনে তিনবার পান করুন। আপনি আস্তে আস্তে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে ম্যালিক অ্যাসিড রয়েছে যা ইউরিক অ্যাসিড ভাঙ্গাতে সাহায্য করে। শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

২। বেকিং সোডা
৮ গ্রাম পানিতে ১/২ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি সর্বোচ্চ দিনে ৮ গ্লাস পান করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস এবং ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস এবং খাবার খাওয়ার ২ থেকে ৪ ঘন্টার মাঝে এক গ্লাস পান করুন। ইউরিক অ্যাসিড ভাল না হওয়া পর্যন্ত এটি পান করুন। তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এই পানীয়টি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

৩। লেবুর রস
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি সকালে খালি পেটে পান করুন। এটি কয়েক সপ্তাহ পান করুন। আপনি যদি ভিটামিন সি সাপ্লিমেনটরি গ্রহণ করে থাকেন তবে লেবু পানি পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৪। চেরি

বাত ব্যথা উপশমে চেরি ফল বেশ উপকারী। দিনে ১০টি থেকে ৪০টি চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। বাতের ব্যথার সময় প্রতি চার ঘন্টা পর পর ৩০ থেকে ৪০টি চেরি ফল খাওয়ার  পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। পানি
২০০৯ সালে American College of Rheumatology গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা এক দিনে পাঁচ থেকে আট গ্লাস পানি পান করে তাদের ইউরিক অ্যাসিড হওয়ার সম্ভাবনা ৪০% পর্যন্ত কমে যায়। সারা দিনে কমপক্ষে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। এছাড়া পানিপূর্ণ সবজি, ফল প্রচুর পরিমাণে খান।

Post A Comment: