রুবিকস কিউব! এই ঘনকের ছয়টি তলের রংগুলো এক করতে যেখানে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে তা করে দেখানোর চিন্তা বাতুলতাই বলা চলে। হাঙ্গেরির উড়োজাহাজ ডিজাইনার এরনো রুবিকও সত্তরের দশকে যখন রুবিকস কিউবের নকশা করেছিলেন, তখন তিনিও বোধ হয় আশা করেননি যে একুশ শতকে এসে সেই রুবিকস কিউব মানুষ তো বটেই, মানুষের তৈরি রোবটও তা নির্দ্বিধায় মিলিয়ে ফেলতে পারবে! আর অন্যান্য দেশের কথা বাদ দিলাম, আমাদের দেশেই সেই অসাধ্য সাধন করল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল। ভারতের টেকক্রিতি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বয়ে আনল বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি। দলটির নাম ‘হ-য-ব-র-ল কুয়েটিয়ান’। ভিন্নধর্মী নামধারী দলের সদস্যদের কাজও সবার থেকে আলাদা হবে, সেটাই যেন স্বাভাবিক। এই দলের দলনেতা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জায়েদুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের বায়েজিদ কবির, আসমাউল স্মিতা রশীদ এবং মো. হানিফ আলী। ৩ থেকে ৬ মার্চ ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) কানপুরে অনুষ্ঠিত ‘টেকক্রিতি ২০১৬’-এর ‘ইন্টারন্যাশনাল রোবট গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতায় দলটি প্রথম রানার্সআপ হয়। কী ছিল এই প্রতিযোগিতায়? দেশে ফিরলে কথা হয় দলের হয়ে টেকক্রিতিতে অংশ নেওয়া বায়েজীদের সঙ্গে। ‘শুরু থেকেই আমাদের চিন্তাটা ছিল কীভাবে ইমেজ প্রসেসিংকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়। পরে দেখলাম যে ইমেজ প্রসেসিংয়ে ম্যাটল্যাব এলগরিদম ব্যবহার করে যেকোনো রংকে খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। মূলত আমরা এই বিষয়টিকেই মাথায় রেখেই কাজ শুরু করি’, জানাচ্ছিলেন তিনি। তাঁদের এই ‘রুবিকস কিউব সলভার’ কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার ওয়েব ক্যামের মাধ্যমে রুবিকস কিউবের ছয়টি তলের ছবি তোলে এবং এর প্রতিটি তলের সবগুলো রং ভালোভাবে শনাক্ত করে। তারপর রুবিকস কিউব সলভের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে রংগুলোর নাম দিয়ে সবচেয়ে কম ধাপের সমাধানটি খুঁজে বের করা হয়।’ ওদিকে কিউবটি যেন ভালোমতো নড়াচড়া করানো যায়, সে জন্য রয়েছে একটি প্লাস্টিকের হাত, যা কিনা একটি সার্ভো মোটরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মজার ব্যাপার হলো তাঁদের তৈরি এই সম্পূর্ণ রুবিকস কিউবটি মাত্র দুই-তিন মিনিটের মাঝে সমাধান করে দেয়। আর এই সমাধানের কারণেই এল সাফল্য। ‘টেকক্রিতি’ মূলত প্রতিবছর আইআইটি কানপুরের আয়োজনে একধরনের প্রযুক্তির উৎসব বলা যায়। যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ছাড়াও সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন থাকে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা, ভারত, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশের দল অংশ নেয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দলটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল রোবটিকস চ্যালেঞ্জ’-এর আইআরজিটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়, যার সুবাদে টেকক্রিতিতে তারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়।

 

 রুবিকস কিউব! এই ঘনকের ছয়টি তলের রংগুলো এক করতে যেখানে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে তা করে দেখানোর চিন্তা বাতুলতাই বলা চলে। হাঙ্গেরির উড়োজাহাজ ডিজাইনার এরনো রুবিকও সত্তরের দশকে যখন রুবিকস কিউবের নকশা করেছিলেন, তখন তিনিও বোধ হয় আশা করেননি যে একুশ শতকে এসে সেই রুবিকস কিউব মানুষ তো বটেই, মানুষের তৈরি রোবটও তা নির্দ্বিধায় মিলিয়ে ফেলতে পারবে! আর অন্যান্য দেশের কথা বাদ দিলাম, আমাদের দেশেই সেই অসাধ্য সাধন করল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল। ভারতের টেকক্রিতি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বয়ে আনল বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি।

 

দলটির নাম ‘হ-য-ব-র-ল কুয়েটিয়ান’। ভিন্নধর্মী নামধারী দলের সদস্যদের কাজও সবার থেকে আলাদা হবে, সেটাই যেন স্বাভাবিক। এই দলের দলনেতা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জায়েদুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের বায়েজিদ কবির, আসমাউল স্মিতা রশীদ এবং মো. হানিফ আলী। ৩ থেকে ৬ মার্চ ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) কানপুরে অনুষ্ঠিত ‘টেকক্রিতি ২০১৬’-এর ‘ইন্টারন্যাশনাল রোবট গট ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতায় দলটি প্রথম রানার্সআপ হয়।

কী ছিল এই প্রতিযোগিতায়?

দেশে ফিরলে কথা হয় দলের হয়ে টেকক্রিতিতে অংশ নেওয়া বায়েজীদের সঙ্গে। ‘শুরু থেকেই আমাদের চিন্তাটা ছিল কীভাবে ইমেজ প্রসেসিংকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়। পরে দেখলাম যে ইমেজ প্রসেসিংয়ে ম্যাটল্যাব এলগরিদম ব্যবহার করে যেকোনো রংকে খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। মূলত আমরা এই বিষয়টিকেই মাথায় রেখেই কাজ শুরু করি’, জানাচ্ছিলেন তিনি। তাঁদের এই ‘রুবিকস কিউব সলভার’ কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার ওয়েব ক্যামের মাধ্যমে রুবিকস কিউবের ছয়টি তলের ছবি তোলে এবং এর প্রতিটি তলের সবগুলো রং ভালোভাবে শনাক্ত করে। তারপর রুবিকস কিউব সলভের একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে রংগুলোর নাম দিয়ে সবচেয়ে কম ধাপের সমাধানটি খুঁজে বের করা হয়।’ ওদিকে কিউবটি যেন ভালোমতো নড়াচড়া করানো যায়, সে জন্য রয়েছে একটি প্লাস্টিকের হাত, যা কিনা একটি সার্ভো মোটরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মজার ব্যাপার হলো তাঁদের তৈরি এই সম্পূর্ণ রুবিকস কিউবটি মাত্র দুই-তিন মিনিটের মাঝে সমাধান করে দেয়। আর এই সমাধানের কারণেই এল সাফল্য।


‘টেকক্রিতি’ মূলত প্রতিবছর আইআইটি কানপুরের আয়োজনে একধরনের প্রযুক্তির উৎসব বলা যায়। যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ছাড়াও সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন থাকে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা, ভারত, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশের দল অংশ নেয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দলটি গত ১১ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল রোবটিকস চ্যালেঞ্জ’-এর আইআরজিটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়, যার সুবাদে টেকক্রিতিতে তারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়।

Post A Comment: