আমাদের পাশের দেশ নেপাল। এত কাছে হওয়ার পরও হয়তো যাওয়া হয় নি আপনার। অথচ হিমালয় কন্যা নেপাল কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চের ডালি সাজিয়ে। ছোট্ট একটি দেশ, কিন্তু উপভোগের উপকরণের শেষ নেই। আসুন জেনে নিই কী কী আছে অপরূপ নেপালে। আজ প্রথম পর্ব- পোখরা পর্বতের অপরূপ দৃশ্য অবলোকন, ফেওয়া লেকে মাছ ধরা সহ আরও অনেক ভাবে উপভোগ করতে পারবেন নেপালের পোখরায় আপনার দিনগুলি। হ্যাঁ, পোখরাকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে একদিন নয় বরং বেশ কয়েকটি দিন প্রয়োজন। ফেওয়া লেকটির আসল সৌন্দর্য্য ফুটে ওঠে বিকেলে। একে ঘিরে থাকা অপরূপ পাহাড়ের সারি আপনার বাড়ি ফেরার ইচ্ছাই শেষ করে দেবে। এখানে প্যারাগ্লাইডিং খুবই বিখ্যাত। এই অনন্য অভিজ্ঞতা বদলে দেবে আপনার জীবনের মানে। পোখরার চমৎকার শহর, সেখানে রেস্তোরা ক্যাফেতে বসে সূর্যাস্ত দেখা আর অসাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষেরা আপনার ভ্রমণকে করে রাখবে অবিস্মরণীয়। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এভারেস্টে চড়া না হয় অসম্ভব, কিন্তু এর বেস ক্যাম্পে যেতে পারেন অনায়াসে। তবে হ্যাঁ, এজন্যেও বুকে সাহস, মনে বল চাই কিন্তু। অবশ্যই আবহাওয়ার খবরাখবর নিয়ে ট্র্যাকিং শুরু করবেন। ১৬ দিনের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের এই ট্র্যাকিং এ যেমন শ্বাসরুদ্ধকর সব অভিজ্ঞতা হবে আপনার তেমনি হবে নতুন নতুন রোমাঞ্চের সাথে পরিচয় প্রতি পদে। অভুতপূর্ব সব প্রকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাবেন আপনি যা শুধু এভারেস্টের ওই অঞ্চলেই মিলবে। এটি ৫,৩৬৪ মিটার উঁচুতে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। বৌদ্ধনাথ বৌদ্ধনাথ একটি প্রাচীন বৌদ্ধস্তূপ, যা নেপালের কাঠমুন্ডুতে অবস্থিত। নেপালি ভাষায় একে বলা হয় খাসটি, জেরাং খাসর বলা হয় তিব্বতীয় ভাষায়। ১৯৭৯ সালে এটি ইউনেস্কো থেকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নেপালের সবচেয়ে বড় এই মন্দিরটির ডায়ামিটারের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার। একে স্তুপাও বলা হয়। একটি অষ্টোকোণী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে স্তুপাটি, একে ঘিরে করা হয়েছে প্রার্থণার জায়গা, সাজানো হয়েছে নানান রকম ধর্মীয় পতাকা দিয়ে। বৌদ্ধনাথে প্রকাশ করা হয়েছে অনেকগুলো প্রতিকী নিবেদন। এখানে আছে পাঁচটি মূর্তি- ধ্যানী বুদ্ধ, যে পাঁচটি মৌলিক উপাদানকে উপস্থাপন করছে ( পৃথিবী, আগুন, পানি, বাতাস এবং ইথার), নয়টি স্তর যা প্রকাশ করে মেরু পর্বতকে এবং ১৩ টি রিং যা প্রকাশ করে আত্মসুদ্ধি বা নির্ভানার ধাপগুলোকে। নেপালে যাবেন আর এই চমৎকার মানব সৃষ্টি দেখে আসবেন না, তাই কি হয়? অন্নপূর্ণা অন্নপূর্ণায় ট্রাকিং এর আনন্দ কিন্তু অনন্য। ভ্রমণ পিপাসুদের বাকেট লিস্টে অন্নপূর্ণা অবস্থান পায় প্রথম সারিতেই, বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলে। এটি মূলত একটি ওভাল শেপের গ্লাসিয়াল প্লেট যেখানে একটি সরু পথ বেয়ে যেতে হয়, হুঞ্চুই চূড়া (৬,৪৪১ মিটার) এবং মাচাপুচার (৬,৯৯৩ মিটার) এর মাঝে। অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প ৪১৩০ মিটার উঁচু এবং এটিই অন্নপূর্ণার সর্বোচ্চ পয়েন্ট। এখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ দেখতে পাবেন আপনি, অর্থাৎ পুরো অন্নপূর্ণায় চোখ বুলিয়ে নিতে পারবেন। ভিন্ন আরেকটি পথে অন্নপূর্ণা ট্রাকিং এ যেতে পারেন। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ১২-১৯ দিন। থুরং লা পাস এর এই পথে আপনাকে যেতে হবে ৫,৪১৬ মিটার। অপূর্ব এই ট্রাকিং এ দেখতে পাবেন কাছ থেকে মানাসলু, ল্যাংট্যাং হিমেল, অন্নপূর্ণা ১, ২, ৩ ও ৪ এবং গঙ্গাপূর্ণা। অন্নপূর্ণায় বেড়ানোর সবচেয়ে ভাল সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে এপ্রিল। চিতয়ান ন্যাশনাল পার্ক চিতয়ান মানে হল "জঙ্গলের হৃদয়"। এখানে মজার আকর্ষন হল এক শিংওয়ালা গন্ডার। আরও দেখতে পাবেন হরিণ, বানর, হায়েনা, গরিয়াল কুমির এবং ৪৫০ প্রজাতিরও বেশী পাখি। পার্কটি কিন্তু লোপার্ড, বন্যহাতি আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও আবাসস্থল। একজন ভ্রমণকারীর এই পার্কটিতে অন্তত ২ দিন থাকা উচিৎ। কারণ এটি পার্ক হলেও আসলে একটি বন। প্রকৃতির মাঝে বিচরণরত প্রানীদের প্রকৃতির সময়মতই দেখতে হবে। তাই যত সময় আপনি থাকবেন তত আপনার সুযোগ বাড়বে।

 

 আমাদের পাশের দেশ নেপাল। এত কাছে হওয়ার পরও হয়তো যাওয়া হয় নি আপনার। অথচ হিমালয় কন্যা  নেপাল কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চের ডালি সাজিয়ে। ছোট্ট একটি দেশ, কিন্তু উপভোগের উপকরণের শেষ নেই। আসুন জেনে নিই কী কী আছে অপরূপ নেপালে। আজ প্রথম পর্ব-

পোখরা
  পর্বতের অপরূপ দৃশ্য অবলোকন, ফেওয়া লেকে মাছ ধরা সহ আরও অনেক ভাবে উপভোগ করতে পারবেন নেপালের পোখরায় আপনার দিনগুলি। হ্যাঁ, পোখরাকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে একদিন নয় বরং বেশ কয়েকটি দিন প্রয়োজন। ফেওয়া লেকটির আসল সৌন্দর্য্য ফুটে ওঠে বিকেলে। একে ঘিরে থাকা অপরূপ পাহাড়ের সারি আপনার বাড়ি ফেরার ইচ্ছাই শেষ করে দেবে। এখানে প্যারাগ্লাইডিং খুবই বিখ্যাত। এই অনন্য অভিজ্ঞতা বদলে দেবে আপনার জীবনের মানে। পোখরার চমৎকার শহর, সেখানে রেস্তোরা ক্যাফেতে বসে সূর্যাস্ত দেখা আর অসাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষেরা আপনার ভ্রমণকে করে রাখবে অবিস্মরণীয়।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্প
  এভারেস্টে চড়া না হয় অসম্ভব, কিন্তু এর বেস ক্যাম্পে যেতে পারেন অনায়াসে। তবে হ্যাঁ, এজন্যেও বুকে সাহস, মনে বল চাই কিন্তু। অবশ্যই আবহাওয়ার খবরাখবর নিয়ে ট্র্যাকিং শুরু করবেন। ১৬ দিনের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের এই ট্র্যাকিং এ যেমন শ্বাসরুদ্ধকর সব অভিজ্ঞতা হবে আপনার তেমনি হবে নতুন নতুন রোমাঞ্চের সাথে পরিচয় প্রতি পদে। অভুতপূর্ব সব প্রকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাবেন আপনি যা শুধু এভারেস্টের ওই অঞ্চলেই মিলবে। এটি ৫,৩৬৪ মিটার উঁচুতে অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

বৌদ্ধনাথ
  বৌদ্ধনাথ একটি প্রাচীন বৌদ্ধস্তূপ, যা নেপালের কাঠমুন্ডুতে অবস্থিত। নেপালি ভাষায় একে বলা হয় খাসটি, জেরাং খাসর বলা হয় তিব্বতীয় ভাষায়। ১৯৭৯ সালে এটি ইউনেস্কো থেকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। নেপালের সবচেয়ে বড় এই মন্দিরটির ডায়ামিটারের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার। একে স্তুপাও বলা হয়। একটি  অষ্টোকোণী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে স্তুপাটি, একে ঘিরে করা হয়েছে প্রার্থণার জায়গা, সাজানো হয়েছে নানান রকম ধর্মীয় পতাকা দিয়ে। বৌদ্ধনাথে প্রকাশ করা হয়েছে অনেকগুলো প্রতিকী নিবেদন। এখানে আছে পাঁচটি মূর্তি- ধ্যানী বুদ্ধ, যে পাঁচটি মৌলিক উপাদানকে উপস্থাপন করছে ( পৃথিবী, আগুন, পানি, বাতাস এবং  ইথার), নয়টি স্তর যা প্রকাশ করে মেরু পর্বতকে এবং ১৩ টি রিং যা প্রকাশ করে আত্মসুদ্ধি বা নির্ভানার ধাপগুলোকে। নেপালে যাবেন আর এই চমৎকার মানব সৃষ্টি দেখে আসবেন না, তাই কি হয়?

অন্নপূর্ণা
  অন্নপূর্ণায় ট্রাকিং এর আনন্দ কিন্তু অনন্য। ভ্রমণ পিপাসুদের বাকেট লিস্টে অন্নপূর্ণা অবস্থান পায় প্রথম সারিতেই, বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলে। এটি মূলত একটি ওভাল শেপের গ্লাসিয়াল প্লেট যেখানে একটি সরু পথ বেয়ে যেতে হয়, হুঞ্চুই চূড়া (৬,৪৪১ মিটার) এবং মাচাপুচার (৬,৯৯৩ মিটার) এর মাঝে। অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প ৪১৩০ মিটার উঁচু এবং এটিই অন্নপূর্ণার সর্বোচ্চ পয়েন্ট। এখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ দেখতে পাবেন আপনি, অর্থাৎ পুরো অন্নপূর্ণায় চোখ বুলিয়ে নিতে পারবেন।

ভিন্ন আরেকটি পথে অন্নপূর্ণা ট্রাকিং এ যেতে পারেন। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ১২-১৯ দিন। থুরং লা পাস এর এই পথে আপনাকে যেতে হবে ৫,৪১৬ মিটার। অপূর্ব এই ট্রাকিং এ দেখতে পাবেন কাছ থেকে মানাসলু, ল্যাংট্যাং হিমেল, অন্নপূর্ণা ১, ২, ৩ ও ৪ এবং গঙ্গাপূর্ণা। অন্নপূর্ণায় বেড়ানোর সবচেয়ে ভাল সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে এপ্রিল।

চিতয়ান ন্যাশনাল পার্ক
  চিতয়ান মানে হল "জঙ্গলের হৃদয়"। এখানে মজার আকর্ষন হল এক শিংওয়ালা গন্ডার। আরও দেখতে পাবেন হরিণ, বানর, হায়েনা, গরিয়াল কুমির এবং ৪৫০ প্রজাতিরও বেশী পাখি। পার্কটি কিন্তু লোপার্ড, বন্যহাতি আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও আবাসস্থল। একজন ভ্রমণকারীর এই পার্কটিতে অন্তত ২ দিন থাকা উচিৎ। কারণ এটি পার্ক হলেও আসলে একটি বন। প্রকৃতির মাঝে বিচরণরত প্রানীদের প্রকৃতির সময়মতই দেখতে হবে। তাই যত সময় আপনি থাকবেন তত আপনার সুযোগ বাড়বে।

Post A Comment: