পারমাণবিক নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটন থেকে সৌদি আরবে রওনা দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে পাক প্রশাসনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তার এ সফর, বলা হয়েছে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল, মোদির বিজেপি কট্টর হিন্দুপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত। ভারত সরকারের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ দুটির মধ্যে জন্মলগ্ন থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সম্পর্ক দারুণ তিক্ত। সবমিলিয়ে মোদির সৌদি সফর বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশের সঙ্গে ‘ধীরে ধীরে সুসম্পর্কের ফাঁদ’ তৈরি করাই ভারতের উদ্দেশ্য। পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক পরিসরে আক্রমণাত্মক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনকে বেছে নিয়েছে ভারত। মোদির এ সফরে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মতো নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় নিশ্চিত করে এ সব চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। পাকিস্তানের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরের কয়েক মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে সফরে গেলেন মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও দুই দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, ‘বিষয়টি সহজ। পাকিস্তানকে মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে হবে আমাদের। প্রয়োজনে অর্থনীতি, কৌশল ও আবেগ ব্যবহার করে ইসলামাবাদের বন্ধুদের মন জয় করতে হবে।’ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পাকিস্তানের সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামগুলোর শুনানিতে আরো সহানুভূতি পেতে পারে ভারত। ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়োগ সেক্ষেত্রে সহজ হয়ে যাবে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় দায়ী লস্কর-ই-তায়্যিবার ওপর বৃহস্পতিবার যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর সম্পর্কে প্রায়ই রঙ চড়ানো হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে, যা নিয়ে হতাশ নয়া দিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনার সময় সৌদি আরব তাদের মিত্র পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের সরকারি সূত্র বলছে, মোদির এই কূটনৈতিক কৌশলের উদ্দেশ্য বিশ্ব সম্প্রদায়ে পরিচিত 'ভারত-পাকিস্তান' শব্দগুচ্ছকে আলাদা করে দেওয়া, পাকিস্তান প্রসঙ্গ আসলেই ভারতের নাম নিতে হবে কিংবা ভারত প্রসঙ্গ আসলেই পাকিস্তানের কথা সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে তুলতে হবে- এই প্রচলন ভাঙতে চায় ভারত। বিশেষ করে চীনের প্রভাব কাটিয়ে এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়ানোও ভারতের উদ্দেশ্য, যার জন্য পাকিস্তানকে পেছনে ফেলা প্রয়োজন ভারতের। এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রভাব বলতে কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে ভারত সরকারের। ভারতের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরব এবং সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় প্রবাসী রয়েছেন। গত কয়েক বছরে দেশ দু'টোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ভারতের চার শীর্ষ পলাতক অপরাধীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। সম্পর্কের এই ধারাকেই আরো এগিয়ে নিতে চান মোদি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় পর্যটন ও শ্রমবাজার ইত্যাদি মোদির আলোচ্য। তবে নয়া দিল্লির প্রত্যাশা অর্জনে বাধাও কম নয়। মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ভিত কয়েক দশক পুরোনো। ইসলামাবাদের আর্থিক অবস্থানের দীর্ঘদিনের উৎস সৌদি আরব। ২০১৪ সালে পাকিস্তানকে বৈদেশিক রাজস্ব বাড়াতে সহযোগিতার জন্য ‘উপহার’ হিসেবে দেড়শ' কোটি ডলার দিয়েছিল সৌদি আরব। এতসব সত্ত্বেও ঠিক সময়েই মোদি সৌদি আরবে সফরে গিয়েছেন বলেই মনে করেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। নানা বিষয়ে সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার এই সময়ের সুযোগ নিতে চায় ভারত।

পারমাণবিক নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটন থেকে সৌদি আরবে রওনা দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে পাক প্রশাসনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তার এ সফর, বলা হয়েছে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে।


ভারতের ক্ষমতাসীন দল, মোদির বিজেপি কট্টর হিন্দুপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত। ভারত সরকারের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ও সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ দুটির মধ্যে জন্মলগ্ন থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সম্পর্ক দারুণ তিক্ত। সবমিলিয়ে মোদির সৌদি সফর বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশের সঙ্গে ‘ধীরে ধীরে সুসম্পর্কের ফাঁদ’ তৈরি করাই ভারতের উদ্দেশ্য। পাকিস্তানের ওপর ব্যাপক পরিসরে আক্রমণাত্মক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনকে বেছে নিয়েছে ভারত।

মোদির এ সফরে সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মতো নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয় নিশ্চিত করে এ সব চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

পাকিস্তানের আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরের কয়েক মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে সফরে গেলেন মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও দুই দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, ‘বিষয়টি সহজ। পাকিস্তানকে মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে হবে আমাদের। প্রয়োজনে অর্থনীতি, কৌশল ও আবেগ ব্যবহার করে ইসলামাবাদের বন্ধুদের মন জয় করতে হবে।’

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো পাকিস্তানের সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামগুলোর শুনানিতে আরো সহানুভূতি পেতে পারে ভারত। ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়োগ সেক্ষেত্রে সহজ হয়ে যাবে।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় দায়ী লস্কর-ই-তায়্যিবার ওপর বৃহস্পতিবার যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর সম্পর্কে প্রায়ই রঙ চড়ানো হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে, যা নিয়ে হতাশ নয়া দিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনার সময় সৌদি আরব তাদের মিত্র পাকিস্তানের প্রসঙ্গ তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের সরকারি সূত্র বলছে, মোদির এই কূটনৈতিক কৌশলের উদ্দেশ্য বিশ্ব সম্প্রদায়ে পরিচিত 'ভারত-পাকিস্তান' শব্দগুচ্ছকে আলাদা করে দেওয়া, পাকিস্তান প্রসঙ্গ আসলেই ভারতের নাম নিতে হবে কিংবা ভারত প্রসঙ্গ আসলেই পাকিস্তানের কথা সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে তুলতে হবে- এই প্রচলন ভাঙতে চায় ভারত। বিশেষ করে চীনের প্রভাব কাটিয়ে এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়ানোও ভারতের উদ্দেশ্য, যার জন্য পাকিস্তানকে পেছনে ফেলা প্রয়োজন ভারতের।

এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের প্রভাব বলতে কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে ভারত সরকারের। ভারতের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরব এবং সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় প্রবাসী রয়েছেন।
গত কয়েক বছরে দেশ দু'টোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ভারতের চার শীর্ষ পলাতক অপরাধীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব।
সম্পর্কের এই ধারাকেই আরো এগিয়ে নিতে চান মোদি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ধর্মীয় পর্যটন ও শ্রমবাজার ইত্যাদি মোদির আলোচ্য।
তবে নয়া দিল্লির প্রত্যাশা অর্জনে বাধাও কম নয়। মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ভিত কয়েক দশক পুরোনো। ইসলামাবাদের আর্থিক অবস্থানের দীর্ঘদিনের উৎস সৌদি আরব। ২০১৪ সালে পাকিস্তানকে বৈদেশিক রাজস্ব বাড়াতে সহযোগিতার জন্য ‘উপহার’ হিসেবে দেড়শ' কোটি ডলার দিয়েছিল সৌদি আরব।
এতসব সত্ত্বেও ঠিক সময়েই মোদি সৌদি আরবে সফরে গিয়েছেন বলেই মনে করেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। নানা বিষয়ে সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার এই সময়ের সুযোগ নিতে চায় ভারত।

Post A Comment: