গ্রীষ্মকালটা সবার জন্য আসলেই একটু কষ্টকর কারণ এই সময়টায় সবারই বেশি যত্ন নেয়া উচিত, বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে গরমকাল থাকে ৪ মাস। গরমকালের দিনের লম্বা সময়টা দেহের সমস্ত শক্তি বের করে দিয়ে দেহকে ক্লান্ত করে তোলে।

গ্রীষ্মকালটা সবার জন্য আসলেই একটু কষ্টকর কারণ এই সময়টায় সবারই বেশি যত্ন নেয়া উচিত, বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে গরমকাল থাকে ৪ মাস। গরমকালের দিনের লম্বা সময়টা দেহের সমস্ত শক্তি বের করে দিয়ে দেহকে ক্লান্ত করে তোলে।


গ্রীষ্মকালে ডায়েবেটিকস রোগীদের যত্ন নিবেন কিভাবে আসুন জেনে নেই।

আর এই গরমকালেই ডায়াবেটিক রোগীদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। এই সময় ডায়াবেটিক রোগীদের মেটাবলিক রেট বেড়ে গিয়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়। তাই দেহকে আর্দ্র রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের উপযোগী খাবার খাওয়া এই সময় খুবই জরুরি আর এটিই ডায়াবেটিক রোগীদের ভালো থাকার উপায়।

বেশি করে ফল খাওয়া-


ডায়াবেটিক রোগীরা ঘামে বেশি যার ফলে শরীর থেকে শক্তি কমে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই এই সময় সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বেশি করে ফল খাওয়া। বেশি করে পীচ, বেরি ও তরমুজ জাতীয় ফল খেতে হবে এবং শরীরে পানির অনুপাত ঠিক রাখতে হবে।

বেশি তরল পানীয় পান-

স্বাস্থ্যকর তরল পানীয় যতটুকু সম্ভব খেতে হবে। মাঝে মাঝে পানির পরিবর্তে চা খাওয়া যেতে পারে তবে অবশ্যই চিনি ছাড়া। গ্রীন টি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ ভালো একটি পানীয়।

গ্রীষ্মকালে ডায়েবেটিকস রোগীদের যত্ন নিবেন কিভাবে আসুন জেনে নেই।
গ্রীষ্মকালে ডায়েবেটিকস রোগীদের যত্ন নিবেন কিভাবে আসুন জেনে নেই।

প্রয়োজনে টেম্পারেচার শীতল রাখাঃ-

অনেক সময় নিজ ঘরে মাত্রারিক্ত আদ্রতার ফলে ডায়াবেটিকস রোগিদের মারাত্তক শারীরিক অসুস্থা দেখা দেয় আর মুলত একারণেই যতটা সম্ভব নিজ ঘরকে শীতাতপ (Air Condition) নিয়ন্ত্রিত করা। ফলে নিজ ঘর সবসময় নিয়মিত শীতল থাকবে,

ভিটামিন খেতে হবে-

ভিটামিন সি ও এ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই রোগ প্রতিরোধের জন্য সবুজ শাক সবজি খাওয়া শুরু করতে হবে।

নিজেকে পরিস্কার রাখতে হবে-

শুধুমাত্র স্বাস্থ্য সম্মত খাবারই ভালো থাকার একমাত্র উপায় নয়। কারণ এই সময় ঘাম হওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের একটি সাধারণ সমস্যা। তাই নিজেকে ভালো ভাবে পরিস্কার রাখতে হবে। দিনে ২ বার গোসল করতে হবে। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এন্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ও পাউডার ব্যবহার করতে হবে।

আরামের কাপড় পরিধান করা-

এই সময় চেষ্টা করতে হবে হাল্কা ধরনের আরামের কাপড় যেমন সুতি বা লিলেন কাপড় পরিধাণ করার কারন এতে দেহ শুষ্ক ও হাল্কা থাকবে। যদি সিনথেটিক কাপড় পড়া হয় তাহলে শরীরের ঘাম শুকাবেনা এবং ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানী ইত্যাদির সৃষ্টি হবে। এটি ডায়াবেটিক রোগীদের এই সময় ভালো থাকার আরো একটি উপায়।

মদ্যপান বর্জন-

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মদ্যপান কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বিশেষ করে গরমকালে। এছাড়াও সুস্থ থাকার জন্য ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় গুলোও বর্জন করতে হবে।

উন্মুক্ত স্থানে ব্যায়াম-

এটি সুস্থ থাকার আরো একটি উপায়। জিম বা অন্য কোন বদ্ধ জায়গায় ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত ঘাম হয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা খোলা পরিবেশে দৌড়াতে বা সাঁতার কাটতে পারেন চাইলে ইয়োগাও করতে পারেন।

নিমন্ত্রণের খাবারে নিয়ন্ত্রণ-

ডায়াবেটিক রোগীরা নিজেদের চেষ্টায় ভালো থাকার সব উপায় মেনে চললেও গরমের সময় অনেক ধরনের উৎসবের দাওয়াত থাকে যা ইচ্ছা করলেই বর্জন করা যায় না। তাই সেখানে ভারী ও ভাজাপোড়া খাবার না খেয়ে সবজি,কম তেলের খাবার এবং গ্রীল জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে।

পায়ের যত্ন-

গরম কালে ডায়াবেটিক রোগীদের গ্লাইসেমিক কন্ট্রোল না থাকলে তারা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গির দ্বারা পায়ের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাই যেকোনো ধরনের ইনফেকশন এড়াতে নিয়মিত এন্টিসেপটিক লোশন দিয়ে পা পরিস্কার করতে হবে। খোলা স্যান্ডেল পরতে হবে, আর যদি বন্ধ জুতা পড়তেই হয় তাহলে সুতি মজা ব্যবহার করতে হবে।

শরীরের কাটা ক্ষত থেকে সাবধান-

শরীরের কোথাও কোন কেটে যাওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে।কোন ভাবেই খালি পায়ে বাইরে যাওয়া যাবে না। যদি কোন ভাবেই কোথাও কেটেই যায় যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

পেট খালি না রাখা-

ডায়াবেটিক রোগীদের কিছুক্ষন পর পর ক্ষুধা লাগে।এই ক্ষুধাকে অবহেলা করলে রক্তের সুগারের মাত্রা খুব দ্রুত কমে যাবে।তাই চেষ্টা করতে হবে বড় খাবারের পাশাপাশি মাঝে মাঝে অল্প কিছু খাওয়া।কিছু চিনি ছাড়া নাস্তা বা ফল খেতে পারেন সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়ে।
নফ

ডায়াবেটিক রোগীদের নিয়মিত রক্তে সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। এই মাত্রা খুব কম বা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আশা করি পোস্টটি পড়ে ভালো লেগেছে।

এই পোস্টিও পছন্দ করতে পারেনঃ-

Air conditioning যেমন একদিকে অফিসিয়াল জীবনে স্বস্তির আভাস নিয়ে এসেছে তেমনি একই রকম স্বস্তি এনেসে ঘরোয়া জীবনেও।

Post A Comment: