ঘুরে আসুন হিমালয় কন্যা নেপালে (দ্বিতীয় পর্ব) আমাদের পাশের দেশ নেপাল। এত কাছে হওয়ার পরও হয়তো যাওয়া হয় নি আপনার। অথচ হিমালয় কন্যা নেপাল কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চের ডালি সাজিয়ে। ছোট্ট একটি দেশ, কিন্তু উপভোগের উপকরণের শেষ নেই। আসুন জেনে নিই কী কী আছে অপরূপ নেপালে। আজ দ্বিতীয় পর্ব- লুম্বিনি গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি একটি পবিত্র স্থান তো বটেই একই সাথে মনোরোম প্রকৃতি এর সাথে যোগ করেছে বাড়তি পাওয়া। রঙিন এবং শান্তিময় মঠ গুলো যেন বর্ননা করে সিদ্ধার্থের জীবনাচরণ, গল্প বলে তাঁর শৈশবের, কৈশোরের। বুদ্ধ আনুমানিক ৫৬৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জন্মগহণ করেন। নানান কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে তাকে নিয়ে। বিশাল সংখ্যার দর্শনার্থী প্রতিবছর এই মঠ দর্শনে আসেন। অন্তত ১ বা ২ দিন সময় নিয়ে আসলে শান্তিমত দেখতে পারবেন লুম্বিনি। গোকিও লেক হিমালয়ের অপূর্ব দৃশ্য আর গোকিও লেকের মনোমুগ্ধকর রূপ একবার দেখলে ভুলতে পারবেন না কখনো। দুদ কোশী ভ্যালির উপরে এই লেকে পৌছতে হবে ট্রাকিং করেই। এর স্বচ্ছ পানিতে ফুটে ওঠে প্রকৃতির প্রতিবিম্ব। বেলায় বেলায় বদলে যায় তাঁর রং আলাশের রং এর সাথে তাল মিলিয়ে। ভক্তপুর ভক্তপুরের মধ্যযুগীয় নির্মাণ এবং কাঠের কাজ গুলো দেখতে অবশ্যই যাওয়া উচিৎ আপনার এখানে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবনটি হল নিয়াতাপোলা মন্দির টোল। এটি নেপালের সবচেয়ে লম্বা মন্দির, নির্মিত হয় ১৭০২ সালে রাজা ভূপাতিন্দ্র মাল্লার সময়ে। ১২ শতকে আনন্দ মাল্লার সময়ে ভক্তপুর একটি স্বাধীন শহরে পরিণত হয়। শহরের উত্তর দিকে রয়েছে রাজ প্রাসাদ। এর গোল্ডেন গেট পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেওয়া হয় যে কোন দর্শনার্থীকে। এখানে চমৎকার একটি আর্ট গ্যালারী আছে সেখানে দেখতে পাবেন তান্ত্রিক কাপড়ে করা চিত্রশিল্পের সংগ্রহ। ভক্তপুরের শান্ত আবহাওয়া, খোলা বাতাস আর অপূর্ব প্রকৃতি মন ভরিয়ে দেবে আপনার। তবে শহরের ভেতরে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ। আর ভাল মত বেড়ানোর জন্য ১টি দিনই যথাষ্ঠ। ল্যাংটেং ট্র্যাক নেপালের সবুজ দৃশ্যাবলী আর বন্যজীবন উপভোগ করতে ল্যাংট্যাং ট্র্যাকিং এ যেতে পারেন। এর বামে তিব্বত এবং ডানে নেপাল। শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য্যের আবাস পথের দুই পাশ ধরে। এ এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এই ট্রেকিং আপনাকে পার হতে হবে চমৎকার ল্যাংটেং নদী, চোখধাধানো পাহাড়ের সারি, ঘন সবুজ বন।কাঠমুন্ডু থেকে ৮ ঘন্টার বাস যাত্রা দিয়ে শুরু হবে আপনার পথ চলা। ট্রাকিং এর সময় ৬-১২ দিন হলে ভাল। আপনার হাতে কতটা সময় আছে তার উপর সাজাতে পারেন আপনার ভ্রমণ। তবে সময় যত দেবেন ততই মিশে যেতে পারবেন প্রকৃতির সাথে। কাঠমুন্ডু কাঠমুন্ডু ঘুরে বেড়ানোর জন্য এক অসাধারণ জায়গা। নেপালের রাজধানী সৈন্দর্য্য আর স্থাপত্যেও রাজকীয়। এখানে দেখতে পারে দরবার স্কয়ার। যদিও শত বছর আগেই দরবার স্কয়ার থেকে রাজ পরিবার স্থানান্তরিত হয় তবুও এটি পর্যটকদের কাছে রাজকীয় ভাবমূর্তি হারায় নি এক বিন্দুও। পুরো স্কয়ারকে ঘিরে আছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মূর্তি। চমৎকার সব মন্দির মুগ্ধ করবে আপনাকে। মুকুটের রত্ন হল হনুমান ঢোকা, রাজ প্রাসাদের কমপ্লেক্স। এছাড়া আছে তেলেজু মন্দির যা তৈরি হয়েছে ১৫৬৪ সালে। নির্মাণ করেছেন মাহেন্দ্র মাল্লা। এটি দাঁড়িয়ে আছে ১২ টি প্লিন্থের উপর এবং এর উচ্চতা ৩৫ মিটার। আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য হল কুমারী বাহাল, ৩ তলা বিশিষ্ট জটিল নির্মাণ শৈলীর একটি দালান এটি, নির্মিত হয় ১৭৫৭ সালে। কাঠমুন্ডুর পুরোনো রাস্তা, মার্কেটগুলো, দূর্দান্ত স্থাপত্য সবই একজন পর্যটককে আকর্ষণ করবে।


  আমাদের পাশের দেশ নেপাল। এত কাছে হওয়ার পরও হয়তো যাওয়া হয় নি আপনার। অথচ হিমালয় কন্যা নেপাল কিন্তু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চের ডালি সাজিয়ে। ছোট্ট একটি দেশ, কিন্তু উপভোগের উপকরণের শেষ নেই। আসুন জেনে নিই কী কী আছে অপরূপ নেপালে। আজ দ্বিতীয় পর্ব-

 
লুম্বিনি
গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি একটি পবিত্র স্থান তো বটেই একই সাথে মনোরোম প্রকৃতি এর সাথে যোগ করেছে বাড়তি পাওয়া। রঙিন এবং শান্তিময় মঠ গুলো যেন বর্ননা করে সিদ্ধার্থের জীবনাচরণ, গল্প বলে তাঁর শৈশবের, কৈশোরের। বুদ্ধ আনুমানিক ৫৬৩ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জন্মগহণ করেন। নানান কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে তাকে নিয়ে। বিশাল সংখ্যার দর্শনার্থী প্রতিবছর এই মঠ দর্শনে আসেন। অন্তত ১ বা ২ দিন সময় নিয়ে আসলে শান্তিমত দেখতে পারবেন লুম্বিনি।
 
গোকিও লেক
হিমালয়ের অপূর্ব দৃশ্য আর গোকিও লেকের মনোমুগ্ধকর রূপ একবার দেখলে ভুলতে পারবেন না কখনো। দুদ কোশী ভ্যালির উপরে এই লেকে পৌছতে হবে ট্রাকিং করেই। এর স্বচ্ছ পানিতে ফুটে ওঠে প্রকৃতির প্রতিবিম্ব। বেলায় বেলায় বদলে যায় তাঁর রং আলাশের রং এর সাথে তাল মিলিয়ে।
 
ভক্তপুর
ভক্তপুরের মধ্যযুগীয় নির্মাণ এবং কাঠের কাজ গুলো দেখতে অবশ্যই যাওয়া উচিৎ আপনার এখানে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবনটি হল নিয়াতাপোলা মন্দির টোল। এটি নেপালের সবচেয়ে লম্বা মন্দির, নির্মিত হয় ১৭০২ সালে রাজা ভূপাতিন্দ্র মাল্লার সময়ে। ১২ শতকে আনন্দ মাল্লার সময়ে ভক্তপুর একটি স্বাধীন শহরে পরিণত হয়। শহরের উত্তর দিকে রয়েছে রাজ প্রাসাদ। এর গোল্ডেন গেট পর্যন্ত প্রবেশ করতে দেওয়া হয় যে কোন দর্শনার্থীকে। এখানে চমৎকার একটি আর্ট গ্যালারী আছে সেখানে দেখতে পাবেন তান্ত্রিক কাপড়ে করা চিত্রশিল্পের সংগ্রহ। ভক্তপুরের শান্ত আবহাওয়া, খোলা বাতাস আর অপূর্ব প্রকৃতি মন ভরিয়ে দেবে আপনার। তবে শহরের ভেতরে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ। আর ভাল মত বেড়ানোর জন্য ১টি দিনই যথাষ্ঠ।
 
ল্যাংটেং ট্র্যাক
নেপালের সবুজ দৃশ্যাবলী আর বন্যজীবন উপভোগ করতে ল্যাংট্যাং ট্র্যাকিং এ যেতে পারেন। এর বামে তিব্বত এবং ডানে নেপাল। শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য্যের আবাস পথের দুই পাশ ধরে। এ এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এই ট্রেকিং আপনাকে পার হতে হবে চমৎকার ল্যাংটেং নদী, চোখধাধানো পাহাড়ের সারি, ঘন সবুজ বন।কাঠমুন্ডু থেকে ৮ ঘন্টার বাস যাত্রা দিয়ে শুরু হবে আপনার পথ চলা। ট্রাকিং এর সময় ৬-১২ দিন হলে ভাল। আপনার হাতে কতটা সময় আছে তার উপর সাজাতে পারেন আপনার ভ্রমণ। তবে সময় যত দেবেন ততই মিশে যেতে পারবেন প্রকৃতির সাথে।
 
কাঠমুন্ডু
কাঠমুন্ডু ঘুরে বেড়ানোর জন্য এক অসাধারণ জায়গা। নেপালের রাজধানী সৈন্দর্য্য আর স্থাপত্যেও রাজকীয়। এখানে দেখতে পারে দরবার স্কয়ার। যদিও শত বছর আগেই দরবার স্কয়ার থেকে রাজ পরিবার স্থানান্তরিত হয় তবুও এটি পর্যটকদের কাছে রাজকীয় ভাবমূর্তি হারায় নি এক বিন্দুও। পুরো স্কয়ারকে ঘিরে আছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মূর্তি। চমৎকার সব মন্দির মুগ্ধ করবে আপনাকে। মুকুটের রত্ন হল হনুমান ঢোকা, রাজ প্রাসাদের কমপ্লেক্স। এছাড়া আছে তেলেজু মন্দির যা তৈরি হয়েছে ১৫৬৪ সালে। নির্মাণ করেছেন মাহেন্দ্র মাল্লা। এটি দাঁড়িয়ে আছে ১২ টি প্লিন্থের উপর এবং এর উচ্চতা ৩৫ মিটার। আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য হল কুমারী বাহাল, ৩ তলা বিশিষ্ট জটিল নির্মাণ শৈলীর একটি দালান এটি, নির্মিত হয় ১৭৫৭ সালে। কাঠমুন্ডুর পুরোনো রাস্তা, মার্কেটগুলো, দূর্দান্ত স্থাপত্য সবই একজন পর্যটককে আকর্ষণ করবে।

Post A Comment: