হলিউডের ১০টি উদ্ভট সুপারহিরো ফিল্ম!!!

হলিউডের ১০টি উদ্ভট সুপারহিরো ফিল্ম!!!
হলিউডের ১০টি উদ্ভট সুপারহিরো ফিল্ম!!!
বাচ্চাদের কমিক বুক থেকে সুপারহিরো ব্যাপারটির উৎপত্তি। এটি এতো জনপ্রিয়তা পায়, যে কারণে নির্মাতারা এই চরিত্রটিকে সেলুলোয়েডের ফিতায় বন্দী করে ফেলেন। এর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সুপারম্যান, স্পাইডার ম্যান, আয়রন ম্যান, ব্যাট ম্যানের মত সুপারহিরো চরিত্রগুলো। কিন্তু এছাড়া আরও বিশেষ চরিত্রদের নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেসব সিনেমা জনপ্রিয়তা পাওয়া দূরে থাক, দর্শকই পায় নি বলা চলে। 

হলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সুপারহিরোদের নিয়ে মাতামাতি আজ থেকে নয়। সেই জের ধরে নতুন নতুন চরিত্র আসছে পর্দায়। যেমন সম্প্রতি যোগ হয়েছে অ্যান্ট ম্যান, গার্ডিয়ান অফ দ্য গ্যালাক্সি, ডেডপুল, সুইসাইড স্কোয়াড ইত্যাদি।

কিন্তু এইসব সুপারহিরো সিনেমাগুলো বহুল প্রশংসিত এবং সত্যিকার অর্থে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এ সিনেমাগুলো বাদে অতীতে যেসব সুপারহিরো পর্দায় এসেছে, সেগুলোকে এযাবতকালের সবচেয়ে বাজে সুপারহিরো সিনেমা বলা হয়। এমন মোট ১০টি উদ্ভট সিনেমা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।

হাওয়ার্ড দ্য ডাক

১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় সুপারহিরো চরিত্র নিয়ে বানানো ‘হাওয়ার্ড দ্য ডাক’ চলচ্চিত্রটি। এই ছবিটির পটভূমি এসেছে মারভেলের কমিক বই থেকে। ডাক ওয়ার্ল্ড নামের একটি কাল্পনিক গ্রহের এক সুপারহিরো চরিত্র হাওয়ার্ড দ্য ডাক। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছিলেন জর্জ লুকাস। সমালোচক থেকে শুরু করে দর্শক, বক্স অফিস সব জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি।

কিস মিটস দ্য ফ্যান্টম অব দ্য পার্ক 

এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। একটি রক ব্যান্ড দলের নাম ‘কিস’। এবং সেই দলের কেউ না কেউ বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। সেসময় এক উন্মাদ বিজ্ঞানী ভয়ঙ্কর একটি পরিকল্পনা করে। সেই উন্মাদ ডাক্তার একটি গবেষনায় মানুষ ধরে ধরে তাদের ক্লোন করে তা রোবোট বানিয়ে বিনোদন পার্কে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। তখন সেই ব্যান্ড দলের সব সদস্য মিলে সেটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়, এবং এক পর্যায়ে সফল হয়। এমন  কাহিনীর সিনেমা ‘কিস মিটস দ্য ফ্যান্টম অব দ্য পার্ক’।  তবে এই ছবিটিকে গ্রহণ করেনি দর্শক।

দ্য টক্সিক অ্যাভেঞ্জার 

১৯৮৪ সালের সুপারহিরো সিনেমা ‘দ্য টক্সিক অ্যাভেঞ্জার’। ট্রমাভিলে একজন প্রকান্ড ও বীভৎসদর্শন সুপারহিরো। এই ছবিটিকে দর্শক গ্রহণ করেনি। এর কারণ, সুপারহিরো চরিত্রে এমন বিকট চেহারার কাউকে দেখতে চায় না সুপারহিরো ভক্তরা। যে কারণে এই ছবিটিও উদ্ভট সুপারহিরো সিনেমার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দ্য মিটিওর ম্যান

ছবির শিরোনামটিকে বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘উল্কা মানব’। আদতে এটিও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়া সুপারহিরো চলচ্চিত্র। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ওয়াশিংটন ডিসির একটি স্কুলের শিক্ষক যেভাবে হঠাৎ একদিন সুপারহিরো হয়ে ওঠে, এমন কাহিনীর সিনেমা ‘দ্য মিটিওর ম্যান’। এই সিনেমাটিকেও সমালোচক থেকে দর্শকরা সেভাবে গ্রহণ করে নেন নি।

দ্য মাস্ক

এটি ১৯৯৪ সালের নির্মিত সিনেমা। চাক রাসেল পরিচালিত এই সিনেমাটি জনপ্রিয় হলেও সুপারহিরো হিসেবে এই চরিত্রকে মেনে নেয় নি দর্শক। জিম ক্যারি, ক্যামেরন ডায়াজের মত অভিনেতারাও ‘দ্য মাস্ক’ ছবিটিকে সুপারহিরোর মর্যাদা দিতে পারেন নি।

ফর ইয়োর হাইট অনলি

১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি মূলত কোন সুপার হিরো ক্যাটাগরিতে পরে না। তবে সিনেমার একটি চরিত্র বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। নির্মাতা এডি নিকার্টের কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘ফর ইয়োর হাইট অনলি’। মি. জায়ান্ট নামের এক খল চরিত্রকে নিয়ে সিনেমাটির কাহিনী। যার পরিকল্পনা পুরো পৃথিবীকে জিম্মি করে নিজের কাজ আদায় করা। সেখান থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টার কাহিনী নিয়ে এই সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। সিনেমাটি জনপ্রিয় হওয়ায় পরবর্তীতে এর একটি সিক্যুয়েলও বানানো হয়। কিন্তু সুপারহিরো হিসেবে ছবির চরিত্র তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি দর্শকমহলে।

থিওডোর রেক্স

একটি বিকল্পধারার আধুনিক সমাজের একজন নারী পুলিশ সদস্য অপরাধী খোঁজার জন্য একটি ডায়নোসরের সাহায্য নেয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ডায়নোসরটি কথা বলতে পারতো। তারা দুজনে মিকে সেই খুনীকে খুঁজে বের করে। তাদেরকে আরও অন্যান্য প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীরা সাহায্য করে এই ব্যাপারে। এই কাহিনীর সিনেমাটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়। তবে সুপারহিরো সিনেমা হিসেবে বাজে খেতাব অর্জন করে ‘থিওডোর রেক্স’ ছবিটি।

ট্যাংক গার্ল

এই ছবিটিও মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। ব্রিটিশ কাল্ট কমিক বই থেকে নেয়া হয়েছে সিনেমার কাহিনীটি। পৃথিবীতে প্রচন্ড খরা দেখা গেলে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী এক মেয়ের পানি সরবরাহ করার কাহিনী দেখানো হয়েছে সিনেমায়। এই কারণে সিনেমার নাম ‘ট্যাংক গার্ল’। সুপার হিরো কাহিনী থাকলেও সিনেমাটিকে আপন করে নেয় নি দর্শক।

গ্রিফ দ্য ইনভিজিবল

২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া একটি সুপারহিরো সিনেমা এটি। গ্রিফ নামের একজন মানুষের কাহিনী দেখানো হয়েছে সিনেমায়। সেই মানুষটি দিনের বেলায় সাধারণ মানুষের মত কাজ করে বেড়ায়, তবে রাতের আধারে তার রূপ ভিন্ন। সে একজন সুপারহিরো। একদিন গ্রিফ মেলোডি নামের এক সুন্দরী বিজ্ঞানী মেয়ের দেখা পায়। পরে দুজনে মিলে নিজেদের সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। এমন কাহিনীর সিনেমা ‘গ্রিফ দ্য ইনভিজিবল’। তবে এটিও দর্শক গ্রহনযোগ্যতা পায়নি। এবং বাজে সুপারহিরো সিনেমার তালিকায় রয়েছে ছবিটি।

দ্য রিটার্ন অব ক্যাপ্টেন ইনভিঞ্চিবল


এই সুপারহিরো সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৮৩ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন ইনভিঞ্চিবল তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করেন। এবং ছবিতে তিনিই ছিলেন সুপারহিরো। এটি একটি সুপার হিরো কমিক স্ট্রিপের প্যারোডি সংস্করণ। এই সিনেমাটিও হলিউডের বাজে সিনেমার তালিকায় নাম লেখায়।

Post A Comment: