ভাল করে ভাবুন দেখি, এক সময়ে যাঁকে চোখে হারিয়েছেন, আজ তার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও অনুভূতিটা কি ভালবাসা বলেই মনে হয় না? শুধু আপনিই নন, আপনার প্রিয় তারকাদের জীবনেও এরকম মুহূর্ত এসেছে। তুমুল প্রেমে পড়ার মুহূর্ত এবং বিচ্ছেদেরও! ১৪ ফেব্রুয়ারির বিশ্ব প্রেমের দিনে বিনোদন দুনিয়ার তেমনই ১৪টি জুটিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

খুশি কি দুনিয়া : দেব আনন্দ তখনও নবাগত। আর, সুরাইয়া? বলিউডের ডাকসাইটে এক ডিভা! প্রথম শুটিংই ছিল চুমুর! নবাগত নায়কের আড়ষ্টতা কাটিয়ে তাঁকে সহজ হতে সাহায্য করেন ডিভা। বাকিটা আর ব্যক্তিগত থাকেনি। দেখতে দেখতে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের প্রেম। এবং ভেঙেও যায়! সুরাইয়ার মায়ের আপত্তিতে। তাতে কী! এখনও তাঁদের প্রেম সাহস জোগায় অনেককেই!

পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া : তাঁরা যে তুখোড় ভাবে মজে আছেন পরস্পরে, এ কথা তাঁদের যে কোনো ছবিই বলে দেয়। রাজ কাপুর আর নার্গিসকে নিয়ে আলাদা করে আর কী বলার আছে! এই প্রেম সম্বল করেই তো তাঁদের প্রত্যেকটা ছবি সুপারহিট। আর, ভালবাসা? বিবাহিত পুরুষ নার্গিসকে জীবনে গ্রহণ করতে পারেননি ঠিকই! কিন্তু, রাজ কাপুর বললেই সবার আগে নার্গিসের নামটাই তো মাথায় আসে।

হম আপ কি আঁখোঁ মে ইস দিল কো বসা দে তো : গুরু দত্ত তাঁর হৃদয় সঁপে দিয়েছিলেন ওয়াহিদা রহমানের চোখের তারায়। ওয়াহিদাও ভালবেসেছিলেন প্রিয় পুরুষটিকে প্রাণ ঢেলে! কিন্তু, এখানেও সমস্যা সেই গুরু দত্তের বিবাহিত জীবন। তাই ওয়াহিদার নাম জড়াল ত্রিকোণ প্রেমে। দুঃখে পৃথিবী থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিলেন গুরু দত্তের স্ত্রী গায়িকা গীতা দত্ত। যদিও, শুধু সেলুলয়েডেই নয়, বাস্তবেও অমর হয়ে রইল সেই প্রেমগাথা।

তুঝকো দিল দে দিয়া : এই গল্পটা অনেকটা পজর্জ বার্নার্ড শ-এর পিগম্যালিয়নের মতো! যেখানে সুন্দরী ইলাইজাকে গ্রুম করে বিখ্যাত করে তুলেছিলেন প্রফেসর হিগিনস্। সেরকমটা শোনা যায় ভানুরেখা গণেশন আর অমিতাভ বচ্চনের ক্ষেত্রেও! কাজ করতে করতে এক সময়ে পরস্পরকে ভালবেসে ফেলেন তাঁরা। বচ্চনের গ্রুমিং এক আলাদা মাত্রায় পৌঁছে দেয় রেখাকে। এবং, কিংবদন্তি করে তোলে তাঁদের প্রেমকেও! বিয়ে না-ই বা করলেন, কে জানে, এখনও কেন ছবি করেন না তাঁরা! এক সঙ্গে!

উও লমহে : বলিউডের এক উদীয়মান পরিচালক ভালবেসে ফেলেছিলেন এক খামখেয়ালি, নিজের মর্জিতে বাঁচা, বয়সে বড় এক নায়িকাকে। পরভিন বাবিকে ভালবাসার সেই গল্প নানা জায়গায় বলেছেন মহেশ ভাট। আমরা আর পুনরাবৃত্তিতে যাব না। শুধু সেলাম জানাচ্ছি তাঁদের ভালবাসাকে। তা সে যতই অপূর্ণ হোক!

গুসতাখিয়াঁ মাফ হো : প্রেম ভাঙলে বড় কষ্ট হয়। সেই ব্যাপারটা হাতে-নাতে বোঝা গেল, যখন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে ক্ষেপে উঠেছিলেন সলমন খান। এখনও সালমান স্পষ্টভাবে নাম নিতে চান না ঐশ্বরিয়া। বোঝাই যায়, কষ্টা রয়ে গেছে মনের কোণে। অবশ্য, ঐশ্বরিয়াই বা কী করেন! কোথাও একটা অসুবিধে হয়েছিল বলেই তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন!

আই ওয়ানা মেক লাভ টু ইউ : খুব অল্প সময়ের জন্য ঠিকই! কিন্তু, বেশ গভীর ভাবেই পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর অক্ষয় কুমার। এক সঙ্গে যখন একের পর এক হিট দিয়ে যাচ্ছেন দুজনে, তখন প্রিয়াঙ্কাকে নিজের লেডি লাক-ও বলতেন অক্ষয়। পরে, অক্ষয় বিয়ে করে নেন টুইঙ্কলকে। কী আর করা!

কহো তো আভি জান দে দুঁ : এতটা ভাল বোধহয় বিপাশা বসু আর কাউকেই বাসেননি! যতটা তিনি ভালবাসতেন জন আব্রাহামকে। সমস্যা হল, সম্পর্কের জটিলতাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারেননি কেউই! তাই, প্রেমটাও কেটে গেল!

তুম সে হি : ভালবাসায় ছিলেন করিনা কাপুর খান আর শাহিদ কাপুরও! এক সময়ে, করিনা নিজেই মত পালটান! আলাদা হয়ে যায় তাঁদের রাস্তা। তাতে কী! এখনও তাঁদের প্রেমকাহিনি নিয়ে ঝড় ওঠে বলিউডে।

আগর তুম সাথ হো : কে জানে কেন, দীপিকা পাড়ুকোনকে ছেড়ে গিয়েছিলেন রণবীর কাপুর! তবে, তাঁদের প্রেমকাহিনিটা রেখাবচ্চনের মতো জটিল হয়ে ওঠেনি। বিচ্ছেদের পরে কিছু বছর মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল ঠিকই। কিন্তু, এখন চুটিয়ে ছবি করছেন তাঁরা। ভক্তেরাও খুশি। অন্তত, রিল লাইফে তাঁদের প্রেম পূর্ণতা পাচ্ছে দেখে।

ছিল গয়ে নয়না : এক সময়ে সবাই বলতে শুরু করেছিলেন, অনুষ্কা শর্মা না কি বিরাট কোহলির জন্য অপয়া! বিরাটের সেটা মনে হয়নি কোনও দিনই! কিন্তু, তাঁদের প্রেমও পূর্ণতা পেল না। কেরিয়ারের দোহাই দিয়ে বিয়ের ব্যাপারে সরে গেলেন অনুষ্কা। আর, প্রেম? সেটা থেকে যাচ্ছে কিংবদন্তি হয়েই!

তুমি যে আমার : সুচিত্রা সেন আর উত্তম কুমারের মধ্যে কি ভালবাসা ছিল? বলা কঠিন! তবে, তাঁদের রসায়ন যে ছিল খুব অন্য রকম, সেটা আর আলাদা করে না বললেও চলে! গুজবকে প্রাধান্য দিয়েই বলা যায়, পূর্ণ হয়নি তাঁদের প্রেম। যাই হোক, বাঙালির চির প্রিয় জুটি কি তাঁদের ছাড়া পূর্ণতা পায়?

ভাল লাগে : তাঁদের দুজনের যে পরস্পরকে ভাল লাগে, এ এখন আর গোপন কথা নয়। বাঙালির প্রিয় জুটির মধ্যে প্রায় কিংবদন্তি এখন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রেম। তাঁরা একসঙ্গে থাকতে পারেননি ঠিকই! তবে, অনেক বছর বাদে আবার এক সঙ্গে ছবি তো করছেন। তাই বা কম কী!

সরে সরে যায় : এক সময়ে তুমুল ভাবে কাছে এসেছিলেন তাঁরা। তার পর, সরেও গেলেন। কিন্তু, সেলুলয়েড হোক বা ভক্তরা- মনে ঠিক রয়ে গেল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় আর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের প্রেম। আবার তাঁদের কবে এক সঙ্গে সেলুলয়েডে দেখা যাবে, এখন কেবল তারই দিন গোনা!

Post A Comment: