১০ হাজার বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫২ মিটার!


১০ হাজার বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫২ মিটার!
১০ হাজার বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫২ মিটার!

বর্তমানে দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ে সোচ্চার পরিবেশবাদীরা। এমন পরিবেশদূষণ চলতে থাকলে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এবার চিন্তা করা যাক, ১০ হাজার বছর পর পৃথিবীর জলবায়ুর অবস্থা কেমন হতে পারে? গবেষকরা জানিয়েছে ভয়ংকর কথা। বর্তমান দূষণের হার অব্যাহত থাকলে এই দীর্ঘ সময় পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫২ মিটার। 
এনডিটিভি জানিয়েছে, ১০ হাজার বছর পরের পৃথিবীর অবস্থা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ২২ জন জলবায়ু গবেষক। এর নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক পিটার ক্লার্ক। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে গবেষকরা বলেন, আগামী কয়েকশ বছরে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নির্গমনের নেতিবাচক প্রভাব মানবসভ্যতার পুরোটাজুড়েই রয়ে যেতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭৫০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে ৫৮ হাজার কোটি টন বা ৫৮০ গিগাটন (এক গিগাটন = ১০০০ কেজি) কার্বন পরিবেশের মধ্যে আছে।

একে কার্বন ডাইঅক্সাইড করলে হবে দুই হাজার গিগাটন। প্রতিবছর ১০ গিগাটন করে কার্বন নিসৃত হচ্ছে। এই হার আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়। তাই চলতি শতাব্দীতেই পৃথিবীতে নির্গত হবে ৭০০ গিগাটন কার্বন। তখন পরিবেশে কার্বনের পরিমাণ হবে এক হাজার ২৮০ গিগাটন। এভাবে চললে পরে এর পরিমাণ দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ১২০ গিগাটন।  
গবেষকদের মতে, ১০ হাজার বছরের মধ্যেও যদি কোনো পরিবর্তন না আনা হয়, তাপমাত্রা গড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে। এতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়বে ৫২ মিটার বা ১৭০ ফুট! গ্রিনল্যান্ডে কোনো বরফই থাকবে না। শুধু দক্ষিণ মেরুর বরফ গলেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৪৫ মিটার। 
তবে এখানে একটি বড় বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে তা হলো, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব। গবেষকদের মতে, কয়েকশ বছরের মধ্যে পরিবেশ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হলে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু এর উল্টোটি ঘটলে, অর্থাৎ আগামী কয়েকশ বছর জ্বালানির ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে কার্বন নির্গমন কয়েক গুণ বেড়ে গেলে পৃথিবীর জলবায়ুতে বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই প্রভাব রয়ে যাবে কয়েক হাজার বছর। 
নিবন্ধে গবেষকরা বলেন, বর্তমানে ২১০০ সাল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের যে হিসাব সচরাচর দেখা যায়, তা ঠিক নয়। এটি হিসাব করতে গিয়ে আগের জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য ব্যবহার হয়েছে।

গবেষকদের মতে, পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত চিন্তা করা উচিত। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেন, এখনকার কার্বন ডাইঅক্সাইড পুরোপুরি শেষ হতে হাজার বছরের ওপর সময় লাগে।

আরো কয়েকশ বছর জ্বালানি ব্যব্হারে যে কার্বন পরিবেশে নির্গত হবে, তার নেতিবাচক প্রভাব কাটতে আরো দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই বলা যায়, আগামী কয়েক শতাব্দীতে মানুষের জ্বালানির ব্যবহারই নির্ধারণ করবে ১০ হাজার বছর পরের পৃথিবীর জলবায়ুর অবস্থা। 

Post A Comment: