মূলত ফাস্ট বলারদেরকেই ভালো খেলে মিরাজরা।

মূলত ফাস্ট বলারদেরকেই ভালো খেলে মিরাজরা।
মূলত ফাস্ট বলারদেরকেই ভালো খেলে মিরাজরা।
আলজারি জোসেপ এ পর্যন্ত যুব ওয়ানডে খেলেছেন ১০টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষেই ৬টি। এই ৬ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন ৮টি, ইকোনমি ৫.১৩, গড় ২৮.২৫।

যুব বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটা জোসেপের কাছে ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। সিরিজে তাঁর ওপর বেশ চড়াও হয়েছিলেন বাংলাদেশ যুবারা। ৩ ম্যাচে ১৯ ওভার বোলিং করে ১০৭ রান দিয়ে পেয়েছেন মাত্র দুটি উইকেট।

ভাবছেন, এই জোসেপটা কে? এত তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরার মানেই বা কী? ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেমিফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নামটা যে এল ঘুরে ফিরে।

এবার যুব বিশ্বকাপেও যথারীতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মূল শক্তি পেস বোলিং। আর এই বিভাগে ক্যারিবীয় যুবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জোসেপ। ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট। টুর্নামেন্টে অন্যতম গতিময় বোলারও তিনি। 

তা-ই নয়, বাংলাদেশ যুবাদের বিপক্ষে বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মধ্যে সবচেয়ে সফল বোলার তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে পেয়েছিলেন ৬ উইকেটও।

অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং, ম্যালকম মার্শাল, কোর্টনি ওয়ালশদের এই উত্তরসূরি যে বাংলাদেশকে ভাবাচ্ছে। তা ছাড়া প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই পেস বোলিং বনাম বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের কথা বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। কোচ মিজানুর রহমান বললেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ওদের সঙ্গে তিন ম্যাচের একটা সিরিজ খেলেছিলাম। জোসেপ নামে তাদের একটা গতিময় বোলার আছে। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভালোভাবেই জানে, সে কতটা জোরে বল করতে পারে। তবে আমরাও প্রস্তুত। শুধু সে নয়, অন্য বোলারদের জন্যও প্রস্তুত।’

সেমিফাইনালে ‘জোসেপ-জুজু’ যাতে পেয়ে না বসে, সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশ যুবাদের। মিজান তাই বললেন, ‘শুধু জোসেপ নয়, প্রস্তুতি নিচ্ছি সবার জন্যই। তবে তার প্রসঙ্গে কথা হচ্ছে এই কারণে, টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত সে সবচেয়ে গতিময় বোলার। ম্যাচে তো আর সে একা খেলবে না। কাজেই তার ওপর সব মনোযোগ থাকবে, তা নয়। প্রতিপক্ষের অন্য খেলোয়াড়দের দিকেও সমান নজর থাকবে। সবার ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আজও করা হবে।’

তবে মোক্ষম কথাটি বলেছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই জানালেন গতির বলই ভালো খেলতে পারেন তাঁরা, ‘আমাদের কাছে গতির বলই খেলতে ভালো লাগে। কম গতির বল খেললে মিস টাইমিংয়ের আশঙ্কা থাকে। বেশি গতির বোলারদের খেলতে আমরা সব সময়ই আত্মবিশ্বাসী থাকি। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলে এসেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছি। আমরা গত চারটা ম্যাচে খেলেছি, প্রতিপক্ষের ওই রকম গতির কোনো বোলার ছিল না। এই জন্য আমাদের ওপেনারদের সমস্যা হয়েছে? আশা করি কাল সবাই ভালো খেলবে।’

বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের ওই সিরিজে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই নয়, জোসেপকেও উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং? ভয় কীসের!

Post A Comment: