কমলাকে ব্যবহার করা যেতে পারে রুপ চর্চায়।



কমলাকে ব্যবহার করা যেতে পারে রুপ চর্চায়।
কমলাকে ব্যবহার করা যেতে পারে রুপ চর্চায়।

শীত চলে যাওয়ার এই সময়টায় ত্বকের যত্নে প্রয়োজন হয় বিশেষ পরিচর্যার। শুষ্ক ত্বক তো বটেই, তৈলাক্ত ত্বকও এ সময় হয়ে ওঠে প্রাণহীন। ত্বকের রংটা যেমনই হোক না কেন একটা কালচে আবরণ দেখা দেয় ত্বকে। মৌসুমি ফলের খোসার ব্যবহারেই এই সময় ত্বক পেতে পারে উজ্জ্বলতা। বাজারে এখন কমলার মৌসুম। আর এই সময় কমলার খোসা বা কমলার রস হতে পারে আপনার দৈনন্দিন রূপচর্চার উপকরণ। কীভাবে? জানালেন হারমোনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা।

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে কমলার খোসার রয়েছে অপরিসীম গুণাগুণ। ভেতর থেকে তেলকে আটকে রেখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে কমলার খোসা। কমলার খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এসিড৷ তাই এটা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। ত্বকের ধরন অনুযায়ী কমলার খোসা বাটার সঙ্গে কী কী মিশিয়ে ত্বকে লাগাবেন তা-ই জানালেন তিনি।

স্বাভাবিক ত্বকে আধা চা-চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ২ চা-চামচ তরল দুধ মিশিয়ে নিন। গুঁড়া দুধ হলে আধা চা-চামচ ব্যবহার করতে পারেন। এবার এর সঙ্গে পৌনে এক চা-চামচ মধু আর ১ টেবিল চামচ লাল আটা মিশিয়ে নিন।


শুষ্ক ত্বকে দুধের পরিবর্তে দুধের সর ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আধা চা-চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ১ চা-চামচ টকদই, ১ টেবিল চামচ আটা মিশিয়ে নিন। ত্বকের যত্নে যে মিশ্রণটিই ব্যবহার করুন না কেন তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি ত্বকে না রাখাই ভালো। স্বাভাবিক আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ১ দিন আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ২ দিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের মরা চামড়া তুলতেও অপরিহার্য কমলার খোসা। এ জন্য ১ টেবিল চামচ কমলার খোসা বাটার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ তরল দুধ এবং আধা চা-চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্র্যাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গোসলের আগে ত্বকের মরা চামড়া তুলতে যেকোনো ধরনের ত্বকের জন্য এই স্ক্র্যাবটি বেশ কার্যকর। এ ছাড়া যাঁদের ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত তাঁরা সপ্তাহে দুই দিন কমলার রসে পানি মিশিয়ে তুলা দিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। এটা ত্বকে কালচে পোড়া দাগ তুলতেও সাহায্য করবে।

সংরক্ষণ


রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে বছরজুড়েই কমলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য কমলা থেকে খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে রোদে শুকিয়ে মচমচে করে নিন। এবার মিক্সচারে ভালো করে গুঁড়ো করে বাতাস যাবে না এমন পাত্রে সংরক্ষণ করুন। খেয়াল রাখবেন, কমলার খোসার গুঁড়া যাতে কোনোভাবে পানির সংস্পর্শে না আসে। সাধারণত এই মিশ্রণ পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষ সতর্কতা


যাঁদের ত্বকে উচ্চমাত্রার অ্যালার্জি রয়েছে তাঁদের কমলার খোসা ত্বকের যত্নে ব্যবহার না করাই ভালো। এ ছাড়া কমলার খোসাবাটা বা কমলার রস কোনোটাই ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করবেন না, কারণ অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে কমলার রস ব্যবহারের ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Post A Comment: