ফ্রি উইন্ডোজ ১০-এর পেছনের খরচ



ফ্রি উইন্ডোজ ১০-এর পেছনের খরচ
ফ্রি উইন্ডোজ ১০-এর পেছনের খরচ

মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১০ ফ্রি-তে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিনামূল্য দেওয়া হয়েছে বলে কোনো কথা নেই। এই ফ্রি উইন্ডোজের পেছনে আসল খরচ তুলে ধরেছে মাইক্রোসফট। টেক জায়ান্ট উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ ব্যবহারকারীদের আপগ্রেড হয়ে উইন্ডোজ ১০ নিতে চাপ প্রয়োগ করছে। আগের দুটো উইন্ডোজ পয়সা দিয়ে চালাতে হয়। এগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বুঝে নেয় মাইক্রোসফট। এ খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
২০১৬-এর ফেব্রুয়ারির দিকে এই খরচ অনেক বেড়ে যায়। আরেকটি বিষয় হলো, উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ ডিসঅ্যাবল করলে তা আবারো ইনস্টল হয়ে যায়। এর পর পপ-আপ উইন্ডোজের মাধ্যমে বার বার আপগ্রেড করতে বলা হয়। আবার বেশ কিছু রহস্যময় ব্যবহারকারী পেয়েছে মাইক্রোসফট। যারা আগের দুটো উইন্ডোজ ঠিকই ব্যবহার করছেন। কিন্তু গোপনে উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড করে নিয়েছেন।
গোপনে কম্পিউটারের কোনো ফোল্ডারে তা ডাউনলোড করে রাখছেন। তবে উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোডের হার কমে আসায় মাইক্রোসফট ঘোষণা দিয়েছিল, উইন্ডোজ ১০ দিয়ে তাদের যুদ্ধ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। উইন্ডোজ আপডেটের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট ‘রেকমেন্ডেড’ স্ট্যাটাস দিয়ে আসার পদ্ধতি গ্রহণ করে। আর তা বেশ সমালোচিত হয়। এর অর্থ হলো, যারা কম্পিউটারে ডিফল্ট উইন্ডোজ আপডেট সেটিংস-এ পরিবর্তন আনেননি, তাদের কম্পিউটারে অটোমেটিক নতুন উইন্ডোজ আপডেট হবে। তাই যারা আগের উইন্ডোজ অর্থ খরচ করেই রাখতে চান তারা ইনস্টলেশন বাদ দিয়ে দেন।
কিন্তু বিষয়টা এতটা সোজা নয়। এ ছাড়া অনেকে অটো ইনস্টলেশন করে নিচ্ছেন মাইক্রোসফটের ‘ইইউএলএ (এন্ড ইউজার লাইসেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট)’-এর মাধ্যমে। এখানে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে আহ্বান জানানো হয়। অনেকেই এতে সাড়া দেন এবং উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল হতে থাকে। এটা বন্ধ করা যায় না। উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ মানুষ অর্থ দিয়ে কিনেছে। এদের দেখভালের দায়িত্ব মাইক্রোসফট ২০২০-এর জানুয়ারি এবং ২০২৩-এর জানুয়ারি পর্যন্ত করবে বলে ঘোষণা দেয়। তবে এখানে শর্ত রয়েছে যে, আপনি ইন্টেল, এএমডি এবং কোয়ালকম-এর ফিউচার জেনারেশন কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন না। অর্থাৎ পুরনো উইন্ডোজ রাখতে হলে কম্পিউটারও পুরনো থাকতে হবে।
আগের দুটো উইন্ডোজের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট যে নিয়মগুলো বেঁধে দিয়েছে-
১. কম্পিউটার আপগ্রেড করলে বা নতুন কিনলে সাপোর্ট দেবে না মাইক্রোসফট।
২. ডিসঅ্যাবল করা হলে তা আবারো ইনস্টল হবে।
৩. প্রতিবার অটোমেটি ইনস্টল হওয়ার চেষ্টায় প্রতিবার কম্পিউটার রিবুট হবে।
৪. উইন্ডোজ ১০ ডাউনলোড করতে হার্ডডিস্কের ৬ জিবি স্টোরেজ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। যদি সরানো হয় তবে আবারো ইনস্টল করতে হবে। উইন্ডোজ এবং আগের দুটো নিয়ে এত নীতিমালার ফলে আর্থিকভাবে মাইক্রোসফট কতটা লাভবান হচ্ছে তা সহজে বের করা যাচ্ছে না। বর্তমানে পৃথিবীর ৬৫ শতাংশ কম্পিউটারে উইন্ডোজ ৭ এবং ৮ ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর সাপোর্ট দিতে বেশ খরচ হচ্ছে মাইক্রোসফটের।
তাই এর পেছনে খরচও বাড়ছে ব্যবহারকারীর। যদিও প্রতিষ্ঠানটি নতুন উইন্ডোজ পছন্দ না হল পুরনোটায় ফিরে যাওয়া সুযোগ রেখেছে। কিন্তু তাতে ফিরে যেতেও নানা ঝামেলা রেখে দেওয়া হয়েছে। তাই উইন্ডোজ ১০ ইনস্টল করতে ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে ১ বিলিয়ন ইনস্টলেশনের সুখবর পেয়েছে তারা। তা ছাড়া উইন্ডোজ ৭ এবং ৮-এর খরচ এত বেড়েছে যে মানুষ এমনিতেই তা ব্যবহারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এতে আগের উইন্ডো চালানোর খরচ কমছে মাইক্রোসফটের। উইন্ডোজ ১০ কতটা ভালোমতো কাজ করছে তা মাইক্রোসফট আবারো বোঝাবে ব্যবহারকারীদের। তখন আরো কয়েক মিলিয়ন কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১০ চলে আসবে। আরো খরচ বাঁচবে প্রতিষ্ঠানটির। কাজেই উইন্ডোজ ১০-এর ফ্রি লঞ্চ বলতে আসলে কোনো কথা নেই।

Post A Comment: