ngladesh-vs-india

      একপাশে যাওয়া আসার ছোটখাটো মিছিল। খুব দ্রুত পেভিলিয়ানে ফিরেছিলো ধাওয়ান, কোহলি, রায়না। একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন যিনি সেই রোহিত শর্মার ব্যাটিং-দীপেও দমকা বাতাস লাগাল তাসকিন-ঝড়। কিন্তু নিভতে নিভতে নিভল না। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা সাকিব হাতে এসে পড়া বলটা রাখতে পারলেন না! রোহিত স্টিভ ওয়াহ নন। হলে হয়তো বলাই যেত, ‘ম্যাচটাই তো ফেলে দিলে বাছা!’


বিশের আশপাশে ফেরার কথা ছিল যাঁর, সেই রোহিত ব্যাটিংয়ে বিষ ছড়িয়ে ফিফটি পার করে সেঞ্চুরিই করে ফেলছিলেন প্রায়। ২৮ বলে ২১ করে ফেরার কথা যাঁর, সেই তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৮৩ করে ফিরলেন। চাপে হাঁসফাঁস করতে থাকা ভারতের ৫২ রানে চার উইকেট হারিয়ে আরও কোণঠাসা হওয়ার কথা ছিল। সেই তারাই চাপটা পুরো চালান করে দিল বাংলাদেশের ওপর। এই ক্যাচটাই শেষে হয়ে গেল ম্যাচের ফল নির্ধারক। ভারতের ৬ উইকেটে করা ১৬৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে করল ১২১। ম্যাচ হারল ৪৫ রানে।

৩২ বলে ৪৪ করা সাব্বিরই যা একটু লড়াই করলেন। বাংলাদেশের ইনিংসে বলার মতো আর কিছু নেই। এক বাক্যেই শেষ! এশিয়া কাপের শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। অথচ বৃষ্টি-শঙ্কা মাথায় নিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচটায় অন্য এক আনন্দের বর্ষণে ভেজার প্রতিশ্রুতিই ছিল।
সাকিব পরে বোলিংয়ে এসে যুবরাজ সিংয়ের উইকেটটি তুলে নিয়ে কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করেছেন বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু উল্টো বাংলাদেশের জন্য সেটিই পরে হয়ে গেছে ‘বর’-এ ‘শাপ’! যুবরাজের পর ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ বলে ৩১ করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া, যুবরাজ যেখানে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ব্যাটিংটা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন খুটখুট করে খেলে। ব্যাটিংয়েও সাকিব দলের বিপদ বাড়িয়েছেন ৮ বলে ৩ রান করে রান আউট হয়ে। বাংলাদেশের বহু স্মরণীয় দিনের নায়ক সাকিবের জন্য আজকের রাতটা যেন ভুলে যাওয়ার রাত!

অথচ সবকিছুই ছিল বাংলাদেশের মুঠোয়। আগের দুই ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে একাদশ ওভারে ফেরা তাসকিন তৃতীয় বলেই পেতে পারতেন উইকেটটি। প্রথম দুই বলে সজোরে ব্যাট চালিয়েও লাগাতে পারেনি রোহিত। টানা দুটি ডট বলে ভারতীয় ওপেনারকে চাপে ফেলার পুরস্কার প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। সাকিব ক্যাচ ফেলার পর হতাশায় মাথা নাড়লেন, তাসকিন তখনো জানতেন না, বড় হতাশা অপেক্ষা করছে আরও পরে। ওই ওভারের চতুর্থ বলেই চার, পঞ্চম বলে ছক্কা, ষষ্ঠ বলে আবার চার! তাসকিন কেন, বাংলাদেশ তখনো জানত না, আরও বড় ঝড় আসছে সামনে।

এই ক্যাচ ফেলাটা কত বড় ভূমিকা রেখেছে ভারতের ইনিংসে? প্রথম ৬৩ বলে ৫২। পরের ৫৭ বলে ভারত তুলল ১১৪। ওই ক্যাচের আগে রান রেট যেখানে ছয়ের নিচে, পরের ৫৭ বলে সেটি গেল ১২তে! জীবন ফিরে পাওয়ার পর রোহিত ২৫ বলে করলেন ৬২। প্রথম দশ ওভারে মাত্র চারটি চার মারা ভারত, পরের দশ ওভার মারল ১১টি চার আর পাঁচটি ছক্কা!

অথচ তাসকিনের করা ইনিংসের প্রথম বলটা থেকেই বাংলাদেশ কী দুর্দান্ত শুরুটাই না করেছিল। দ্বিতীয় ওভারে আল-আমিন স্টাম্প উপড়ে ফেললেন শিখর ধাওয়ানের। মুস্তাফিজের তৈরি করা চাপ থেকে মুক্তি পেতে কোহলি যেন আত্মসমর্পণই করলেন মাশরাফির করা পঞ্চম ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে। অষ্টম ওভারে রায়নাকে বোল্ড করে দিলেন পার্টটাইম স্পিনার মাহমুদউল্লাহ।
সবকিছু কেমন ভোজবাজির মতো বদলে যেতে থাকল একাদশ ওভারের তৃতীয় বলে রোহিত বেঁচে যাওয়ার পর। বদলে যাওয়ার ছবিটায় সবচেয়ে বড় চোখে বিঁধল—মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য! ভারতের বিপক্ষে এই প্রথম বোলিং করে উইকেট পেলেন না সেই আলোচিত তিন ওয়ানডের সিরিজে রেকর্ড ১৩ উইকেট নেওয়া এই পেসার!
ওই একটা ক্যাচ...ওই একটা ক্যাচ...!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ১৬৬/৬ (রোহিত ৮৩, পান্ডিয়া ৩১, যুবরাজ ১৫; আল আমিন ৩/৩৭, মাহমুদউল্লাহ ১/৯, সাকিব ১/১৫, মাশরাফি ১/৪০, তাসকিন ০/২২, মুস্তাফিজ ০/৪০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২১/৭ (সৌম্য ১১, মিঠুন ১, সাব্বির ৪৪, ইমরুল ১৪, সাকিব ৩, মুশফিক ১৬*, মাহমুদউল্লাহ ৭, মাশরাফি ০, তাসকিন ১৫*; নেহরা ৩/২৩, বুমরাহ ১/২৩, পান্ডিয়া ১/২৩, অশ্বিন ১/২৩, জাদেজা ০/২৫)
ফল: ভারত ৪৫ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: রোহিত শর্মা।

Post A Comment: