দূরতম গ্রহ নেপচুনের চেয়েও ২০ গুণ দূর দিয়ে ঘোরে সে। এত দূর দিয়ে যে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে গ্রহটার লেগে যেতে পারে ১০-২০ হাজার বছর। সূর্যের সাবেক নবম গ্রহ প্লুটোর বেলায় যা ছিল মাত্র ২৪৮ বছর। অধিকন্তু আকার-আকৃতিতেও খুব বড় নয়, আয়তনে ৫৭টা পৃথিবীর সমান হবে বড়জোর। ফলে ওই গ্রহটি ঠিক কোথায় রয়েছে, সেই কক্ষপথ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন কাজ। বহুদূরের স্বপ্ন যেন অনেকটাই হাতের মুঠোয়!

 

 মার্কিন বিজ্ঞানীরা নবম যে গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন, সৌরজগতের সেই তাত্ত্বিক গ্রহের সন্ধানে আরেক ধাপ অগ্রগতির কথা জানালেন ফরাসি বিজ্ঞানীরা। ফ্রান্সের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলছেন, গ্রহটির ঠিক কোথায় থাকতে পারেন-এ নিয়ে অংক কষেছেন তারা। অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নালে এক প্রবন্ধে তারা দাবি করেছেন, গ্রহটি সন্ধানের অঞ্চল তারা শতকরা ৫০ ভাগে নামিয়ে এনেছেন।

সৌরজগতের সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুন। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ৪৩০ কোটি কিলোমিটার। তার থেকেও ২০ গুণ দূরের কক্ষপথ দিয়ে একটি গ্রহ সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে-২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এমন দাবি তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যোতির্বিজ্ঞানী কনস্টান্টিন বাটিগিন এবং মাইক ব্রাউন। তারা বলেন, বহুদূর দিয়ে ঘোরার কারণে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ১০-২০ হাজার বছর লেগে যাতে পারে ওই গ্রহের। সূর্যের সাবেক নবম গ্রহ প্লুটোর বেলায় যা ছিল মাত্র ২৪৮ বছর।


মাইক ব্রাউন ও কনস্টান্টিন বাটিগিন, দুই গ্রহবিজ্ঞানী। ছবি : ক্যালটেক

একে তো অনেক দূর দিয়ে ঘোরে, দুই. পৃথিবীর চেয়ে সে বিশাল বড় কোনো গ্রহ নয়, যেমন বড় বৃহস্পতি। এই গ্রহের ভেতর ১৩২১টা পৃথিবী এঁটে যাবে, নেপচুনে ধরবে মাত্র ৫৭টা পৃথিবী। ফলে ওই গ্রহটি ঠিক কোথায় রয়েছে, সেই কক্ষপথ খুঁজে বের করা বেশ কঠিন কাজ। ফরাসি বিজ্ঞানীরা সেই কাজটিই অর্ধেক সহজ করার দাবি তুললেন। শনিগ্রহকে ঘুরপাক খাওয়া নাসার মহাকাশযান ক্যাসিনির তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, কোনোরূপ সঙ্গতি খুঁজে না পাওয়ায় দুই ডজন এলাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। গবেষক দলের অন্যতম বিজ্ঞানী জ্যাক লাস্কার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘নবম গ্রহটির অস্তিত্বের ব্যাপারে আমাদের এই গবেষণা আরেকধাপ দৃঢ়তা দিল।’

প্যারিস অবজারভেটরির এই জ্যোতির্বিদ আরও বলেন, ‘গ্রহটিকে খুঁজে পেতে এখন চারপাশের সবখানেই চোখ রাখার দরকার নেই। আমরা কাজটা পঞ্চাশ ভাগ কমিয়ে ফেলেছি।’

জ্যাক লাস্কার। ফ্রান্সের প্যারিস অবজারভেটরির এই জ্যোতির্বিদ। ছবি : আইএমসিসিই

ক্যাসিনি তার অভিযান শেষ করবে ২০২০ সালে। ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট অফ সিলেশ্চিয়াল মেকানিকস অ্যান্ড কম্পিউটিং এফিমেরিডসের (্আএমসিসিই) বিজ্ঞানী লাস্কার বলেন, যদি মিশনটির আয়ু বেশ কিছু বছর বাড়ানো হয়, তাহলে নতুন গ্রহটি খোঁজার খাটুনি আরও কমে আসতে পারে।

নেপচুনের পরে কুইপার বেল্টের বস্তুগুলো যেভাবে অবস্থান বদলাচ্ছে, সেসবের গাণিতিক বিশ্লেষণ শেষে নবম গ্রহের অস্তিত্বের অনুমানের ব্যাপারে নিজেদের দৃঢ়বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যদি সতিই হয়, প্লুটোর প্রাক্তন-পদবী কেড়ে নেওয়া নতুন গ্রহটির ভর হবে পৃথিবীর চেয়ে ১০ গুণ।

লাস্কার ও তার সতীর্থরা বলছেন, গ্রহটা ভারসাম্যহীনভাবে, বর্ধিত উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। আর এতদূর দিয়ে ঘোরে যে, অন্য কোনো গ্রহের ওপর তার প্রভাবও যতকিঞ্চিত। ফলে তার অস্তিত্ব থাকলেও তার সাক্ষাৎ পেতে কেটে যেতে পারে বছরের পর বছর। এমনকি অনেক বিজ্ঞানী সংশয় পোষণ করছেন, গ্রহটির অস্তিত্ব আদৌ প্রমাণ করা সম্ভব হবে কিনা।

তথ্যঋণ : দ্য গার্ডিয়ান।

Post A Comment: