কার্ড জালিয়াতি করে কেনেকাটা!!!

কার্ড জালিয়াতি করে কেনেকাটা!!!
কার্ড জালিয়াতি করে কেনেকাটা!!!
ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ডের এক গ্রাহক দাবি করেছেন, কার্ড তার কাছে থাকার মধ্যেই একটি দোকানে তার কার্ডের নামে ২৫ হাজার টাকার কেনাকাটা হয়ে গেছে।
গ্রাহকের কাছে অভিযোগটি শোনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকটির হেড অফ কমিউনিকেশন্স জারা জাবীন মাহমুদ।
সম্প্রতি ঢাকায় তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড তৈরির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা তুলে নিয়েছিল একটি জালিয়াত চক্র।
ওই চক্রের সন্দেহভাজন সদস্য এক বিদেশি এবং তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে পুলিশ রোববার গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ।  
তার মধ্যেই কার্ডে কেনাকাটায় জালিয়াতির খপ্পরে পড়ার অভিযোগ করেছেন পেশাদার অলোকচিত্রী প্রীত রেজা।
শনিবার রাতে তার ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড দিয়ে ফেয়ার কানেকশন নামে একটি দোকান থেকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকার কেনাকাটা করা হয়; যদিও সেখানে তিনি যাননি এবং কার্ডটিও সঙ্গে ছিল বলে তার দাবি।   
প্রীত রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত ৮টা ৫ মিনিটে আমার মোবাইলে একটা এসএমএস আসে, তাতে লেখা আমি ফেয়ার কানেকশন নামে একটি দোকান থেকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা কেনাকাটা করেছি।
“আমি প্রথমে মনে করেছিলাম যে আমার ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ডটা হয়ত হারিয়ে ফেলেছি এবং কেউ সেটা ব্যবহার করে কেনাকাটা করেছে। কিন্তু খুঁজতেই দেখি কার্ড আমার মানি ব্যাগে। তখন আমি বুঝতে পারি, এটা জালিয়াতি।”
বিষয়টি ব্র্যাক ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে জানানোর পর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ‘কিছুই করার নেই’ বলে জানানো হয় বলে দাবি করেন প্রীত রেজা। তিনি বলেন, ফেয়ার কানেকশনের ঠিকানা চেয়েও পাননি তিনি।
সোমবার ব্র্যাক ব্যাংকের শাখায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছেন প্রীত রেজা।
তার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন্স জারা জাবীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দুপুর থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি।
“ভুক্তভোগীর ফেইসবুক একাউন্ট থেকে অভিযোগটি পেয়ে আমার সাথে সাথে সেটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।”
ব্র্যাক ব্যাংকের তাৎক্ষণিক সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে ফেইসবুকে প্রীত রেজার লেখার প্রেক্ষাপটে জারা জাবীন বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবহারে যদি তিনি কষ্ট পান সে ব্যাপারে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”
..
..
মাইক্রোচিপের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ফাইবার এট হোম এর চিফ স্ট্যাটিজি অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এভাবে টাকা চুরি করতে হলে প্রথমে কোনো একটি কার্ডের সমস্ত তথ্য নিতে হয়।
এ জন্য দরকার হয় একটি স্ক্যানার, যাকে স্কিমিং ডিভাইস বলা হয়। এটিএম মেশিনে কার্ড রিডারের কাছাকাছি কোথাও ক্ষুদ্র এই স্ক্যানার বসাতে হয়। কোনো কার্ড মেশিনে ঢোকানো হলে তার ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থেকে গ্রাহকের সমস্ত তথ্য ওই স্ক্যানার কপি করে ফেলে। পরে স্ক্যানার থেকে পাওয়া তথ্য একই ধরনের চিপ সম্বলিত আরেকটি ফাঁকা কার্ডে ভরে দিলেই তৈরি হয়ে যায় ক্লোন।
এরপর ক্লোন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করা যায়, আর এটিএম থেকে টাকা তুলতে হলে জালিয়াতদের দরকার হয় পিন নম্বর। ওই পিন চুরির জন্য এটিএম মেশিনের পাশে অতিক্ষুদ্র ক্যামেরা বসায় জালিয়াত চক্র।
তিনটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে এই ধরনের স্কিমিং মেশিন বসানো হয়েছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, তবে তার মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের নাম ছিল না।  
প্রীত রেজা বলেন, “আমি ব্র্যাক ব্যাংকের বনানী এটিএম বুথে আমার কার্ডটি ব্যবহার করে থাকি, এছাড়া স্বপ্ন, আড়ং অথবা আগোরায় আমার কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করি। এর বাইরে এ কার্ড আমি কোথাও ব্যবহার করি না।”

Post A Comment: