অবশেষে সেবিলায় সাথে মধুর বদলা নিলো বার্সালোনা।


অবশেষে সেবিলায় সাথে মধুর বদলা নিলো বার্সালোনা।
অবশেষে সেবিলায় সাথে মধুর বদলা নিলো বার্সালোনা।

লা লিগায় টানা ৩৪ জয়। অপরাজিত থাকার স্প্যানিশ রেকর্ডের অংশীদার, কিন্তু তাতেও লুইস এনরিকের কিছুই এসে যায় না। লিগ শিরোপা জয় ছাড়া বার্সেলোনা কোচের যে আর কোনো কিছুতেই আনন্দ নেই।

গত আট মৌসুমে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপাটা দৃষ্টির নাগালেই আছে বার্সেলোনার। গত রাতে সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে লা লিগায় দুই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো ও রিয়ালের চেয়ে যথাক্রমে ৮ ও ১২ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে তারা। শিরোপার স্বপ্ন তো দেখাই যায়!

সেভিয়ার বিপক্ষে গতকাল ছিল বার্সেলোনার বদলা নেওয়ার ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচটা সহজ হয়নি মেসির দলের জন্য। প্রথমেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ায় সমর্থকেরা পড়ে গিয়েছিলেন শঙ্কার মধ্যে। তবে কী সেভিয়ার বিপক্ষে অক্টোবর-দুঃখেরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে?

শঙ্কার মধ্যেই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান লিওনেল মেসি। দারুণ এক ফ্রি-কিকে সমতা ফেরানোর পর, জেরার্ড পিকের গোলে বদলা নেওয়ার মিশনটা দারুণভাবেই সম্পন্ন হয় বার্সেলোনার। ম্যাচের ২০ মিনিটের সময় সেভিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভিতালো।

বার্সেলোনার খেলা যে খুব ভালো হয়েছে, এ কথা কিন্তু বলা যাবে না। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে ছয়টি প্রতিযোগিতায় ৪৬টি ম্যাচ খেলা বার্সার খেলায় কাল ক্লান্তির ছাপটা ছিল স্পষ্টই। কিন্তু তারপরেও সেভিয়ার বিপক্ষে প্রথম থেকেই প্রাধান্যটা ধরে রেখেছিল তারা। খেলার ১৩ মিনিটের মাথায় পরপর দুবার ক্রসবার-দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ালে এগিয়ে যেতে পারত তারা। প্রথমে মেসির কর্নার সেভিয়া গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে লাগে। 
পরের বার ফিরতি বলে সুয়ারেজের শটেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ওই ক্রসবারই।

ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় খেলার ধারার বিপরীতেই গোল খেয়ে যায় বার্সেলোনা। একটি অফসাইড ফাঁদ ভেঙে মাইকেল-ক্রন ডেহলি বল বাড়ান বেনোইতকে। বেনোইত বলটি ভিতালোকে দিলে তিনি কোনাকুনি শটে বার্সা গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে পরাস্ত করেন।

খেলায় ফিরতে অবশ্য খুব একটা বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনা। ৩১ মিনিটেই মেসির ফ্রিকিকে সমতায় ফেরে তারা। সেভিয়ার আদিল রামি ডি বক্সের বাইরে সুয়ারেজকে ফেলে দিলে রেফারি ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান। মেসি বাঁ পায়ের চমৎকার এক শটে তা পরিণত করেন গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। মেসি-সুয়ারেজ নিজেদের মধ্যে পাস খেললেও গোলটি করেন পিকে। মেসির কাছ থেকে বল নিয়ে সুয়ারেজ সেভিয়া ডিফেন্ডারদের মধ্য দিয়ে বলটি সুবিধাজনক জায়গায় ঠেলে দিলে, তা থেকে গোল করেন পিকে।

৫১ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে আনতে পারত সেভিয়া। কিন্তু এ যাত্রায় বার্সেলোনার ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ব্রাভো। গামেইরোর শটটি তিনি ফিরিয়ে দেন দারুণ দক্ষতায়। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেজ। নেইমার ব্যর্থ হন খেলার একেবারে অন্তিম মুহূর্তে। ব্যবধান না বাড়লেও শেষ পর্যন্ত জয়ে পুরো পয়েন্ট পাওয়ার স্বস্তিটাই ছিল বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় অর্জন।

ম্যাচ শেষে ৩৪ ম্যাচে দলের অপরাজিত থাকার কথাটি মনে করিয়ে দিতেই অকপট এনরিকে, ‘দেখুন, এসব রেকর্ড আমার মধ্যে কোনো আলোড়ন তৈরি করে না। এসব নিয়ে আমি ভাবিও না। এসব রেকর্ড আমার ভালো লাগে তখনই, যখন আমরা শিরোপা জিতি। শিরোপা না জিততে পারলে এসব রেকর্ডের কোনো মূল্য নেই।’


তবে কালকের জয়ে শিরোপার লড়াইটা অনেকটা সহজ হয়ে যাওয়াতে স্বস্তি কিন্তু ছিল এনরিকের কণ্ঠে, ‘মৌসুমের প্রথম দিন থেকেই আমরা শিরোপার কথা বলেছি, শিরোপার স্বপ্ন দেখেছি। এটাকেই মূল লক্ষ্য করেছিলাম। এখন আমরা শিরোপা জয়ের পথে অনেকটাই ভালো অবস্থানে আছি। এখন কেবল আমাদের প্রয়োজনীয় পয়েন্টগুলো তুলে নিতে হবে।’ 

Post A Comment: