ঢাকা: যারা পরিবারে নতুন অতিথি আনার কথা ভাবছেন, বিষণ্নতাসহ অন্য মানসিক রোগ এড়াতে তাদের শুরুতেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে ও পরে বিষণ্নতা, উদ্বিগ্নতাসহ অন্যান্য মানসিক রোগ হওয়ার ঝুঁকি পুরুষের ক্ষেত্রে কম নয়। বরং কখনও কখনও একই।

মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ডা. লায়না লিচ ৪৩টি আলাদা আলাদা গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, সন্তান জন্মানোর আগে ও পরে ১০জন পুরুষের মধ্যে একজন পুরুষ উদ্বিগ্নতা এবং বিষণ্নতাসহ অন্য মানসিক সমস্যায় ভোগেন। যা নারীর তুলনায় অর্ধেক।

দ্যা অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) সেন্টার ফর এজিং, হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের এই গবেষক আরও বলেন, সাধারণত পুরুষরা এ ধরনের সমস্যা উপলব্ধি করতে পারেন না। কারণ সন্তান জন্ম বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন মা। আর গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নতুন সন্তান আসার সময় ২০ শতাংশ দম্পতি উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতায় ভোগেন। অন্য গবেষণার ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেলেও, গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে সমস্যাগুলো জটিল আকার নেয়-তা সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

অনেক দম্পতির ক্ষেত্রেই পরিবারে নতুন অতিথি আসার বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম অবস্থায় ‘নার্ভাস’ হওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, উদ্বিগ্নতা ও বিষণ্নতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলে, যোগ করেন লিচ।

এক্ষেত্রে লক্ষণগুলো হলো- সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়, সামান্য বিষয়ে বিরক্ত হয়ে যাওয়া বা সার্বিক বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্ত‍া হওয়া। শারীরিক লক্ষণগুলো হলো- হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘেমে যাওয়া, ঘুম কমে যাওয়া ও ক্ষুধা কমে যাওয়া।

লিচ’র মতে, মানসিক সমস্যা এড়াতে দম্পতিদের প্রথমের চিকিৎসক এবং প্রবীণদের সঙ্গে আলোচনা করে সচেতন হওয়া দরকার। মা গর্ভবতী বিষয়টি বুঝতে পারার পর থেকেই সব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।

পারস্পারিক সহযোগিতা ও আর্থিক প্রস্তুতি মানসিক সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিবারে নতুন অতিথি আসার আগে ও পরে কেবল বাবা-মাকে প্রস্তুত থাকলে চলবে না, যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে এ প্রস্তুতি সবার।

Post A Comment: