দুরন্তগতির একটি অদ্ভুত যান তৈরি করে সম্প্রতি সাড়া ফেলে দিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। তারা যে জিনিসটি বানিয়েছেন তাকে আস্ত একটা ট্রেনও বলা যেতে পারে, আবার এর শারীরিক গঠন এবং উচ্চগতিসম্পন্ন হওয়ায় একে প্লেন বললেও ভুল হবে না। ফলে যানটিকে একবাক্যে প্লেন-ট্রেন বলাটাই বোধ হয় সঠিক কাজ হবে।

জাপানের নাম বহুদিন আগে থেকেই পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে আছে জাপানীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার জন্য। রোবট বানানো থেকে শুরু করে বিদ্যুৎচালিত দ্রুতগতিসম্পন্ন রেলগাড়ি নির্মাণ করে এরা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে অনেক আগেই। তবু থামতে চান না এ দেশের বিজ্ঞানীরা। গতি আরও গতি, আরও আরও গতি বোধ হয় জাপানিদের খুব পছন্দের। সম্প্রতি তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন প্লেন-ট্রেন বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞানী উসুকু সুগাহারা। এখন দেখা যাক উসুকু সুগাহারার দল কেমন প্লেন-ট্রেন বানিয়েছেন। এমনিতেই নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে অদ্ভুতদর্শন এই যানটির গতিবেগ সক্ষমতার কথা।

প্লেন-ট্রেন আসলে অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন একটি ট্রেন। ট্রেনের নিচে বসানো রয়েছে ধাতবপাতের একজোড়া লাইন। আর পাঁচটা ট্রেনে যেমনটা থাকে আর কি। মজার ব্যাপার হলো এই ট্রেনে দুদিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্লেনের মতোই দুটো সুবিস্তৃত ডানা। রয়েছে প্রপেলারও। নির্মাণকারী বিজ্ঞানীদের দাবি, ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০০ মাইলের কাছাকাছি এবং এটি যখন গতি বাড়িয়ে চলতে শুরু করে দেবে, তখন এটি মাটির সংস্পর্শে থাকবে না। লাইন থেকে কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে দুই ডানায় ভর করে হাওয়ায় গতিতে এগাতে থাকবে। মাটির তেল ছেড়ে বাতাসে ভেসে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই ট্রেনটির সঙ্গে প্লেন শব্দটি জুড়ে দেওয়া। আর ডানা এবং প্রপেলার যে আছে তা তো আগেই বলা হয়েছে। এদিকে, একটু সমস্যায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা এমনতর উচ্চগতিসম্পন্ন প্লেন-ট্রেন বানিয়ে। তারা জানিয়েছেন সর্বোচ্চ গতিতে চলার সময় এতে অসম্ভব ঝাঁকুনি তৈরি হচ্ছে। এর কারণ হিসাবে তাদের বক্তব্য, যেহেতু যানটিতে দুটি লম্বা ডানা রয়েছে, তীব্র গতিপ্রাপ্ত হলেই ডানা দুটি ভয়ঙ্করভাবে কাঁপছে। এমনকি ট্রেনের নিচের অংশটিও মাটির সঙ্গে সমান্তরাল দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারছে না। এতে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ জন্য এখনই দুশ্চিন্তা করতে চাইছেন না বিজ্ঞানীরা। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই ত্রুটিও মেরামত করা যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

Post A Comment: