x

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা: মনোকথা আপনাদের ‍পাতা। আপনার মনস্তাত্ত্বিক নানা সমস্যা সমাধানে আমরা রয়েছি আপনার পাশে। সমস্যা জানিয়ে জেনে নিন সম্ভাব্য সমাধান। মনোকথার এক পাঠক জানিয়েছেন তার সমস্যার কথা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সমাধান জানানো হলো।

আপনার সমস্যা
আমার সমস্যা হলো নিজের প্রতি বিশ্বাস কম। পরিবারের মানুষ ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে ভয় লাগে। নিজেকে ছোট মনে হয়। কথা বললেই মনে হয় আমি ভুল বলছি। আমার বয়স ২২। অবিবাহিত। আমি এইচএসসি পড়েছি হোস্টেলে থেকে। ওখানে সবাই আমাকে বোকা বলতো। এখোনো বলে। আমি সব কিছুতেই অপরের উপর নির্ভর করি। মানসিক ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয়। খুব রাগ ওঠে, কি ‍ওষুধ খাবো। আমি কি করব।

আমাদের সমাধান
চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনি হীনমন্যতায় ভুগছেন। শুধু আপনি না, বহু মানুষ আজ হীনমন্যতায় আক্রান্ত। এর প্রথম লক্ষণ হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। নিজের প্রতি যেহেতু আস্থা নেই, তাই সহজেই অন্যদের ভয় পাওয়া। আর সেটা অপরিচিত হলে তো কথাই নেই। মিশতে গেলেই সব গোলমাল হয়ে যায়। আবার সে কারণেই পরনির্ভর বোধ তৈরি হয়। নিজেকে লবঙ্গ লতিকা মনে হয়।

এর ফলে তৈরি হয় সীমাহীন ক্ষোভ, নিজের ও অন্যদের প্রতি। এই পুরোটাই একটা দূষিত চক্র। আপনি নিজেকে বল‍ুন, আমি একটা নেতিবাচক চক্রবুহ্যে ফেঁসে গেছি। তাই এমনটা হচ্ছে। এরপর প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারাদিনে যত কাজ করেছেন তার মধ্যে দুইটা ভালো কাজের জন্য আপনি নিজেকে ধন্যবাদ দিন।

আয়নায় নিজের চোখে চোখ রেখে বলুন ‘নানা কারণে আমি নেতিবাচক চক্রে আটকে পড়েছিলাম। আমি সেটা জানি। আমি আত্মবিশ্বাসী এখন থেকে আমি নিজেকে বদলাবো।’

নিজেকে বদলানোর ধাপ:
•    কি কি নিজের মধ্যে বদলাতে চান তার একটা তালিকা তৈরি কর‍ুন।
•    এবার অপশনগুলি খুঁজে দেখুন কীভাবে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
•    এর জন্য কোন কোন নেতিবাচক অনুভূতি দায়ী, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
•    এই অনুভূতির বদলে কি কি ইতিবাচক অনুভূতি চান তা নির্ধারণ করুন।
•    সেই ইতিবাচক অনুভূতি কীভাবে পাবেন, সেই অপশনগুলো খেয়াল করুন।
•    মানুষ যেকোনো সময় থেকে পরির্বতিত হতে পারে, তাই নিজেকে বাহাবা দিন, আপনিও পরিবর্তন চান।

Post A Comment: