গ্যালাক্সি নোট ৫ বনাম এলজি ভি১০: কোনটি কেনা উচিৎ



গ্যালাক্সি নোট ৫ বনাম এলজি ভি১০: কোনটি কেনা উচিৎ

যদি আপনাকে বলা হয় যে একটা ভাল্লুক এবং হাঙ্গরের লড়াইয়ে কে জিতবে তাহলে এই অসম লড়াই সম্পর্কে কোন কিছু মন্তব্য করাটা আপনার পক্ষে কষ্টকর কেননা তুলনা করবেন কীভাবে? কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় বর্তমানে সেরা দুটি ডিভাইসের মধ্যে তুলনা করে বলতে কোনটি এগিয়ে থাকবে তাহলে নিশ্চয়ই আপনি সহজেই কিছু দিক বিবেচনা করে একটি সীদ্ধান্তে সহজেই পৌছাতে পারবেন, তাই না? আর আজ তাই আমি আবারও এরকম একটা তুলনামূলক রিভিউ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলাম। আজকে তুলনা করব স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ এবং এলজি ভি১০ ডিভাইস দুটির মধ্যে। চলুন, দেখি কোনটি এগিয়ে থাকে, কোনটি কেনা উচিৎ! 

বিল্ড কোয়ালিটি 

খেয়াল করলে দেখবেন পূর্বের গ্যালাক্সি নোট ডিভাইসগুলোতে প্ল্যাস্টিক ফিনিশ বেশি ছিল যেখানে গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটি বেশ স্লিক এবং স্ট্যাইলিশও বটে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম এবং গরিলা গ্লাসের কম্বিনেশন এবং পেছন রাখা হয়েছে গোলাকার এজ - সব মিলিয়ে ডিভাইসটিকে চমৎকার দেখায় এবং দেখতে বাস্তবের চাইতেও বেশ হালকা লাগে দেখতে।
অন্যদিকে এলজির ভি১০ স্মার্টফোনটিও দেখতে বেশ আকর্ষনিয় কেননা ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইলনেস স্টিলের এজ এবং ডিভাইসটির স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৭০.৮ শতাংশ। তবে এর পেছনের অংশে পলিকার্বনেট ব্যবহার করার ফলে গ্যালাক্সি নোট ৫ এর মেটাল স্মুথ ফিনিশিং থেকে স্মার্টফোনটি কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। 
শুধু যে ডিজাইনের দিকেই এক্ষেত্রে স্যামসাং এগিয়ে আছে তাই নয় বরং বাড়তি সংযোজন হিসেবে এতে রয়েছে স্যামসাং-এর স্টাইলাস বা এস পেন যা একজন ব্যবহারকারীকে বেশ সুবিধা প্রদান করে থাকে। 
ফলাফল - স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ এগিয়ে থাকবে এক্ষেত্রে। 

ডিসপ্লে 

গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি ৫.৭ ইঞ্চি আকারের কিউএইচডি রেজ্যুলেশন সমৃদ্ধ সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে ইউনিট। ২,৫৬০x১,৪৪০ পিক্সেল রেজ্যুলেশন সমৃদ্ধ স্মার্টফোনটির পিপিআই ৫১৮ হওয়ায় আপনি ডিভাইসটি থেকে চমৎকার ভ্যিউয়িং এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। বলা হয়ে থাকে স্মার্টফোনের মধ্যে এপর্যন্ত যতগুলো ভালো ডিসপ্লে প্যানেল তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে এটি একটি। 
অন্যদিকে এলজি ভি১০ এর ডিসপ্লে ইউনিটও কিন্তু বেশ ভালোই। একই রেজ্যুলেশন এবং একই আকারের ডিসপ্লে প্যানেল থাকার পরেও ডিসপ্লে প্যানেলের দিক থেকে ডিভাইসটি পিছিয়ে থাকবে কেননা এতে ব্যবহার করা হয়েছে আইপিএস এলসিডি প্রযুক্তি যেখানে গ্যালাক্সি নোট ৫-এ ব্যবহার করা হয়েছে সুপার অ্যামোলেড। তবে এলজি এই ডিভাইসটিতে যুক্ত করেছে একটি সেকেন্ড স্ক্রিনের যা মূল ডিসপ্লে প্যানেলের একেবারে উপরেই অবস্থিত এবং নানা রকম শর্টকাট দ্রুত এক্সেস করার জন্য এই স্ক্রিনটি বেশ কাজের হতে পারত। তবে সমস্যা হচ্ছে এর অবস্থান একেবারে উপরে হওয়ায় যারা এক হাতে স্মার্টফোন ব্যবহার করে অভ্যস্ত তাদের জন্য এটি ব্যবহার করাটা কিছুটা বিরক্তিকরই হবে বলা চলে। 
ফলাফল - স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ অবশ্যই। 

প্রসেসর এবং স্টোরেজ 

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি কোয়াড কোর এক্সিনোজ ৭৪২০ প্রসেসর যার গতি ২.১ গিগাহার্জ। এছাড়াও মাল্টিটাস্কিং সুবিধার জন্য ডিভাইসটিতে যুক্ত করা হয়েছে ৪গিগাবাইট র‍্যাম। ডিভাইসটির মোট দুটি ভ্যারিয়েন্ট আপনি বাজারে পাবেন, একটি ৩২ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ ভার্সন এবং অন্যটি ৬৪ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ ভার্সন। আমার মতে এই ডিভাইসটি কিনলে একেবারে ৬৪ গিগাবাইটের ভ্যারিয়েন্টটাই কেনা উচিৎ কেননা এতে কোন মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট নেই। 
অপরদিকে এলজি ভি১০ ডিভাইসটিতে রয়েছে ১.৮২ গিগাহার্জ গতি বিশিষ্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮ হেক্সা কোর প্রসেসর এবং অ্যাড্রিনো ৪১৮ জিপিইউ। শুধু তাই নয়, এই ডিভাইসটিতেও স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫-এর মত রয়েছে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম। এলজি ভি১০ ডিভাইসটিতে আপনি পাবেন ৬৪ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ তবে হ্যাঁ, এতে একটি মাইক্রোএসডি কার্ড স্লটও রয়েছে। 
ফলাফল - স্টোরেজের দিক থেকে চিন্তা করলে এলজি ভি১০ এগিয়ে থাকবে  কিন্তু আপনি যদি গতি বা পারফর্মেন্সের কথা চিন্তা করেন তবে অবশ্যই নোট ৫ এগিয়ে থাকছে এক্ষেত্রেও। 

ক্যামেরা 

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা ইউনিট এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার। মূল অর্থাৎ রিয়ার ক্যামেরাতে আপনি ম্যানুয়াল কনট্রোল অপশনটি পাবেন তবে অনেক ব্যবহারকারীদের মতেই এর কালার রিপ্রোডাকশন কিছুটা আর্টিফিশিয়াল মনে হতে পারে মাঝে মাঝে।
এলজি ভি১০ ডিভাইসটিতেও রয়েছে একটি ১৬ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার। তবে, সামনের ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাটি আউটপুট দুটি লেন্সের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে যাতে করে আপনি ফোকাল দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করতে পারেন। পেছনের ক্যামেরাটি দিয়ে আপনি ৬০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ৪কে ভিডিও ধারণ করতে পারবেন এবং এতে কিছু বাড়তি সুবিধা আছে, যেমন ধরুন - বাতাসের নয়েজ ক্যান্সেলেশন ফিচার। 
ফলাফল - ক্যামেরার দিক থেকে অবশ্যই এলজি ভি১০ ডিভাইসটি এগিয়ে থাকবে। তাই আপনি যদি আপনার স্মার্টফোন দিয়ে বেশ ভালো পরিমাণে ছবি তুলে থাকেন তবে অবশ্যই এটি আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ ডিভাইস। 

সফটওয়্যার

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিতে প্রাথমিক ভাবে দেয়া থাকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১.১ ললিপপ ভার্সনটি তবে ডিভাইসটি খুব শীঘ্রই মার্শম্যালো আপডেট পেতে যাচ্ছে। পূর্বে অনেকেই স্যামসাং এর টাচউইজ এবং বিভিন্ন রকম ব্লটওয়্যার সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করলেও এবার আর সেই সুযোগ পাবেন না কেননা প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইস থেকে প্রায় সকল ব্লটওয়্যারই মুছে দিয়েছে এবং এর টাচউইজ ইন্টারফেসটিও যথেষ্ট মোডিফাই করেছে। 
এলজি ভি১০ ডিভাইসটিতেও রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ ৫.১.১ এবং গত বছরের মধ্যে মার্শম্যালো আপডেট দেয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সে কথা রাখতে পারেনি এবং এখন পর্যন্তও কোন আপডেট নেই। 
ফলাফল - এগিয়ে থাকছে গ্যালাক্সি নোট ৫।

ব্যাটারি 

দুটি স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা হয়েছে ৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির। কিন্তু যেহেতু স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিতে রয়েছে বেশি ব্যাটারি এফিসিয়েন্ট প্রসেসর সেক্ষেত্রে একই ব্যাটারি ক্ষমতা হওয়ার পরেও দৈনন্দিন জীবনে গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটি কিছুটা হলেও বেশি সাপোর্ট প্রদান করবে। 
ফলাফল - এগিয়ে থাকছে স্যামসাং গ্যলাক্সি এস৫। 

তাহলে দেখাই যাচ্ছে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এলজি ভি১০ স্মার্টফোনটি থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৫ ডিভাইসটিই এগিয়ে থাকবে। তবে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি, যদি আপনার প্রায়োরিটি হয়ে থাকে ক্যামেরা শুধুমাত্র তাহলে এলজি ভি১০ হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ স্মার্টফোন। 

Post A Comment: