প্রাপ্তবয়স্ক সবারই বিষণ্ণতা পরীক্ষা করা উচিত


প্রাপ্তবয়স্ক সবারই বিষণ্ণতা পরীক্ষা করা উচিত
প্রাপ্তবয়স্ক সবারই বিষণ্ণতা পরীক্ষা করা উচিত

দেহের বিভিন্ন রোগের মতোই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একটি রোগ। আর অন্য রোগের মতো এ মানসিক রোগটিও পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বিষণ্ণতা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। 

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ। অনেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হলেও তা বুঝতে পারেন না। এতে নানা সামাজিক ও শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। এ সমস্যাগুলো থেকে দূরে থেকে সুস্থ ও সঠিকভাবে জীবনযাপনের জন্য বিষণ্ণতা নির্ণয় ও তা চিকিৎসা করার তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সম্প্রতি এ তাগিদ দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সময়মতো বিষণ্ণতা নির্ণয় করা সম্ভব হলে তা রোগীকে সুস্থ হতে সহায়তা করবে। এছাড়া এতে অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো নিরাময়ও সহজ হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক নারীদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রোগী যখন জানায় যে সে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত তখন রোগটি অনেকখানি খুঁটি গেড়ে বসে। এ অবস্থায় তা নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। 

আর এ কারণে তা আগে থেকেই নির্ণয় ও নিরাময়ের চেষ্টা করা উচিত বলে জানান গবেষকরা। এ বিষয়ে গবেষকদলের সদস্য ও ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা, চ্যাপেল হিলের প্রফেসর ড. মাইকেল পিগনন বলেন, আপনি যদি রোগীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন যে, কখন তিনি এসে বলবেন তিনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত তাহলে তাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে তাদের সুস্থ করা সম্ভব হতো। 

বিষণ্ণতার কারণে বহু মানুষই নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। এ রোগে আক্রান্ত অনেক ব্যক্তিই পরবর্তীতে নানা শারীরিক সমস্যায় পতিত হন। এসব সমস্যা নিরাময় করতে প্রচুর অর্থব্যয় করতে হয় রোগীদের। গবেষকরা বলছেন, ১৮ বছরের বেশি বয়সী সবাইকেই অন্তত একবার করে এ রোগটি পরীক্ষা করা উচিত। 

কিন্তু কীভাবে এ রোগটি নির্ণয় করা হবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেননি গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসক মাত্র দুটি প্রশ্ন করেই এ রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। আর সময়মতো রোগটি যদি ধরা পড়ে তাহলেও চিন্তার কিছু নেই। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, সাইকোথেরাপি ও আচরণগত থেরাপির মাধ্যমে তা সারিয়ে তোলা যায়। 

Post A Comment: