চিপস পায়ে ঘুরে বেড়ায় চোর!

চিপস পায়ে ঘুরে বেড়ায় চোর!
চিপস পায়ে ঘুরে বেড়ায় চোর!

প্যারিসের বাঙ্গালী চায়ের দোকানগুলোর আড্ডায় যে কথাটা সবার কানে পৌঁছেছে সেটা হলো অমুককে জেলে নিয়ে গেছে, অমুককে ছেড়ে দিয়েছে তবে হাতে বা পায়ে চিপস পরিয়ে দিয়েছে। হরহামেশা এসব কথা শুনতে অভ্যস্ত প্যারিসের বাঙালী অভিবাসীরা। তবে এ চিপস (প্রচলিত অর্থে) বা ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ চিপস কেন পরানো হয় সেটা অনেকেরই জানা নেই।
Le placement sous surveillance électronique বা ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ (bracelet électronique) একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক চিপস যা পায়ে পরানো হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি কোনো কয়েদি জেলে থাকতে না চায় সেক্ষেত্রে কয়েদি তার উকিলের মাধ্যমে আবেদন করে এ বিশেষ চিপস নিতে পারে। তবে সে লোকটিকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজ বাসায় অবস্থান করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে সেটা সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল আটটা অবধি হতে পারে।
অনেক কয়েদী চাকরি করে বা খণ্ডকালীন চাকরি করবে অথবা পরিবার চালানোর মতো সামর্থ্য নেই এসব যুক্তি উত্থাপন করে তার নিয়োজিত আইনজীবির মাধ্যমে আদালতে আবেদন করলে বিচারক মানবিক দৃষ্টিতে বিচার করে অপরাধীকে নিজ বাসায় বা যেখানে সে থাকে সেখানে থাকার অনুমতি প্রদান করে থাকেন। তখন আর সে কয়েদী জেলে থাকেন না। তিনি তখন বাসায় থাকবেন তবে পায়ে লোহার শিকলের পরিবর্তে একটি ইলেকট্রনিক চিপস বাঁধা থাকবে। সে বাইরে থাকবে তবে ভিতরে সব সময় জেলের অনুভুতি নিয়ে।
ফ্রান্সে এখন অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা নিয়ত বাড়ছে। অপরাধের মাত্রা বিশেষে অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। আবার অনেক ভয়ংকর অপরাধী আছে, এদের অবশ্যই জেলে রাখতে হবে। সাধারণত: ছিচকে চোর, পকেটমার বা এধরনের হাল্কা মাত্রার অপরাধীদের জেলে রাখার চেয়ে বাইরে রাখাই সঙ্গত মনে করে এদের চিপস পরিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ চিপস পদ্ধতিটি এখন শুধু ফ্রান্সেই নয় ইউরোপের অনেক দেশেই ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন কয়েদীকে জেলে রাখা ও তার পেছনে সরকারের যে রাজস্ব ব্যয় হয় চিপস পরিয়ে কয়েদীকে ছেড়ে দিলে তার এক দশমাংশ ব্যয় হয় বলে জানা যায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একজন কয়েদির পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের খরচ হয় ৯৪ ইউরো। অপরদিকে শুধু চিপস পড়িয়ে ছেড়ে দিলে তার পিছনে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ১০ ইউরো।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর অপরাধীদের জেলে রাখার পরিবর্তে চিপস পরিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আইন পাশ হয় ফ্রান্সে। অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী হবার কারণে গত তিনবছরে শুধু ফ্রান্সেই এ চিপস এর ব্যবহার গত তিন বছরে ১২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
আশা করি লিখাটি পছন্দ হয়েছে।

Post A Comment: