x

Decrease fontEnlarge font
ঢাকা: আপনার শিশু কি এমন খেলনা দিয়ে খেলছে যেটাতে আলোর ঝলক আছে? আছে নানা ধরনের শব্দের উচ্চারণ কিংবা উচ্চস্বরের গান? তবে এখুনি তার কাছ থেকে সে খেলনা নিয়ে নিন। কারণ এই খেলনা আপনার শিশুকে ভাষা শিখতে দিচ্ছে না। তাকে ভাষা শেখার ধারায় আনতে দিন ঐতিহ্যের খেলনা, যেন তাকে কেবল প্রশ্ন করতে হয়, এমনকি তা শিখতে আপনাকে বারবার ডাকতে হয়।

১০ থেকে ১৬ মাস বয়সী ২৬ শিশু ও তাদের মা-বাবার ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ পরামর্শই দিয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ‘জামা পেডিয়াট্রিকসে’ প্রকাশিত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব ইলেকট্রনিক খেলনা শিশুদের শব্দ শোনায়, গান শোনায় বা আলোর ঝলক দেয়, সেসব খেলনা শিশুদের ভাষার কম ব্যবহার শেখায়।

তাহলে শিশুরা কী দিয়ে খেলবে? এরও উত্তর দিয়েছে গবেষণা প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়, শিশুদের হাতে খেলার বই অথবা ঐতিহ্যের খেলনা দিতে হবে। যেন তাদের মাথা খাটিয়ে খেলতে হয়। যেমন পাজল টাইপের খেলনা, রাবার ব্লক ইত্যাদি।

গবেষণা দলের সদস্য আনা সোসা জানান, সমীক্ষা চালাতে ২৬ শিশু ও তাদের মা-বাবাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। পরে একদল শিশুর হাতে ইলেক্ট্রনিক খেলনা যেমন- বেবি ল্যাপটপ, বেবি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়। আরেক দল শিশুর হাতে বুদ্ধি খাটিয়ে খেলতে হয় এমন খেলনা, যেমন- পাজল গেমস, রাবার ব্লক দেওয়া হয়।

কয়েক মাস পর্যবেক্ষণের পর ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিশুর হাতে ইলেক্ট্রনিক খেলনা দেওয়া হয়েছিল, তারা খুব কম শব্দ ব্যবহার করছে। অন্যদিকে যেসব শিশুর হাতে পাজল গেমস, রাবার ব্লক টাইপের খেলনা দেওয়া হয়েছিল, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি শব্দ ব্যবহার করছে। সেইসঙ্গে তারা অন্যদের তুলনায় কথাও বলছে ভালো। 

গবেষকদের মতে, যেসব শিশু ইলেক্ট্রনিক খেলনা দিয়ে খেলে তাদের বাবা-মা সন্তানদের সঙ্গে খুব অল্প কথা বলেন। এর ফলে শিশুরা শিখছে অল্প শব্দ। কিন্তু যখন শিশুরা ঐতিহ্যের খেলনা দিয়ে খেলে, তখন তাদের বাবা-মা শিখিয়ে দেন কীভাবে সেটি খেলতে হবে। শিশুরাও এটা-ওটা বারবার জিজ্ঞেস করে। ফলে তারা বেশি শব্দ শিখতে পারে।

গবেষক আনা সোসা পরামর্শ দেন, শিশুদের এমন খেলনা দিতে হবে, যেন তাদের বুদ্ধি খাটিয়ে খেলতে হয়। খেলার সময় মা-বাবা বা পরিবারের অন্যদের শরনাপন্ন হতে হয়, কথা বলতে হয়। পাশাপাশি খেলার সময় শিশুদের সঙ্গে হাসি-খুশিভাবে কথাও চালিয়ে যেতে হবে মা-বাবাকে।

Post A Comment: