Decrease fontEnlarge font
২০১৫ ছিলো হলিউডের জন্য সোনায় সোহাগা। অনেক বছর পর এক পঞ্জিকাবর্ষেই ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়ানো ব্যবসা করেছে পাঁচটি ছবি। এই রেকর্ডই বলে দিচ্ছেন বছরজুড়ে হলিউডে ছিলো সাফল্যের রোদ্দুর। 

হলিউডে এর আগে ১০০ কোটি ডলার আয়ের অভিজাত ক্লাবে ঢুকেছে ১৯টি ছবি। এখন সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ২৪। সর্বকারের সেরা ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় ‘অ্যাভাটার’ ও ‘টাইটানিক’-এর পরেই তিন নম্বর জায়গাটি দখল করে নিয়েছে চলতি বছরের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। এ ছাড়া পাঁচ ও ছয় নম্বরে আছে যথাক্রমে ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’। এ বছরের ১০০ কোটি ডলার ব্যবসা করা ‘মিনিয়নস’ ১০ নম্বরে আর ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ আছে ১৫ নম্বরে। 

এ বছর ছিলো অ্যাকশন ছবির জয়জয়কার। শীর্ষ দশ ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের মধ্যে সাতটিতেই ছিলো ধুন্ধুমার সব মারামারি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সাতটি ছবিই কোনো না কোনো সিরিজ তথা ফ্রাঞ্চাইজির অংশ। এগুলো হলো- ‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের চতুর্থ ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্রাঞ্চাইজির সপ্তম কিস্তি ‘ফিউরিয়াস সেভেন’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’, ‘স্টার ওয়ারস’ ফ্রাঞ্চাইজির সপ্তম কিস্তি ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’, জেমস বন্ড সিরিজের ২৪তম ছবি ‘স্পেক্টর’, ‘মিশন ইমপসিবল’ ফ্রাঞ্চাইজির পঞ্চম ছবি ‘মিশন ইমপসিবল-রোগ নেশন’ এবং ‘হাঙ্গার গেমস’ সিরিজের চতুর্থ ও শেষ পর্ব ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংজে-পার্ট টু’। 

বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। এর মোট আয় ১৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসর নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গের বানানো ‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের নতুন ছবি তৈরি হলো ১৪ বছর পর। তাই দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন প্রেক্ষাগৃহে। কলিন ট্রেভরো পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেন ক্রিস প্রাট ও ব্রাইস ডালাস হাওয়ার্ড। 

এদিকে তিন দশকেরও বেশি সময় পর বড় পর্দায় ফিরেছে জর্জ লুকাসের অনবদ্য সৃষ্টি ‘স্টার ওয়ারস’-এর সপ্তম ছবি ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’। তাই নজিরবিহীন সাফল্য পেয়ে চলেছে এটি। জে. জে. আব্রামস পরিচালিত এবারের ছবিতে অভিনয় করেছেন হ্যারিসন ফোর্ড, লুপিটা নিয়ঙ্গো, মার্ক হ্যামিল, ক্যারি ফিশার, ডেইজি রিডলি, অ্যাডাম ড্রাইভার, অস্কার ইসাক, অ্যান্ডি সার্কিসসহ অনেকে। 

শীর্ষ দশ ব্যবসাসফল ছবির তালিকার দুই নম্বরে জেমস ওয়ান পরিচালিত ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ দেখলে আবেগপ্রবণ হয়ে যেতে হয়। কারণ এটাই অকালপ্রয়াত হলিউড তারকা পল ওয়াকারের শেষ ছবি। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন ভিন ডিজেল, ডোয়াইন জনসন, মিশেল রড্রিগেজ, জর্ডানা ব্রিউস্টার, টাইরিস গিবসন, লুডাক্রিস, জেসন স্ট্যাথাম, ডিমন হানসাউ।

তিন বছর পর মার্ভেল কমিকসের সব সুপারহিরো অর্থাৎ আয়রনম্যান, থর, হাল্ক, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ব্ল্যাক উইডো, হকাই আবার ফিরেছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’ ছবিতে। এটি আয় করেছে ১৪০ কোটি ডলার। 

সর্বাধিক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের তালিকায় অ্যানিমেটেড ছবি আছে দুটি। এর মধ্যে ‘মিনিয়নস’ ১১৫ কোটি আর ‘ইনসাইড আউট’ আয় করেছে ৮৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এ ছাড়া মঙ্গলগ্রহ বিষয়ক ছবি আছে একটি। এটি হলো রিডলি স্কটের ‘দ্য মার্শিয়ান’। এতে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। এর আয় হয়েছে ৫৯ কোটি ডলারেরও বেশি। 

বিখ্যাত দুই গোয়েন্দা জেমস বন্ড ও ইথান হান্ট দ্বিতীয়বারের মতো একই বছরে ফিরেছে পর্দায়। ২০০৬ সালে ‘মিশন ইমপসিবল থ্রি’ আর ‘ক্যাসিনো রয়েল’ একসঙ্গে মুক্তি পায়। দুটি সিরিজেরই নায়ক পাল্টায়নি। ‘স্পেক্টর’-এ চতুর্থবারের মতো জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক দিয়ে স্যাম মেন্ডেস পরিচালিত ছবিটি আছে সাত নম্বরে। এতে বন্ডকন্যা হয়েছেন ইতালিয়ান সুন্দরী মনিকা বেলুচ্চি ও লেয়া সেদু। তিন বছর বিরতি দিয়ে এলো বন্ড সিরিজের নতুন ছবিটি। 

ব্যবসা সফলতার হিসাবে জেমস বন্ডের পরেই আছে ক্রিস্টোফার ম্যাককুয়ারি পরিচালিত ‘মিশন ইমপসিবল-রোগ নেশন’। এর মাধ্যমে চার বছর পর মুক্তি পেয়েছে ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের পঞ্চম কিস্তি। এতেও যথারীতি ইথান হান্ট চরিত্রে হাজির হয়েছেন টম ক্রুজ। এ ছাড়াও ছিলেন রেবেকা ফার্গুসন, জেরেমি রেনার, সিমন পেগ, ভিং র‌্যামস। 

তালিকার নয় নম্বরে রয়েছে ব্লকবাস্টার সিরিজ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর শেষ ছবি ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংজে-পার্ট টু’। এতে সাহসী তরুণী ক্যাটনিস এভারডিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেনিফার লরেন্স। ফ্রান্সিস লরেন্স পরিচালিত ছবিটির আয় হয়েছে ৬১ কোটি ডলারেরও বেশি। 

পরিবেশকদের মধ্যে এ বছর যৌথভাবে সবচেয়ে সফল ইউনিভার্সাল পিকচার্স ও  ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস মোশন পিকচার্স। ইউনিভার্সাল পিকচার্সের পরিবেশনায় মুক্তি পেয়েছে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’, ‘ফিউরিয়াস সেভেন’ ও ‘মিনিয়নস’। এ ছাড়া ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস মোশন পিকচার্স মুক্তি দিয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন’, ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ ও ‘ইনসাইড আউট’। ‘স্পেক্টর’ মেট্রো-গোল্ডউইন-মেয়ার ও কলাম্বিয়া পিকচার্স, ‘মিশন ইমপসিবল-রোগ নেশন’ প্যারামাউন্ট পিকচার্স, ‘দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংজে-পার্ট টু’ লায়ন্সগেট আর ‘দ্য মার্শিয়ান’ মুক্তি দিয়েছে টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স। 

শীর্ষ ১০ ব্যবসাসফল ছবি (মার্কিন ডলারে)
১. জুরাসিক ওয়ার্ল্ড (১৬৬ কোটি)
২. ফিউরিয়াস সেভেন (১৫১ কোটি)
৩. অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন (১৪০ কোটি)
৪. মিনিয়নস (১১৫ কোটি) 
৫. স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স (১০৯ কোটি) 
৬. ইনসাইড আউট (৮৫ কোটি ১৬ লাখ)
৭. স্পেক্টর (৮৫ কোটি) 
৮. মিশন ইমপসিবল-রোগ নেশন (৬৮ কোটি ২৩ লাখ)
৯. দ্য হাঙ্গার গেমস : মকিংজে-পার্ট টু (৬১ কোটি ৬৮ লাখ)
১০. দ্য মার্শিয়ান (৫৯ কোটি ৩৯ লাখ) 

Post A Comment: