ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গাড়ির সামনের আসনটিতেই বেশি বসতেন। আর সৌভাগ্য বলে তার পাশে বসার সুযোগটি দীর্ঘদিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সেসব স্মৃতি মনে করে এখনও শিহরিত হন তিনি।

অতীত ঘেঁটে ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে নিজেই এসব জানালেন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তিনি।  

এ পর্যায়ে কিছুটা আবেগী হয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘এখনও বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখে দিনের কাজ শুরু করি। ৬৯’র পর থেকে বঙ্গবন্ধুর গাড়িতে চড়তাম। তিনি সামনে বসতেন, পাশে আমি। ড্রাইভার ও বঙ্গবন্ধুর মাঝখানে বসতাম আমি। পেছনে বসতেন তিন নেতার মধ্যে কেউ। এটি দীর্ঘদিন হয়েছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সবচে কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সংসদে বসেছিলাম। ভাবতে অবাক লাগে, কোথায় ছিলাম, আর আজ কোথায় এসেছি। ২৯ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছিলাম আমি। এটা আমার সৌভাগ্য’- বলেন তিনি।

২০১৫’র ভুল ২০১৬-তে নয়
ভেবেচিন্তে, হিসেব কষে দেখবে সরকার। যদি দেখা যায়, ২০১৫ সালে সরকার বড় মাপের কোনো ভুল করেছে, তাহলে সাবধান হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, নতুন বছরে (২০১৬) ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে চেষ্টাই করা হবে- জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

‘২০১৫ সালে বর্তমান সরকারের সবচে বড় ভুল কোনটি ছিল, যা ২০১৬ সালে সরকার করবে না?’- বাংলানিউজের এমন প্রশ্নের জবাবে এসব জানান ‘কৌশলী’ এ রাজনীতিক। 

প্রশ্নটি শুনে প্রথমে ভালো করে বুঝে নিতে চাইলেন, বোঝার পর মৃদু হাসেন, আর খুব গুছিয়ে জবাবটি দেন তোফায়েল আহমেদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভুল? সেটিতো ভেবে বলতে হবে। এ মুহূর্তে কিছুতো মনে পড়ছে না। আসলে… চলার পথে অনেক ভুলইতো হতে পারে। আমাদের এটি ভেবে দেখতে হবে, সে অর্থে বড় কোনো ভুল করেছি কিনা। যদি বড় কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে অবশ্যই চেষ্টা থাকবে আগামী বছর বা পরেও যেন তা আমরা আর কখনো না করি।’

বছরজুড়ে সফল বাংলাদেশ
বছরজুড়ে নানা তৎপরতা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পদ্মাসেতু উদ্বোধনসহ যোগাযোগ, প্রযুক্তি, আমদানি, রপ্তানি, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সারাবছর বাংলাদেশ অনেক সাফল্য পেয়েছে। বিশ্বে অবস্থান আরও শক্ত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকার করেছে, ‘বাংলাদেশ ইজ নাথিং বাট আ মীরাকল!’

বিএনপি নেতাদের ব্যবসাসুবিধা দেই
রাষ্ট্রের স্বার্থে নিজের নিরপেক্ষতার কথাও বলেন তিনি। বিএনপি নেতারাও তার সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যসুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ যেকোনো সময় সহায়ক শক্তি হিসেবে অন্যকে সুবিধা পেতে সহযোগিতা করা। সব ব্যবসায়ী এ সহযোগিতা পায়। বিএনপি’র অনেক ব্যবসায়ী এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা কখনো দলমত দেখে বিচার করি না। তারাও (বিএনপি নেতারা) এটি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন।

 সাংবাদিকদের কাছে ঋণী
এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার কথাও জানালেন। বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছে আমি ঋণী। আমাদের আন্দোলনের কথা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে সাংবাদিকরা। জগলুলকে খুব মনে পড়ে। সাংবাদিকরা অনেক সহযোগিতা করেছে সবসময়। সাংবাদিকদের তাই আমি আপন ভাবি, পছন্দ করি।’

Post A Comment: