ব্যক্তিগত বর্ণনা:
নরেন্দ্র মোদী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, পুরো নাম নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদী। মোদী ভারতের গুজরাটের মহেসেনা জেলার বড়নগরে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ সালে ঘাঞ্চী তেলি সম্প্রদায়ের এক নিম্নবর্গ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম দামোদারদাস মূলচাঁদ মোদী ও মায়ের নাম হীরাবেন মোদী। ২৬ মে, ২০১৪ সালে ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার দলের নাম ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এর আগে তিনি গুজরাটের ১৪তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মোদী নিজেকে একজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাবী করেন এবং তিনি নিজে একজন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য।
২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় তিনি তার প্রশাসন সহ নিজ দেশ এবং বিদেশেও সমালোচিত হন এবং একজন বিতর্কিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। কিন্তু গুজরাটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
এক নজরে
নাম
নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদী
জন্মস্থান
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মহেসেনা জেলার বড়নগর
জন্ম তারিখ
১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০
ধর্ম/সম্প্রদায়
হিন্দু/ঘাঞ্চী তেলি
শিক্ষা
স্নাতকোত্তর (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)
প্রধানমন্ত্রী
১৫ তম
আহার্য
সবজী (ভেজিটেরিয়ান)
শৈশব ও কৈশোরের এবং পড়াশুনার বর্ণনা:
মোদী শৈশবে তার বাবাকে বড়নগর রেলস্টশনে চা বিক্রি করতে সহায়তা করতেন এবং কিশোর বয়সে তার বড় ভাইয়ের সাথে চা বিক্রি করতেন। এই বড়নগরেই তিনি একজন সাধারণ মানের ছাত্র হিসেবে তার প্রাথমিকের পড়া শেষ করেন। শৈশবে মোদী স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। মাত্র আট বছর বয়সেই তিনি তার রাজনৈতিক গুরু লক্ষণরাও ইনামদারের সংস্পর্শে আসেন এবং সেখানে তার সংঘের একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করেন।
মোদীর ঘাঞ্চী সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার বিয়ে ঠিক হয় এবং ১৮ বছর বয়সে যশোদাবেন চিমনলাল নামক একটি মেয়ের সাথে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু মোদীর পরিব্রাজকের জীবনযাপনের সিদ্ধান্তে তার বিবাহিত জীবন খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিন্তু মোদীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। তথাপি মোদী বিগত ৪টি নির্বাচনে নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে যশোদাবেনকে নিজের বৈধ স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছেন।
২০১৪ সালে প্রকাশিত বই ‘কমন ম্যান নরেন্দ্র মোদী’ থেকে জানা যায় তিনি ১৭ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে যাবার পর প্রথমে রাজকোটের রামকৃষ্ণ মিশন এবং পরবর্তীতে  বেলুড় মঠ যাত্রা করেন। এরপর স্বামী বিবেকানন্দের আশ্রমে যোগ দেন। এর দুই বছর পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং আমেদাবাদে তার কাকার চায়ের দোকানে চা বিক্রি করতে শুরু করেন। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন পূর্ণকালীন প্রচারক হিসেবে যোগদান করেন। এই সময়ে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
মোদীর রাজনৈতিক জীবন:
১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শেষে মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয় ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিরোধীদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় মোদী গ্রেফতার এড়াতে কখনও বৃদ্ধ আবার কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘুরে বেড়ান। এবং এসময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার-পুস্তিকা বিতরণ ও বিক্ষোভ সমাবেশ সংগঠিত করতেন। ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ মোদীকে বিজেপিতে যোগদান করায়। ১৯৮৮ সালে মোদী গুজরাটে বিজেপির কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৫ সালে বিজেপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর শংকরসিনহা বাগেল পার্টি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে তিনি পার্টির কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০১ সালে মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।
গুজরাট দাঙ্গা:
২০০২ সালে গোধরা শহরে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের একটি ট্রেনে আগুন লেগে প্রায় ৬০ জন মারা যায় এবং এতে গুজব ছড়ানো হয় যে মুসলমানদের দ্বারা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ভারতে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা বাধে। এতে ৯০০-২০০০ লোক নিহত হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলি, বিরোধী দল এবং সংবাদপত্রের কিছু অংশ মোদীর নির্দেশকে দাঙ্গায় উস্কানিমূলক পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করে। কিন্তু ভারতের কোন আদালতই এখন পর্যন্ত মোদীকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী হওয়া:
২০১২ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে মোদী মণিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৮৬৩৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এর মাধ্যমে মোদী ৪র্থ বারের মত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ২১ মে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচন করে ২৮২ আসন বা ৩১.৩৪% ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী।

Post A Comment: