Decrease font Enlarge font
ঢাকা: সব প্রাণীর গায়ের রঙ একরকম হলে কেমন হতো! এই ধরো, বনের পশু, পাখি, মাছ, সরীসৃপ সবার রঙই সাদা। কোনো বৈচিত্র্য থাকতো না। সাদা দেখে দেখে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যেতো।

কিন্তু রঙিন প্রাণীদের মধ্যে যদি দুধসাদা দু’চারটি প্রাণী থাকে, তাহলে কিন্তু বেশ লাগে, কি বলো! যদি দেখো, নীল-সবুজ পেখমওয়ালা ময়ুরের পাশে ধবধবে সাদা পেখম তোলা একটি ময়ূর বা সবুজ ডোবায় শেতাঙ্গ এক কুমির- তবে মুখ ফসকে ‘সুন্দর’ শব্দটি ঠিক বেরিয়ে আসবে!

যদি কখনও এমন কোনো সাদা পশু-পাখি বা সরীসৃপ দেখো, তাহলে ভেবো না তারা বিদেশি পশু-পাখি বা আলাদা জাতের।

এরা সবাই স্বাভাবিক প্রাণী। এসব প্রাণীদের গায়ের রঙ সাদা বলে এদের আলবিনো শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। যার বাংলা হলো ধবল।

যেসব প্রাণী আলবিনো বা ধবলরোগ নিয়ে জন্মায়, তাদের গায়ের রঙ বা পালক সাদা বা হালকা গোলাপি। এদের অনেকের চোখের রঙ লালচে বা বেগুনি রঙের।

আলবেনিজমের কারণ হলো, প্রাণীর দেহে মেলানিন ও পিগমেন্টেশনের অভাব। মেলানিন শরীরের বিভিন্ন অংশের রঙ নির্ধারণ করে।

যখন কোনো প্রাণী জন্মগতভাবেই শরীরের পিগমেন্টেশন উৎপাদনের অক্ষমতা নিয়ে জন্মায়, তখন তাকে আলবিনো শ্রেণিভুক্ত করা হয়।

প্রাণীদের মধ্যে ‍দু’ধরণের আলবেনিজম দেখা যায়, সম্পূর্ণ ও আংশিক। সম্পূর্ণ আলবিনোরা ধবধবে সাদা হয়। তাদের দেহে মেলানিন উৎপন্ন হয় না।

অন্যদিকে, আংশিক আলবিনোদের দেহে কিছু মেলানিন উৎপন্ন হয়। ফলে তাদের দেহের কিছু অংশ সাদা ও কিছুটা স্বাভাবিক প্রাণীদের মতোই থাকে। কখনওবা সাদার মধ্যেই স্বাভাবিক রঙগুলো হালকাভাবে ফুটে ওঠে।

তবে আলবেনিজম নিয়ে জন্ম নেওয়া প্রাণীদের দৃষ্টিশক্তি খুব একটা ভালো হয় না। সাধারণ প্রাণীদের তুলনায় তাদের ত্বকের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি  থাকে।

প্রতি ১০ হাজার স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে একটি প্রাণী আলবেনিজম নিয়ে জন্মায়। আলবেনিজম অবশ্য পাখিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক হাজার সাতশো ৬৪টি পাখির মধ্যে একটি পাখি আলবেলিজম নিয়ে জন্মায়।

আলবিনো প্রাণীর স্বতন্ত্রতা রয়েছে। তবে সুন্দরের কাতারে দাঁড় করালে রঙিন বা রঙহীন সব প্রাণীই সুন্দর। কারণ, সুন্দর হতে রঙের প্রয়োজন নেই!

Post A Comment: