কার্টুন সাধারণত ছোটদের প্রিয় অনুষ্ঠান হলেও বিশেষ কিছু কার্টুন রয়েছে যেগুলো ছেলে-বুড়ো সকলেরই দেখতে ভালো লাগে। এমনই একটি কার্টুন হলো ‘টম অ্যান্ড জেরি’। মনের মধ্যে রাজ্যের দুশ্চিন্তা ভর করলেও নিমিষেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায় চিন্তাগুলো। ছোট্ট ইদুর আর বিড়ালের এই লড়াই সারা বিশ্বেই সমানভাবে জনপ্রিয়। এই পেজটিতে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র জানা-অজানা বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

যাদের হাত ধরে টম অ্যান্ড জেরি’র জন্ম
টেলিভিশন পর্দায় টম এবং জেরি দুজন দুজনের শত্রু হলেও এই কার্টুন সিরিজটির জন্ম হয়েছিল দুজন বন্ধুর হাত ধরে। উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবারা এরা দুজন মিলে জন্ম দেন দর্শকপ্রিয় এই কার্টুন সিরিজটির। ত্রিশের দশক থেকে এরা দুজন এমজিএম স্টুডিওতে কাজ করতেন। বারবারা গল্প লেখেন আর চরিত্রগুলো দেখতে কেমন হবে তা ঠিক করেন। আর হান্না অভিজ্ঞ পরিচালক। চল্লিশের দশকে এসে তারা সৃষ্টি করেন কালজয়ী টম অ্যান্ড জেরি চরিত্র। ১৯৪০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ ‘পাস গেটস দা বুট’ নামের এক পর্বের একটি কার্টুন ছবি তৈরি করেন। উল্লেখ্য সে সময় ঘরে ঘরে এতো টেলিভিশন ছিল না। বিনোদনের জন্য সবাইকে সিনেমা হলেই ছুটতে হতো। এই এক পর্বের কার্টুন দর্শক মহলে জনপ্রিয়তা পেলেও আর্থিকভাবে লাভবান ছিল না। তাই এমজিএম কোম্পানি এটি বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে হান্না ও বারবারা ইদুর-বিড়ালের লড়াই নিয়ে কার্টুন তৈরির পরিকল্পনা করেন। তাদের পরিকল্পনার কথা তারা এমজিএম কোম্পানির কার্টুন বিভাগের প্রধান ছিল ফ্রেড কুইম্বিকে জানান। তাদের পরিকল্পনার কথা শুনেই  কুইম্বির ভালো লেগে যায় এবং পরিকল্পনা মাফিক নতুন কার্টুন সিরিজ বানানোর কাজে হাত দেয় হান্না ও বারবারা।
ছবিতে উইলিয়াম হান্না (বায়ে), জোসেফ বারবারা (ডানে)
কে এই উইলিয়াম হান্না ও জোসেফ বারবারা?
‘টম অ্যান্ড জেরি’র দুজন জন্মদাতার একজন হচ্ছেন উইলিয়াম হান্না। তিনি ১৯১০ সালের ১৪ জুলাই নিউ মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৯ সালে তার পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার কম্পটনে চলে আসে। কম্পটন হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন উইলিয়াম হানা। এরপর কম্পটন কলেজে ভর্তি হলেও সেখানে পড়া শেষ করতে পারেন নি। কলেজ ছেড়ে দেওয়ার পর হানা একজন কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারের কাজ নেন এবং হলিউডের প্যান্টেজেস থিয়েটারের নির্মাণকাজে সহায়তা করেন। অন্যদিকে জোসেফ বারবারা হলেন কার্টুনিস্ট। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২৪ মার্চ। জোসেফও ভাগ্যের তাড়নায় ছোটখাটো কাজ করে বেড়াতেন। তিনি ১৯৩৭ সালে মেট্রো গোল্ড ওয়াইন মায়ের (এমজিএম) স্টুডিওতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে এমজিএম স্টুডিওতে তাদের দুজনের দেখা হয়।

যেখান থেকে টম অ্যান্ড জেরির শুরু
টম আর জেরির জন্ম হলিউডে। টম অ্যান্ড জেরি’র শুরুটা হয়েছিল এমজিএম কোম্পানির প্রধান স্টুডিওতে। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার কালভার সিটিতে অবস্থিত। এই স্টুডিওটি একটি ক্রিম রঙের দোতলা বাড়িতে অবস্থিত। পুরো বাড়িটাই অ্যানিমেশন ছবির নির্মাতা, অ্যানিমেশন আঁকিয়ে, লে-আউট শিল্পী ও ক্যামেরাম্যানদের মিলনমেলা। এই বাড়ি থেকেই শুরু হয়েছিল টম অ্যান্ড জেরির। 


নামকরণ
উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবারা যে ইদুর-বিড়ালের চরিত্রটিকে তৈরি করেছিলেন প্রথমদিকে সেটির নাম ‘টম অ্যান্ড জেরি’ ছিল না। এমজিএম কোম্পানি এই কার্টুন সিরিজটির নাম ঠিক করার জন্য ৫০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন। এমজিএম কোম্পানির অ্যানিমেটর ‘জন কার’ এই কার্টুন সিরিজটির জন্য ‘টম অ্যান্ড জেরি’ নামটি প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে তার প্রস্তাবকৃত নামটিই সবার পছন্দ হয় এবং তিনি জিতে নেন পুরস্কারের ৫০ ডলার।

টম অ্যান্ড জেরির যাত্রা শুরু
উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবারার হাত ধরে ১৯৪১ সালে প্রচার শুরু হয় ‘টম অ্যান্ড জেরি’ কার্টুন সিরিজের। প্রথম পর্বের নাম ছিল ‘দ্য মিডনাইট স্নেক’। এই সিরিজটির নাম ‘টম অ্যান্ড জেরি’ হলেও প্রতি পর্বের কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। প্রথম পর্বে হ্যানা ও বারবারার এক পর্বের কার্টুন ‘পাস গেটস দা বুট’ এর জেসপার নামক বিড়ালটিকে তুলে ধরা হয় টম হিসেবে এবং ইদুরটিকে তুলে ধরা হয় জেরি হিসেবে। এরপর এই সিরিজের একের পর এক কার্টুন তৈরি হতে থাকে। পরের পর্বগুলোতে টমের চেহারায় অনেকটা পরিবর্তন আনা হলেও জেরির কোনো পরিবর্তন করা হয় নি। তবে সব পর্বেই ইদুর-বিড়ালের ছোটাছোটির ঘটনাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়। এভাবেই এমজিএম কোম্পানির সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ হিসেবে স্থান করে নেয় টম অ্যান্ড জেরি। এ পর্যন্ত তাদের ঝুলিতে জমা হওয়া অস্কার যেকোনো চলচ্চিত্র তারকার মনে হিংসা জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। সেরা কার্টুন সিরিজ হিসেবে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ জিতেছে সাতটি পুরস্কার।

নতুন সিরিজ বানানো বন্ধ করে দিল এমজিএম
সিনেমা হলে সমান তালে চলছে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের কার্টুনগুলো। পঞ্চাশের দশকের পর মানুষের ঘরে ঘরে টেলিভিশন এসে যেতে লাগলো। সিনেমা হলে দর্শক আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে। এসময় এমজিএম কোম্পানি ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের পুরাতন কার্টুনগুলো নতুন মোড়কে বাজারে ছাড়ে। পুরাতন হলেও সে সময় বাজারে ব্যাপকভাবে চলতে থাকে পুরনো সিরিজের কার্টুনগুলো। এই অবস্থা দেখে এমজিএম কোম্পানির কর্তব্যক্তিদের মাথায় ভিন্ন চিন্তা ভর করে। তাদের মতে পুরনোগুলো যখন চলছে তখন নতুন বানিয়ে আর লাভ কি। এই ভাবনা থেকেই ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের নতুন পর্ব বানানো বন্ধ করে দেয় এমজিএম কোম্পানি। একসময় কার্টুন বিভাগই বন্ধ করে দেয় এমজিএম কোম্পানি।

আবার শুরু হলো ‘টম অ্যান্ড জেরি’র
নতুন পর্ব নির্মাণ বন্ধ করার আগে উইলিয়াম হ্যানা ও জোসেফ বারবারা তাদের ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের শেষ পর্ব ‘টট ওয়াচারস’ নির্মাণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ আগস্ট ১১৪ তম এই পর্বটি মুক্তি পায়। কিন্তু এমজিএম কোম্পানি খুব বেশিদিন তাদের এই সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারেন নি। কারণ খুব স্বাভাবিক। পুরনো জিনিস মানুষ খুব বেশিদিন ভালোভাবে নেন নি। তাই ১৯৬০ সালে এসে আবার নতুন পর্ব বানানো শুরু করে এমজিএম কোম্পানি।

হ্যানা ও জোসেফের বিদায়
১৯৬০ সালে এমজিএম কোম্পানি ‘টম অ্যান্ড জেরি’র নতুন পর্ব তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেও এবার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রযোজক উইলিয়াম এল. স্নাইডার ও অ্যানিমেশন পরিচালক জেন ডিচকে। কিন্তু তারা ‘টম অ্যান্ড জেরি’র আগের পর্বগুলো খুব একটা দেখেন নি। যার কারণে আগের পর্বগুলোর সাথে তাদের বানানো পর্বগুলোর অনেকটা পার্থক্য তৈরি হয়। যেমন তাদের বানানো পর্বগুলো অনেকাংশে ছিল অস্বাভাবিক আর অদ্ভুত।  তাদের বানানো পর্বগুলোতে টমের মালিক হিসেবে যে মোটাসোটা লোকটাকে হাজির করা হয় তাকেও দর্শকদের খুব বেশি পছন্দ হয় নি। তারা দুজন মোট ১৩ পর্ব নির্মাণ করেন এবং এই পর্বগুলো নির্মাণ করা হয় যুক্তরাজ্যের বাইরে চেকোস্লাভাকিয়ার প্রাগে।

টম অ্যান্ড জেরির চেহারায় পরিবর্তন
উইলিয়াম এল. স্নাইডার ও জেন ডিচের পর ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের নতুন পর্ব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় চাক জোন্সকে। তিনি টম এবং জেরির চেহারায় পরিবর্তন আনেন। এ নিয়ে অবশ্য তাকে বিপাকেও পড়তে হয়। চাক জোন্স ‘টম অ্যান্ড জেরি’তে যে পরিবর্তনগুলো আনেন তা হলো – টম এবং জেরির চেহারার মধ্যে আরও আক্রমণাত্মক ভাব ফুটিয়ে তোলার জন্য ‘টম পেল বরিস কারলফ’ এর চোখের পাতা ব্যবহার করেন। ‘টম পেল বরিস কারলফ’ ছিলেন সে সময়ের আমেরিকার ভৌতিক ছবির জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। টম ও জেরির কানের মধ্যেও পরিবর্তন আনেন জোন্স। আগের কানের তুলনায় এবারের টম ও জেরির কান কিছুটা মোটাসোটা ধরনের হয়। চেহারায় পরিবর্তন এলেও কাহিনী সেই আগের মতোই ছিল। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ৩৪টি পর্ব তৈরির পর আবারও ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজটি বন্ধ করে দেয় এমজিএম কোম্পানি। এর কারণ ছিলো তারা সিনেমায় এর কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

আবার ফিরে আসা
১৯৬৭ সালে বন্ধ করে দেওয়ার পর ‘টম অ্যান্ড জেরি’র জায়গা হয় এমজিএম কোম্পানির ধুলাবালিযুক্ত আর্কাইভে। আগেই বলেছি, পঞ্চাশের দশকের পর থেকে ঘরে ঘরে টেলিভিশন আসতে শুরু করে। ১৯৬৫ সালের দিকে টেলিভিশন জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হিসেবে নিজের জায়গা করে নেয়। এ সময় উইলিয়াম হান্না ও জোসেফ বারবারার নির্মিত পর্বগুলো বেশ কিছু পরিবর্তন করে ‘সিবিএস’ চ্যানেলে প্রচার করা শুরু হয় এবং তা ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। ১৯৮৬ সালের দিকে এসে পরিবর্তন আসে এমজিএম কোম্পানিতে। ‘টেড টার্নার’ নামক এক লোক কিনে নেন ‘এমজিএম কোম্পানি’। উল্লেখ্য টার্নার ছিলেন – টিবিএস, টিএনটি, কার্টুন নেটওয়ার্ক, টার্নার ক্লাসিক মুভিজ চ্যানেলের পরিচালক। তার পরিচালিত চ্যানেলগুলোতে প্রচার শুরু হয় ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের পর্বগুলো।   

সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া
‘টম অ্যান্ড জেরি’র জন্ম আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও সারা বিশ্বব্যাপীই এই কার্টুন সিরিজটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই কার্টুন সিরিজটির বিশেষ একটি সুবিধা হলো এর ডায়লগ গুলো খুবই সংক্ষিপ্ত। এর ফলে বিশ্বের যে কোনো দেশের ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা খুব সহজ হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার শুরু হয় ‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের। তারও আগে ১৯৬৪ সাল থেকে জাপানে ছড়িয়ে পড়ে এই কার্টুন সিরিজটি। জার্মানি, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল সহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই কার্টুন সিরিজটি। ইউরোপের গন্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে ‘কার্টুন নেটওয়ার্ক’ চ্যানেলে এখনো প্রচার করা হয় এই সিরিজটির।

উইলিয়াম হান্না ও জোসেফ বারবারার ফিরে আসা
১৯৭৫ সালে এসে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র জন্মদাতা উইলিয়াম হান্না ও জোসেফ বারবারার সুযোগ হয় ‘টম অ্যান্ড জেরি’কে নিয়ে আবার কাজ করার। তারা এবার এসে বদলে দেন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র চেহারা। আগের পর্বগুলোতে টম এবং জেরি সারাক্ষণ ঝগড়াঝাটি করলেও এবার তারা দুজন মিলে বিভিন্ন অভিযানে বের হয়। টেলিভিশনে প্রচার করার জন্য নতুন করে এই পর্বগুলো তৈরি করা হয়। ৭ মিনিট দৈর্ঘ্যের ৪৮টি পর্ব নির্মাণ করা হয়। প্রচার করা হয় ‘দি গ্রেট গ্রেইপ এইপ’ আর ‘মাম্বলি’ কার্টুনের সঙ্গে জোড়া বেঁধে। কার্টুন নেটওয়ার্ক চ্যানেলে ১৯৭৫-এর সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৭-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রচার করা হয়। 

যত দোষ টমের
প্রথম দিকে দুজনের ঝগড়াঝাটি, এরপর দুজন মিলে বিভিন্ন অভিযানে বের হওয়া, এবার ২০০০ সালে এসে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় টমের উপর। ২০০০ সালে ‘টম অ্যান্ড জেরি: দি মেনসন ক্যাট’ নামে নতুন একটি কার্টুন প্রচার করা শুরু হয় কার্টুন নেটওয়ার্কে। এবারের পর্বগুলোতে টম এবং জেরির একজন মালিককে হাজির করা হয়। তবে তার চেহারা কখনো দেখানো হয় নি। তারা দুজন বাড়িতে বিভিন্ন ঘটনা ঘটায় এবং এর সব দোষ গিয়ে পড়ে টমের উপর। এর জন্য টমকে শাস্তিও পেতে হয়। 

মালিকানা পরিবর্তন
টম অ্যান্ড জেরির এখনকার মালিক আমেরিকান চলচ্চিত্র এবং টিভি অনুষ্ঠান প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স। ২০০৬ সাল কিংবা এর কিছুটা আগে ‘টম অ্যান্ড জেরি’র স্বত্বগত মালিকানা লাভ করে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’। ২০০৬ সালে এসে তারা ‘টম অ্যান্ড জেরি টেলস’ নামে নতুন একটি সিরিজ প্রচার করা শুরু করে। ৩০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ১৩ টি পর্ব প্রচার করা হয়। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দর্শকরা এই পর্বগুলো দেখতে পারেন নি। কেননা তখন দেখানো হতো এই দুটি দেশের বাইরের দেশে। পরে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও দেখানো হয়।

কমিক্স বইতে ‘টম অ্যান্ড জেরি’
সিনেমা হলের পর্দা ছেড়ে কমিক্স বইতে স্থান করে নেয় ‘টম অ্যান্ড জেরি’। ১৯৪২ সালে সর্বপ্রথম কমিক্স বইতে দেখা যায় এই জুটিকে। এরপর ভিডিও গেমসেও পদচারণা পরে এই জুটির।     

টম এবং জেরি ছাড়া অন্য যারা রয়েছেন
‘টম অ্যান্ড জেরি’ সিরিজের কার্টুনগুলো মূলত টম এবং জেরিকে কেন্দ্র করেই বানানো হলেও এখানে আরও কিছু চরিত্রের উপস্থিতি রয়েছে। এতে কালো রংয়ের নোংরা এক বিড়ালকে দেখা যায়। বিড়ালটির নাম হল ‘বাচ’। টমের মতো বাচও জেরির শত্রু। সেও জেরিকে ধরে খেতে চায়। এছাড়া ‘বুলডগ’ নামের একটি কুকুর রয়েছে যাকে কিনা দারোয়ানের ভূমিকায় দেখা যায়। যথেষ্ট ভয়ংকর এবং রাগী এই কুকুরটি বিড়ালদের পিটাতে পছন্দ করে। আরও রয়েছে ‘ম্যামী টু শুস’, টম যখন দুষ্টামি করে তখন টমকে ঝাটাপেটার দায়িত্বটা তাকেই পালন করতে হয়। কিছু কিছু পর্বে দেখা যায় ‘লাইটনিং’ নামের একটি দ্রুতগতির বিড়াল খুব সহজেই জেরিকে ধরে ফেলে এবং পরবর্তীতে টম এবং জ্যারি একসাথে মিলি তাকে বের করে দেয়। জেরিকে বিভিন্ন বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে ছোট্ট একটি ইদুরকে দেখা যায়। ইদুরটির নাম নিবলস, যার নাম পরে বদলে টাফি রাখা হয়।

নতুন আঙ্গিকে ‘টম অ্যান্ড জেরি’
সারাবিশ্বের সব বয়সী প্রিয় এ কার্টুন চরিত্রদ্বয় ফিরছে নতুন আঙ্গিকে। ২১ এপ্রিল, ২০১৪ থেকে কার্টুন নেটওয়ার্কে শুরু হচ্ছে 'দ্য টম অ্যান্ড জেরি শো'র নতুন সিরিজ। এবারের সিরিজে টমের সংকল্প ও জেরির চাতুর্য গতানুগতিক নয়, বরং নতুন নতুন জায়গায় নতুন গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্ব এগিয়েছে, এর প্রতিফলন দেখা যাবে এবারের গল্পে।

Post A Comment: