সভ্যতার একেবারে সূচনালগ্ন থেকে নানা প্রয়োজনে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করে চলেছে মানুষ আর সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় তখন থেকেই। গাছের গুঁড়ি ফেলে পানি পার হওয়াটাকে সেতুর সূচনা বলা যায়। কিন্তু শীঘ্রই মানুষের কাছে ধরা দেয় যে কিছুটা সময় ও শ্রম ব্যয় দীর্ঘ সেতুও তৈরি করা সম্ভব। যাতায়াতের জন্য রোমানরাও নদীর ওপর বিশাল সেতু তৈরি করেছিল। আরও পরে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব শুরু হলে সে ছোঁয়া সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়। অধিক উচ্চতা আর দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য সেতু তৈরি হতে থাকে।


সেতু নির্মাণ
সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় স্থপতি আর প্রকৌশলীদের। নদীর স্রোত আর মাটির প্রকৃতি ছাড়াও রয়েছে নদীকে অক্ষত রাখার দিকটি। নদীতে বড় বড় নৌযান চলাচলের সুযোগ রাখতে সেতুকে অবশ্যই যথেষ্ট উঁচু হতে হবে। আবার নদীতে কম সংখ্যায় খুঁটি বসাতে চাইলে স্প্যানের দৈর্ঘ্য বা খুঁটি থেকে খুঁটির দূরত্ব বেশি হতে হবে। এজন্য ঝুলন্ত সেতুর প্রচলন হয়েছে। আবার পাহাড়ি এলাকায় দু’টা উঁচু প্রান্তের সংযোগ স্থাপনের জন্যও ঝুলন্ত সেতু তৈরি করা হয়। বিভিন্ন পরিবেশ আর প্রয়োজনীয়তার কারণে সেতুর ধরন পাল্টে যায়।

বাতাসের ধাক্কায় সেতু ভেঙে যাওয়া
শুনতে একটু অবাক লাগলেও সত্যি যে স্রেফ বায়ুপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট কম্পনে ভেঙে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেকোমা ন্যারোজ ব্রিজ। সেটা ১৯৪০ সালের কথা। একটি নির্দিষ্ট কম্পাংকে সেতুটি কেপে ওঠার ফলেই সেতুটি ভেঙে পড়েছিল, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে অনুনাদ।



পানি সেতু
জার্মানির এলবা (Elbe) নদীর ওপর তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এই সেতু। নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজের পথ সংক্ষিপ্ত করতে তৈরি হয়েছে এই সেতু। সেতুর ওপর দিয়ে গড়ির বদলে জাহাজ চলাচল করে আবার পায়ে হেঁটেও পার হওয়া যায় এই সেতু।



ইটের তৈরি সেতু
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানির স্যাক্সনি ও বাভারিয়া রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ইটের তৈরি সেতু নির্মিত হয়েছিল। ইট দিয়ে তৈরি সেতুগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।




ড্রব্রিজ বা টানা সেতু
ড্রব্রিজের সূচনা অবশ্য বহু আগেই হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় দুর্গের চারপাশে খাল খনন করে দুর্গের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হত। খালের ওপর একটি সেতু রাখা হত দুর্গে প্রবেশের জন্য। শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে সে সেতু আবার টেনে তুলে রাখার ব্যবস্থা থাকতো।  

তবে আধুনিককালে ড্রব্রিজ বা টানা সেতু তৈরি করা হয় অন্য কারণে। মাটি ভরাট না করে সেতু তৈরি করা হয় যাতে সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারে। কিন্তু সেতু নিচু হয়ে গেলে বড় এবং উঁচু নৌযান চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় সেতু নির্মাণের কারণে বড় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যা এড়াতে সেতুর উচ্চতা বাড়াতে হয়, দু’পাশের সংযোগ সড়কও উঁচু করে তৈরি করতে হয়। যেটা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ড্রব্রিজ। জাহাজ এলে সেতু টেনে তোলা হয়, জাহাজ চলে গেলে আবার সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারে।

আমস্টার্ডাম ড্রব্রিজ




মিশিগান সিটি ড্রব্রিজ যেভাবে দু’ভাগ হয়ে নৌযানকে সুযোগ করে দেয়

Post A Comment: