Decrease fontEnlarge font
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে বলকান উপদ্বীপে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। অতীতে এটি যুগোস্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রের অংশ ছিল। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বসনিয়া ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে স্বাধীনতা লাভ করে। 

ইউরোপে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বিরল। তুরস্কের পরে ইউরোপে বসনিয়াই একমাত্র দেশ যেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দীর্ঘদিনের শোষণ ও বলকানদের নির্মম নির্যাতনে পর্যদুস্ত বসনিয়া গত কয়েক বছর যাবৎ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

বসনিয়ার মোট জনসংখ্যা ৪৮ লাখ। দেশটির প্রায় ৪৩ শতাংশ জনগণ মুসলমান। কমিউনিস্ট শাসনাধীন সাবেক যুগোস্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রের অংশ থাকাকালে বসনিয়ায় মুসলিম নারীদের হিজাব ও ধর্মকর্ম নিষিদ্ধ ছিল।

বসনীয়দের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকে ৮০০ এর অধিক বেশি মসজিদ সার্ব ও ক্রোটরা ধ্বংস করে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ রয়েছে। এসবের মাঝে ১৫৮৩ সালে নির্মিত ফরহাদিয়া জামে মসজিদ, ফোসা এলাকায় সুলতান বায়েজিদ রাজকীয় মসজিদ, আলাদজার মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সেই বসনিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আসন্ন। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এমনই একটি প্রচারণায় গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের (Alija Izetbegovic) পুত্র বাকির ইজেতবেগোভিচ (Bakir Izetbegovic)। 

সেব্রেনিচা (Srebrenica) শহরের একটি মার্কেটে প্রচারণায় গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করছিলেন। এমন সময় মাগরিবের আজান ভেসে আসে পার্শ্ববর্তী মসজিদ থেকে।

আজান শেষে উপস্থিত লোকেরা নামাজের জন্য দাঁড়ালে তিনি ইমামতি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে উপস্থিত সবাই অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তাকে নামাজ পড়ানোর সুযোগ দেন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাকির ইজেতবেগোভিচও সাবলীলভাবে নামাজ শেষ করে মুসল্লিদের নিয়ে মোনাজাত করেন। 

নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন, ইসলামের স্বর্ণযুগের নেতারা তো এমনই ছিলেন। শুধু যুদ্ধক্ষেত্র বা রাষ্ট্র পরিচালনায় নয়, নামাজের ইমামতিতেও তারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা তার মাঝে ভবিষ্যত নেতার গুণসমূহ দেখতে পাচ্ছি। আশা করি, তিনি নির্বাচিত হবেন। দেশবাসী তার দ্বার উপকৃত হবে। 

-ওয়ার্ল্ড বুলেটিন অবলম্বনে

Post A Comment: