অনেক গুলো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সমন্বয় হল কম্পিউটার। কম্পিউটার চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে নি এমন ব্যবহারকারী খুজে পাওয়া দুস্কর। নতুন ব্যাবহারকরীর কাছে সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমের ছোট-খাটো সমস্যাগুলোই বড় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটু সর্তকতা ও সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে কম্পিউটারের অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
কম্পিউটার গতিশীল ও ভালো রাখার কয়েকটি কৌশল -
 
১. কম্পিউটারে কাজ করার সময় উইন্ডোজ অনেক অস্থায়ী ফাইল তৈরি করে যা পরবর্তীতে উইন্ডোজ নিজে মুছে ফেলতে পারে না। এই ফাইলগুলো নিয়মিত মুছে দিতে হয়। অস্থায়ী ফাইল (Temporary File) সমূহ মোছার জন্য Start থেকে Run এ গিয়ে  temp, %temp% কিংবা prefetch লিখে এবং যে ফাইল সমূহ আসে তা কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই মুছে ফেলা ভাল। এই কাজটি তিন দিনে অন্তত একবার করা উচিৎ।
২. Temporary File সমূহ মুছে ফেলার আর একটি সহজ কৌশল হল Start থেকে Run এ গিয়ে  cleanmgr ( ক্লিন ম্যানেজার) লিখে OK দিলে Select Drive নামের একটি ডায়ালগ বক্স আসবে । Select Drive থেকে একটি ড্রাইভ সিলেক্ট করে Ok করি।
 Disk Cleanup for (C) নামের যে বক্সটি আসবে এখান থেকে Files To delete এর নিচে যা যা আছে প্রতিটায় টিক চিহ্ন দিয়ে Ok করি। এভাবে প্রতিটা ড্রাইভ আলাদা আলাদা ভাবে সিলেক্ট করে অন্তত সপ্তাতে একবার মুছে করি। তাহলে কম্পিউটার ফাস্ট থাকবে।
৩. হার্ডডিস্ক ভাল রাখার জন্য নিয়মিত Disk Defragment করা উচিৎ। হার্ডডিস্ক এ দুটি সিস্টেমে ডাটা থাকতে পারে –
 
(ক) FAT (File Allocation Table)
(খ) NTFS (New Type File System)
 
ফাইল যে সিস্টেমেই থাকুক না কেন। নিয়মতি ডিক্স ডিফ্রাগমেন্ট করলে হার্ডডিস্ক তার সমস্ত ডাটা সমূহকে পুনর্বিন্যাস করে রাখে নতুবা দিনে দিনে হার্ডডিস্ক দুর্বল ও নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে । নিয়মিত ডিফ্রাগমেন্ট করলে হার্ডডিস্কের Bad sector (ব্যাড সেক্টর) পরার সম্ভাবনা ৯০% পর্যন্ত কমে যায়।
Start বটনে ক্লিক করে Programs এ গিয়ে Accessories এ ক্লিক করে Systems tools এ গিয়ে Disk Defragmenter এ ক্লিক করি এবং এখান থকে ড্রাইভ সমূহ সিলেক্ট করে Defragment এ ক্লিক করি। মাসে অন্ততপক্ষে দু’বার ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট করা দরকার।
৪. উইন্ডোজের একটি বড় সমস্যা হল হ্যাং করা যা লিনাক্স বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে হয় না। পিসি কোনো কারণে ধীরগতি বা হ্যাং করলে Alt + Ctrl + Delete একসাথে চেপে End task দিয়ে চেস্টা করে দেখা যেতে পারে। চেষ্টা করি যাতে সিপিইউ থেকে Reset/Restart  চাপার প্রয়োজন না হয়। Reset/Restart চাপা ও হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে যাবার কারনে উইন্ডোজ এর সিস্টেম ফাইল মিসিং হয়ে যেতে পারে।  এরকম হলে একমাত্র সমাধান হল নতুন করে উইন্ডোজ সেট-আপ দেয়া।
 
৫. সি ড্রইভ (Windows default drive) এর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সমূহের একটা ব্যাকআপ রাখা জরুরি। কোনো কারণে অপারেটিং সিস্টেম ফল্ট করলে হার্ডডিস্ক এর মূল্যবান ফাইল যাতে হারিয়ে না যায়।
 
৬. ল্যাপটপ কম্পিউটার বেশ কিছুদিন ব্যাবহার না করা হলে ব্যাটারী খুলে রাখবেন। তাহলে ল্যাপটপের ব্যাটারী দীর্ঘস্থায়ী হবে।
 
৭. একসাথে একাধিক এবং ডেমো ভার্সনের এন্টিভাইরাস চালানো পিসির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
 
৮. ত্রুটিপূর্ণ পাওয়ার সাপ্লাই ও ইলেকট্রিক লাইনে পিসি চালানো উচিৎ না।
 
৯. অনেক সময় ধুলোময়লা থেকে মাদাবোর্ডের আইসি, প্রসেসরের কুলিং ফ্যান ও অন্যান্য ডিভাইস নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই কম্পিউটার নিয়মিত মুছে রাখা ভাল।
 
১০. পোর্টেবল ডিভাইস, পেন ড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি ও মেমরী কার্ড আপনার পিসির সাথে সংযুক্ত করার পর ভাইরাস চেক করা দরকার। পোর্টেবল ডিভাইস, পেন ড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি ও মেমরী কার্ড পিসির সাথে সংযুক্ত করার পর  My Computer থেকে সরাসরি না গিয়ে Explore দিয়ে ঢুকলে ভাইরাস আক্রমন করতে পারে না । এক্সপ্লোর করার পদ্ধতি হল My Computer এর উপর মাউসের রাইট বটন ক্লিক করে Explore এ ক্লিক করি। এরপর বামপাশের ট্যাবগুলো থেকে ডিভাইসটির ভিতরে প্রবেশ করি। এক্সপ্লোর এর  শর্ট-কাট কী হল Windows Key + E অথবা Address Bar থেকে প্রবেশ করি।
 
১১. ই-মেইল বা ফেসবুক থেকে অযাচিত কোনো লিংক ক্লিক না করাই ভাল। উক্ত লিংকটি একটা ভাইরাস কিংবা আপনার ইন্টারনেট সিকিউরিটি জন্য বিপদজনক হতে পারে।
 
১২. কম্পিউটারের ডাটা ক্যাবল অথবা যে কোনো প্রকার কানেকশনের জন্য জোরাজুরি না করাই ভাল। কম্পিউটারের সিরিয়াল পোর্ট, প্যারালাল পোর্ট, পিএস-টু, ইউএসবি কিংবা যে কোনো প্রকার মেইল ফিমেইল পোর্টের সাথে পোর্ট না মিললে কাজ করবে না। অহেতুক জোরাজুরি করলে পোর্টটি চিরতরে বিকল হয়ে যেতে পারে।

Post A Comment: