সম্পর্কে প্রতারণাকে এককথায় বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কী বলা যায়? যদি বিয়ের পরের কথা ধরি—হঠাৎ করেই কিন্তু বৈবাহিক বন্ধনে চির ধরে না। এই ঝড়ের সূত্রপাত হয় ধীরে ধীরে। একপর্যায় যা বড় আকার ধারণ করে। আর এই সমস্যার সমাধানে তখন দম্পতি খুঁজে নেয় চিরস্থায়ী ভাঙনের পথ।
অনেকক্ষেত্রে সম্পর্ক ভাঙনের ছোট ছোট কারণগুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। চোখ এড়িয়ে যাওয়া এসব কারণ আপনিও তৈরি করছেন কিনা, মিলিয়ে নিন।


গোপন সম্পর্ক

বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক সম্পর্ক থাকে। বন্ধু, সমমনা বা প্রিয় সহকর্মী—যাদের সঙ্গে আমাদের ভাব আদান-প্রদান, হাসি-ঠাট্টা ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া নেওয়া হয়।

যেকোন সুস্থ মানুষের পক্ষেই এই কার্যকলাপ সহজাত। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত তখনই ঘটে, যখন এই সম্পর্কগুলোকে আমরা আবেগের চাহিদা মেটানোয় ব্যবহার শুরু করি।

সেক্ষেত্রে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি শুধু এমন কিছুই করছেন—যা আপনার সঙ্গী সহজে মেনে নিতে পারবে, বা বিষয়টি সম্পর্কে সে আগে থেকেই অবগত? উত্তর যদি ‘না’ হয়—ধরে নিন আপনি ভুল পথে এগুচ্ছেন।



টাকাপয়সা বিষয়ে গোপনীয়তা

একটি গবেষণায় এক হাজার দম্পতিকে তাদের দৈনিক ঝগড়া-বিবাদের কারণ জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ দম্পতির বিবাদের কারণই টাকাপয়সা সংক্রান্ত।

অর্থাৎ দম্পতিরা নিজেদের টাকাপয়সা কে কোন খাতে ব্যবহার করছে, কত পাচ্ছে, নেতিবাচক পথে ব্যয় কিংবা কোনো প্রাইভেট অ্যাকাউন্টে জমাচ্ছে কিনা—ইত্যাকার বিষয়ে সঙ্গীর সঙ্গে অস্পষ্টতা রাখা।

এমন পরিস্থিতিতে  নিজেকে সংশোধন করুন।


জনসম্মুখে অপদস্থ করা

বুঝতেই পারছেন, কী বলা হচ্ছে। পাবলিক প্লেসে সঙ্গীর প্রতি এমন কোনো বক্তব্য ছুঁড়ে দেবেন না, এমন কোনো অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ করবেন না যাতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। এতে নিজেদের মধ্যকার প্রাইভেসি নষ্ট হয়।


সঙ্গীর সম্পর্কে অন্যের কাছে নালিশ

অন্য কারো কাছে স্বামী বা স্ত্রী সম্পর্কে নেতিবাচক কথা, যেমন—সে অনেক অলস, গম্ভীর, অপদার্থ, নিরামিষ ইত্যদি বলা উচিৎ নয়। এটা শুধু আপনার সঙ্গীর জন্যই নয়, আপনার জন্যও সমানভাবে অসম্মানজনক।

তবে বড় কোনো সমস্যা থাকতেই পারে, যেটা একা সমাধান করা যায় না। সেক্ষেত্রে সঙ্গীর অনুমতি নিয়ে ভালো কোনো থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।



ইমোশোনাল ডিজওনেস্টি

না চাইলেও অনেক সময় আমরা এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ি। ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি হলেও মুখে বলি—ভালো আছি। রাগ বা কষ্ট লুকাতে এমনটা অনেকেই বলেন। এ পর্যন্ত ঠিক আছে।

কিন্তু এমন যদি হয়, আপনি যে কাজটি করছেন তা সম্পূর্ণ ভুল ও অন্যায় এবং আপনি নিজেও তা বুঝতে পারছেন। অথচ নিজেকে এবং আপনার সঙ্গীকে ঘটনাটির ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দিচ্ছেন। এ কর্মকাণ্ডকে বলা হয় ইমোশোনাল ডিজওনেস্টি। এটা ছাড়ুন।


স্বার্থপরতা

প্রয়োজনবোধে মানুষকে কখনো কখনো স্বার্থপর হতে হয়। কিন্তু সবসময় কেউ যদি এই একই কাজ করতে থাকে, তাহলে পাশের মানুষটির মনে হতেই পারে—স্বার্থপরের সঙ্গে বসবাস আর একা থাকা সমান।

আপনি স্বার্থপর কিনা? কেউ যখন শুধুমাত্র নিজেকে নিয়েই সচেতন, পাশের মানুষটির ভাবনা ও অনুভূতি তাকে আর নাড়া দিচ্ছে না—সহজেই চিনে ফেলুন, এটাই স্বার্থপরতা।



ঠকাচ্ছেন কি?

একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার সঙ্গীকে আপনি সবসময় সত্য বলছেন? কী কী লুকাচ্ছেন তার কাছ থেকে? তার প্রতি আপনার আবেগ-অনুভূতিই বা কতটুকু? একটু ভাবুন।

সত্য বলুন। যত অপ্রিয়ই হোক না কেন, সত্যের আলাদা শক্তি আছে। যা সবকিছুকে একসময় সহজ করে দেয়। যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, স্বচ্ছ থাকুন নিজের ও প্রিয় মানুষটির কাছে।


প্রয়োজনেই কেবল তুমি!

যদি এমনটা হয়, যতক্ষণ আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারছে, ততক্ষণই তার কদর। এর বাইরে তার চিন্তা, তার কথার কোনো মূল্য আপনার কাছে নেই। তাহলে বলতে হয়, বেশ নড়বড়ে সম্পর্কের ওপর ভর দিয়ে আছেন।

দাম্পত্য কেবল প্রয়োজনের বা একতরফা নয়। দাম্পত্য দু’টি আত্মার অন্তিম চাহিদা। সঙ্গীকে প্রয়োজন মেটানোর যন্ত্র ভাবা বন্ধ করুন।

Post A Comment: