২০১৪ সালে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায় বলিউডের শীর্ষ তারকাদের তালিকায় ১ম স্থানে রয়েছেন সালমান খান। এই ১ম স্থানে আসতে তাকে অনেক চরাই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। এই সালমান খানই ছোটবেলায় সাঁতারু হিসেবে দেশের বাইরে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। সেই সালমান খান কিভাবে বলিউডের শীর্ষে চলে এলেন? এই পেজটিতে সালমান খানের সেই জীবনের তথ্যই তুলে ধরা হয়েছে।



জন্ম ও পরিবার:
১৯৬৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করে সালমান খান। তার পিতার নাম  সেলিম খান ও মা সুশীলা চরক। সালমান খানের বাবা পাঠান, মা হিন্দু।  সালমান খানের পিতা সেলিম খান ছিলেন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার। এক সময় তিনি পুলিশেও চাকরি করেন। সালমান খানের মা সুশীলা চরক ছিলেন তার পিতার প্রথম স্ত্রী। ১৯৬৪ সালে তার বাবা মায়ের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তার বাবা এক সময়ের পর্দা-কাঁপানো বলিউডের অভিনেত্রী হেলেন - কে বিয়ে করেন। ১ম সংসারে সালমান খান সহ আরবাজ, সোহেল ও আলভিরা নামে আরও দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এছাড়া ২য় সংসারে তার বাবা অর্পিতা খানকে দত্তক নেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সালমান খান সবার বড়। সেলিম-সুশীলা দম্পতির বিয়ের এক বছর পর তাদের ঘর আলোকিত করে আসেন ‘আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান’। জন্মের সময় তার বাবা-মা ই সালমান খানের এতো লম্বা নাম রাখেন।
পড়াশোনা:
বলিউডের বেশ কিছু মহারথী রয়েছেন যারা পড়াশোনার দিক দিয়ে খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি। বলিউডের নাম্বার ওয়ান সালমান খানও রয়েছেন এই তালিকায়। সালমান তার ভাইদের সাথে গোয়ালিয়ারের স্কিন্দিয়া স্কুল ও বান্দ্রার সেন্ট স্ট্যানিসলাউস স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। এরপর আর বেশিদুর পড়াশোনা করা হয় নি সালমান খানের। 

সাঁতারু সালমান:
বলিউডের এক নম্বর হিরো সালমান খানের ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল সাঁতারু হওয়ার। সেই লক্ষ্যে নিজেকে ঠিকঠাকভাবে গড়ে তুলেছিলেন। স্কুলজীবনে অনেকবার সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড রয়েছে সালমান খানের। এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের বাইরেও গিয়েছেন। তাহলে কি এমন ঘটেছিল যার কারণে সাঁতার থেকে একেবারে চলে এলেন ফিল্ম জগতে? তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার বাবা ছিলেন রূপালি জগতের মানুষ। তাই এই জগতের প্রতিও তার এক ধরনের দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতার টানেই রূপালি জগতে নাম লেখান সালমান খান। কিন্তু সাঁতারের প্রতি তার ভালোবাসা একটুও কমেনি। এখনও সময় পেলেই সুইমিংপুলে নেমে ডানা ঝাপটাতে ভুল করেন না সালমান খান।

অভিনয় জীবনের শুরু:
আগেই বলেছি সালমান খানের বাবা সেলিম খানও ছিলেন রূপালি জগতের মানুষ। এই জগতে তার ভালো নামডাকও ছিল। কিন্তু তার ছেলে সালমান খান অভিনয় জীবন শুরুর আগে যখন তিনি জীবন সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন তখন তিনি কখনো তার বাবার নাম ব্যবহার করেননি। তিনি বিভিন্ন প্রযোজকের কাছে গিয়ে চরিত্রের জন্য অডিশন দিতেন। শুরুর দিকে সালমান খান স্ক্রিপ্ট রাইটারেরও কাজ করেছেন। অবশেষে সালমান খানের বলিউড যাত্রা শুরু আশির দশকের শেষে, ২৩ বছর বয়সে। ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে রূপালি পর্দায়। পরের বছরই মুক্তি পায় তাঁর সাড়াজাগানো ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’। সেখানে ‘প্রেম’ চরিত্রে অভিনয় করে হাজারো তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে রীতিমতো ঝড় তোলেন সালমান। ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় প্রশংসিত হয় নানামহলে। এই ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ‘সেরা নবাগত অভিনেতা’ হিসেবে ঘরে তোলেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। একইসাথে বছরের ‘সেরা অভিনেতা’ হিসেবে পান মনোনয়ন।

এরপরের ঘটনা সবারই জানা। ‘সাজন’ ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘আন্দাজ আপনা আপনা’, ‘করণ অর্জুন’, ‘খামোশি’, ‘হাম দিল দে চুকে সোনম ও ‘তেরে নাম’ ছবিগুলো যেন তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। বেশকিছু ছবিতে তাঁকে দর্শকরা পেয়েছেন অতিথিশিল্পী হিসেবে। মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন; তবে সবকিছু কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করে গেছেন বরাবরই।  

জীবনের আলোচিত বিষয়:
সালমান খানের জীবনে আলোচিত বিষয়ের কোনো অভাব নেই। তবে অভিনয় জীবনের শুরুর দিকের একটা ঘটনার কথা না বললেই নয়। নব্বইয়ের দশকে শাহরুখ খানের ‘বাজিগর’ ছবিটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এই ছবিটির মাধ্যমেই শাহুরখ খান বলিউডে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বলিউডে একটি পাকাপোক্ত স্থান তৈরি করে নেন শাহরুখ। কিন্তু এই ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রথম সালমান খানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নেতিবাচক চরিত্র হওয়াতে প্রস্তাবটি সেসময় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সালমান খান।

সালমান খানের দর্শকপ্রিয় কিছু জনপ্রিয় চরিত্র:
আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪)
কমেডি চরিত্র প্রেম এর ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এ ছবিতে আমির খানের সঙ্গে অভিনয় করেন সালমান। ছবিতে দুজনের উদ্দেশ্য ছিল ধনী বউ বিয়ে করা।
হাম আপকে হ্যায় কৌন  (১৯৯৪)
মাধুরী দিক্ষীতের বিপরীতে প্রেম চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান।
খামোশি (১৯৯৬)
প্রথমবারের মতো সালমানের সঙ্গে কাজ করেন সঞ্জয়লীলা বানসালি। খ্রিস্টান মেয়ের প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেন যুবক সালমান।
জড়োয়া (১৯৯৭)
এই ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রেম ও রাজা জমজ দুই ভাই। জন্মের পরপরই বিচ্ছেদ ঘটে তাদের মধ্যে। ধনী পরিবারের সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠেন প্রেম। মুম্বাইয়ের বাউন্ডেলের যুবক হিসেবে বেড়ে ওঠেন রাজা।
হাম দিল দে চুকে সানাম (১৯৯৯)
সঞ্জয়লীলার আরেকটি চিরায়ত প্রেমের ছবি। সংগীতপ্রেমী সামিরের চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান। যিনি তার গুরুর মেয়ে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমে পড়েন।
তেরে নাম (২০০৩)
সালমান খানের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ছবি। সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এ ছবিটি সমালোচকদের বহুল প্রশংসা পেয়েছে। রাধে মৌহান নামক এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান। দুর্বৃত্তদের আঘাতে স্মৃতিভ্রস্ট হন রাধে। স্মৃতি ফিরে পাওয়ার পর প্রেমিকাকে খুঁজতে শুরু করেন রাধে। কিন্তু একটু দেরিই হয়ে যায় তার। অন্য আরেকজনকে যাতে বিয়ে করতে না হয় তাই আত্মহত্যা করে রাধের প্রেমিকা(ভূমিকা চাওলা)।
দাবাং (২০১০)
এই তালিকার শীর্ষেই আছে পুলিশ অফিসার চুলবুল পান্ডে। তার দৃঢ় পেশী, স্টাইলিশ চলাফেরা, সেন্স অব হিউমার সবকিছু মিলেই সালমান সবার জনপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
বডিগার্ড (২০১১)
কঠোর চরিত্র লাভলি সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন সালমান। নিজের জীবন উৎসর্গ করে ধনীকন্যা শেরাকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।
এক থা টাইগার (২০১২)
তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী রো এজেন্টের চরিত্রে কাজ করেন সালমান। সারাবিশ্বে ৩০৭ কোটি রুপি আয় করে ছবিটি। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে আয় করার ছবির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান করে নেয় (প্রথম ‘থ্রি ইডিয়টস’)।

সালমানের জীবনে বলিউডের নায়িকাদের অবদান:
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক নায়িকার সাথেই নায়ক হিসেবেই অভিনয় করেছেন সালমান খান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের সাথে সালমান খানের জীবনের কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।
ভাগ্যশ্রী
বলিউড অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীকে বলা হয় সালমানের ভাগ্যের চাকা। ১৯৮৯ সালে ‘মেনে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে তারা দুজন অভিনয় করেন। ছবিটি ’ ব্লক ব্লাস্টার হিট করে।  ঘুরে যায় সালমানের ভাগ্যে চাকা। অভিনয় ক্যারিয়ারে তার সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় এ ছবির মাধ্যমে। বলিউডে এ ছবির সাফল্যের ধারাবহিকতা বজায় রেখে সালমান  খান সুপ্রতিষ্ঠিত হলেও অভিনয় থেকে ঝরে পড়েন নায়িকা ভাগ্যশ্রী।
মাধুরী দীক্ষিত
অপরূপ সুন্দর ও মায়াবী হাসির অধিকারী মাধুরী দীক্ষিতকে বলা হয় বলিউডের সর্বকালের সেরা সুন্দরী। সালমান খানের ক্যারিয়ারেও রয়েছে তার অবদান। সালমান খান তখন সবেমাত্র নবীন অভিনেতা হিসেবে বলিউডে প্রবেশ করেছেন। আর সেই সময় মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সালমানের সঙ্গে অভিনয়ে তিনি সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দিতে বিন্দু পরিমান কার্পন্য করেন নি। ১৯৯১ সালে ‘সাজান’ ও ১৯৯৪ সালের ‘হাম আপকে হে কৌন’ ছবি দুটোতে মাধুরীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন সালমান। ব্যবসা সফল এ পারিবারিক বিনোদনের এ দুটি ছবি দর্শকদের মনে এখনো দাগ কেটে আছে।
ঐশ্বরিয়া রাই
সালমান ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল চুকে সানাম’ ছবিতে অভিনয় করে পায় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। এ ছবিতে অভিনয় করার সময় বাস্তবজীবনেও তারা হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ছবিটির সাফল্যের বেশির ভাগটা ভোগ করেন ঐশ্বরিয়া।  তাকে একের পর এক নতুন ছবিতে দেখা যায়। প্রেমের টানাপোড়েনে খুব বেশি দিন ঐশ্বারিয়া আর সালমান একসঙ্গে থাকতে পারেননি। স্ক্রিনে এ জুটিকে দর্শকরা বার বার দেখতে চাইলেও এটাই ছিল একসঙ্গে অভিনীত তাদের শেষ ছবি।
কারিশমা কাপুর
সালমান খান ও কারিশমা কাপুরের মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল সবচেয়ে ভালো। ১৯৯৭ সালে ‘জুডোয়া’, ১৯৯৯ সালে ‘বিবি নম্বর ওয়ান’ এবং ২০০০ সালের ’দুলহান হাম লে জায়েঙ্গে’ ও ‘চল মেরে ভাই’ ছবিতে সালমানের পার্টনাম ছিলেন কারিশমা কাপুর। এ জুটি অভিনীত ছবিগুলো ভক্তদের দারুন আনন্দ দেয়।  
সুস্মিতা সেন
মিস ইউনিভার্স সুস্মিতার সঙ্গে চমৎকার এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে সালমান খানের। এই বন্ধুত্বের বন্ধন আজও তাদের মধ্যে বজায় রয়েছে। ২০০৫ সালে ডেভিড ধাওয়ানের ‘মেনে পেয়ার কিউ কিয়া’ ছবিতে তাদের ক্যামিস্ট্রি ভক্তরা সাদরে গ্রহন করে। সুস্মিতার ক্যারিয়ারের হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসা সফল ছবির মধ্যে এটি অন্যতম।
রানী মুখার্জি
রোমান্টিক এক্সপ্রেশনের দিক দিয়ে রানী মুখার্জির জুড়ি মেলা কঠিন। ২০০১ সালে ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ ছবিতে সালমান ও রানীর রোমান্টিক ভঙ্গি সবার নজর কাড়ে। এছাড়াও ’হ্যাল্লো ব্রাদার’, ’হার দিল জো পেয়ার কারে গা’ ও ‘ বাবুল’ সহ আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে এ জুটিকে দেখা যায়।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সালমান খানকে দেখা যায় ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মুজসে সাদি কারোগে’ ছবিতে এবং ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গড তুসি গ্রেট হো’ ছবিতে। অবশ্য পর্দার বাইরে তাদের দুজনের মধ্যে মান-অভিমান এবং ভালোবাসা-ঘৃনার নানা গুঞ্জন। তবে পর্দায় এ জুটিকে স্বাচ্ছন্দ্য ভঙ্গিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে সবসময়।
প্রীতি জিনতা
২০০০ সালের ‘হার দিল জো পেয়ার কারেগা’ ও ২০০১ সালের ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ ছবি সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে তারা অভিনয় করেছেন। দুজনের মধ্যকার কিছু সমঝোতায় একে অপরের বিপরীতে কাজের ক্ষেত্রে বেশ সহযোগিতা করেছে।
কারিনা কাপুর
২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বডিগার্ড’ ছবির মাধ্যমে এই জুটি তাদের মধ্যে যে ক্যামিস্ট্রি রয়েছে তার প্রমাণ দিয়েছেন। তার ফলস্বরূপ সেরা জুটির পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন তারা। ২০০৫ সালের ’ কিউ কি’ ছবিতে তারা একসাথে অভিনয় করেন।
ক্যাটরিনা কাইফ
সালমান-ক্যাটরিনা জুটির কোনো ছবিই দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে নি। তারপরও প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে সালমানের জীবনে ক্যাটরিনার কিছুটা অবদান রয়েছে। তবে বলিউড বোদ্ধারা মনে করেন নতুন ছবিতে দর্শক এই জুটিকে গ্রহণ করে নিবেন।   

২০১৪ সালের সেরা বলিউড তারকা:
৪৮ বছরে এসেও বলিউড সেরার তকমাটি এখনো নিজের দখলেই রেখেছেন সালমান। সর্বশেষ ২০১৪ সালের এক জরিপে তিনি সবার শীর্ষে রয়েছেন। ‘সেলেবেক্স’ নামের এক বিখ্যাত জরিপ সংস্থার জরিপে তিনি এই সেরার তকমাটি পান। এর জরিপটি করা হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সালমানের পরের স্থানেই রয়েছে অমিতাভ বচ্চন এবং তার পরের স্থানে রয়েছে শাহরুখ খান।


গায়ক সালমান:
সালমান খান শুধু অভিনয়ই করেন না। দুই-একটি গানে কন্ঠ দেওয়ারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সর্বপ্রথম ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হ্যালো ব্রাদার’ ছবিতে ‘চান্দি কি ডাল পার’ গানটিতে কন্ঠ দেন সালমান। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বডিগার্ড’ ছবির টাইটেল গানটিতে কন্ঠ দেন সালমান খান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া 'হিরো' ছবিতে একটি গানে কন্ঠ দেন।

সালমান খানের কিছু ফ্লপ ছবির তালিকা:
বীর
জাঁকজমকপূর্ণ প্রমোশন এবং বড় বাজেটের ছবি হওয়া সত্ত্বেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরে সালমান-জারিন অভিনীত ‘বীর’ ছবিটি। আকর্ষণীয় শিরোনাম, নতুন মুখ জারিনকে নিয়েও আলোর মুখ দেখতে পারেনি সালমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই চলচ্চিত্রটি। ব্যয়বহুল সেট, ঐতিহাসিক পক্ষাপটের উপর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও সাধারণ ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়।
যুবরাজ
সালমানের বহুল আলোচিত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম যুবরাজ চলচ্চিত্রটি। সালমান-ক্যাটরিনার প্রেমের জ্বরে তখন আক্রান্ত পুরো বলিউড পারা। শুধু তাই নয় ‘তাল’র মতো চলচ্চিত্র উপহার দেয়া সুভাষ ঘাইয়ের পরিচালনাও ধরে রাখতে পারেনি দর্শককে। অর্থের মোহে তিন ভাইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়নই চলচ্চিত্রটির মুল উপজীব্য। আনিল কাপুরের অনবদ্য অভিনয় দর্শক এবং সমালোচকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পালেও সুবিধা করতে পারেনি বক্স অফিসে।
লন্ডন ড্রিমস
হলিউড চলচ্চিত্র ‘রেইন ম্যান’র কাহিনী অবলম্বণে ভিপুল শাহ নির্মাণ করেন ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘লন্ডন ড্রিমস’। সালমান খান এবং অজয় দেবগানের মতো খ্যাতনামা তারকাদের নিয়েও চলচ্চিত্রটি সফলতার মুখ দেখতে পারেনি। পরিচালক ভেবেছিলেন প্রথমবারের মতো অসিন-সালমান জুটি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কিন্তু এই জুটির প্রথম চলচ্চিত্রটি সফলতার মুখ না দেখলেও পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘রেডি’ ছিল ব্যবসা সফল।
মে অর মিসেস খান্না
সালমান খান, কারিনা কাপুর এবং সোহেল খানের মতো নামকরা তারকা থাকা সত্ত্বেও দুর্বল চিত্রনাট্য, সার্বিক উপস্থাপনার কারণে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেনি চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রটি ফ্লপ করার পর সালমান খান একপ্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েই বসেন কারিনার সাথে আর ছবি নয়। কিন্তু পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সালমান খান কারিনা কাপুরের সাথে উপহার দেন ব্লকবাস্টার হিট ‘বডিগার্ড’ ছবিটি।
ইয়ে হে জালবা
সালমান খান আমিশা পাটেলের সাথে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ‘ইয়ে হে জালবা’ চলচ্চিত্রটিতে। আর এই ছবিটিও হয় সুপারডুপার ফ্লপ। ঋষি কাপুরের মতো ক্ষমতাধর অভিনেতা থাকা সত্তেও চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। চলচ্চিত্রটি ফ্লপ হওয়ার পেছেনে মূলত পরিচালনা এবং দুর্বল চিত্রনাট্যই মূল কারণ।

সালমান খানের যত প্রেমিকা:
প্রেম-ভালোবাসার মাঠে বরাবরই আলোচিত সালমান খান। দেখতে দেখতে জীবনের অনেকটা বসন্ত পার করলেও জীবনসঙ্গীনির দেখা এখনও তিনি পান নি। তবে তার জীবনে এগার জন প্রেমিকা এসেছেন বলে জানা যায়। এদের কাউকেই সালমান জীবন সঙ্গীনী করতে পারেননি।
সঙ্গীতা বিজলানি
মিস ইন্ডিয়া সঙ্গীতা বিজলানির সঙ্গে সালমানের প্রেম ছিল আশির দশকের শেষ দিকের মুখরোচক কাহিনি। সঙ্গীতাকে বিয়ে করবেন বলে মনস্থির করে ফেলেছিলেন সালমান। কিন্তু, নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই ভেঙে যায় সম্পর্ক। এখনো সঙ্গীতা-সালমান ভালো বন্ধু। চলতি বছরের শুরুতে সাবেক ক্রিকেটার আজাহারউদ্দিনের সঙ্গে সঙ্গীতার বিবাহ বিচ্ছেদের সময় সঙ্গীতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সালমান।
সোমি আলি
সঙ্গীতার সঙ্গে বিচ্ছেদেক পর সোমিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন সালমান। তখন সদ্য বলিউডে পা রেখেছেন সোমি। সম্পর্ক ভাঙায় সালমান ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিলেন নেশায়। সালমানের মদের নেশা, চিৎকার-চেঁচামেচি সহ্য করতে পারেননি সোমি। ছয় বছর সম্পর্কে থাকার পর ১৯৯৯ সালে সম্পর্ক ভেঙে যায় তাদের। দু`বছর আগে রেডি-র শুটিংয়ে সালমানের সঙ্গে সেটে দেখা গিয়েছিল সোমিকে। সালমানের এনজিও বিইং হিউম্যনের সঙ্গে যুক্ত সোমি।
ঐশ্বরিয়া রাই
সালমানের সবথেকে বিতর্কিত সম্পর্ক। হম দিল দে চুকে সনম ছবির সেটে ঐশ্বরিয়া সঙ্গে প্রেম হয় সালমানের। সেই প্রেমের পরিণতি সকলেরই জানা। বিচ্ছেদের পর ঐশ্বরিয়া পরিবার সালমানের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। অন্য প্রেমিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও ঐশ্বর্যর সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ সালমানের।
স্নেহা উলাল
ঐশ্বরিয়াকে ভুলতে পারেননি সালমান। তার মত দেখতে বোনের বন্ধু অষ্টাদশী স্নেহা উলালের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সালমান। একসঙ্গে ‘লাকি’ ছবিতে অভিনয় করলেও সম্পর্ক বেশিদূর এগোয়নি। বলিউড থেকেও হারিয়ে যান স্নেহা।
ক্যাটরিনা কাইফ
সালমানের শেষ সিরিয়াস প্রেমিকা ছিলেন ক্যাটরিনা। ২০১০ সালে ভেঙে যায় সম্পর্ক। যদিও এখনো ভালো বন্ধু তারা।
ক্লদিয়া সিয়েসলা
জানা যায় ক্যাটের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীনই জার্মান মডেল ক্লদিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সল্লু। পরিবারের সঙ্গে ক্লদিয়াকে আলাপও করিয়ে দেন। তারপরই ক্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে চিড়। ক্লদিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক যদিও এগোয়নি সালমানের।
জরিন খান
অ্যাশের মতোই ক্যাট হ্যাং থেকেও বেরোতে পারেননি সালমান। ‘বীর’ ছবিতে ক্যাটের মতো দেখতে জরিন খানকে নিয়ে আসেন সালমান। বেশ কুছুদিন সালমানের সঙ্গে সব জায়গায় দেখা যেত জরিনকে।
মেহেক চাহাল
ওয়ান্টেড ছবিতে সালমানের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল মেহেক চাহালকে। পরে সালমানের রিয়্যালিটি শোতেও অংশ নেন মেহেক। শোনা গিয়েছিল মেহেকের সঙ্গে  তার সম্পর্ক। কিন্ত পরে তা আর এগোয়নি।
ডেইজি শাহ
যখনই সালমান কোনো অভিনেত্রীকে বলিউডে এনেছেন, তার সঙ্গেই জড়িয়েছে সালমানের নাম। মেন্টালের জন্য সালমানের পছন্দ ডেইজি শাহও তার ব্যতিক্রম নন।
সানা খান
ডেইজির মতোই সানার সঙ্গেও জড়িয়েছেন সালমান। মেন্টালের সেটেই।

বিয়ে:
বিয়ে ব্যাপারটি সবার পছন্দের এই তারকা একটু এড়িয়েই চলেন।

মানব দরদী সালমান:
সালমান খান তার পারিশ্রমিকের শতকরা ৯০ ভাগই মানব সেবায় ব্যয় করেন। শুনে অবিশ্বাস করলেও কিছু করার নেই। বাবা সেলিম খানের কাছ থেকেই দাতব্য কাজের মতো মহৎ গুণটি পেয়েছেন সালমান। সত্যিকার অর্থে যাঁরা অভাবী তাঁদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে খুবই পছন্দ করেন সেলিম খান। বাবার পরামর্শ ও উৎসাহে অসহায় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সালমান। বর্তমানে সালমান তাঁর আয়ের সিংহভাগই খরচ করেন তাঁর বিয়িং হিউম্যান দাতব্য সংস্থার পেছনে।

নিজের সম্পদ সম্পর্কে তার নিজেরই ধারণা নেই:
দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বলিউডে আছেন সালমান খান। সম্মানের পাশাপাশি উপার্জন করেছেন কারি কারি অর্থ। কিন্তু মজার বিষয় সালমান কি পরিমাণ অর্থের মালিক তা সে নিজেই জানেন না। এমনকি তার কোনো ব্যাংক একাউন্টও ছিল না। সর্বশেষ কিছুদিন আগে (২০১৩ সালে) ব্যাংকের একাউন্ট খোলেন সালমান খান। ব্যাংকে একাউন্ট খোলার পর চেক বইয়ে সই করতে করতে অনেকটা বিরক্ত হয়ে পড়েছেন সালমান। অবশ্য শুরুর দিকে অনেকটা উৎসাহ নিয়েই চেক বইয়ে স্বাক্ষর দিতে সালমান খান।  

মামলা ও কারাদন্ডের মুখোমুখি:
২০০০ সালের ঘটনা। সেবার বলিউডের এই খান সাহেব নাইট ক্লাবে অতিরিক্ত মদ্যপান করে ভাঙচুর চালান। এক পযার্য়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে পাকড়াও করতে চাইলে সালমান দ্রুত গাড়ি নিয়ে কেটে পড়তে চান। কিন্তু কপাল পোড়া হলে যা হয়। দ্রুতগতি সম্পন্ন সেই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে একজন নিহত এবং চার জন গুরুতর আহত হন। মুম্বাই পুলিশ সে রাতেই সালমানকে আটক করে মামলা দায়ের করে। নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে আপিল করেছিলেন সালমান। কিন্তু আদালত আপিল খারিজ করে দিয়েছে এবং ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ৩০৪(২) ধারায় সালমানের বিচার কার্যক্রম চলবে।

অবশ্য সালমানের পক্ষ থেকে বরাবরই  দাবি করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। ২০০৫ সালে সালমানের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কোনো এক অজানা কারণে তাঁর প্রতি নমনীয় আচরণ করেন আদালত। বেপরোয়া ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে রায় দেওয়া হয়। এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মাত্র দুই বছরের কারাদণ্ড। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে সালমানকে কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি তোলা হয় মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে। পরে মামলার বিচার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে তাঁকে।

বলিউডে খানদের বিরোধ:
বলিউড পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন ‘তিন খান’। অর্থাৎ সালমান খান, শাহরুখ খান ও আমির খান। এদের মধ্যে আমির খানের সাথে কারো তেমন কোনো বিরোধ না থাকলেও সালমান খান ও শাহরুখ খানের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। অবশ্য এক সময় তাদের দুজনের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। ২০০৮ সালে ক্যাটরিনা কাইফের জন্মদিনে শাহরুখ-সালমান ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তারপর থেকেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন তারা। তবে ২০১৩ সালের রমজান মাসে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকির ইফতার পার্টিতে শাহরুখের দিকে আবারো বন্ধুত্বের হাত বাড়ান সালমান। পুরনো বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে দূর করেন সম্পর্কের শীতলতা।


হাতের সেই ব্রেসলেটের রহস্য:
সালমান খানের হাতে সবসময় ফিরোজা রঙের পাথর বসানো একটি ব্রেসলেট দেখা যায়। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে প্রিয় এই ব্রেসলেটটিকে হাতছাড়া করেন না সালমান। তার বাবাও এই ধরনের ব্রেসলেট পড়েন। পিতাপুত্র দুজনই মনে করেন ব্রেসলেটটি সৌভাগ্যের; আর তাই সবসময় সেটা হাতে পরে থাকেন তারা। তবে সমালোচকদের মতে এটি কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়।  

ভোজন রসিক সালমান:
চাইনিজ খাবার সালমান খানের পছন্দের শীর্ষে। আর মুম্বাইয়ের চায়না গার্ডেন রেষ্টুরেন্টটি সালমানের প্রিয় একটি রেষ্টুরেন্ট। এই খাওয়া দাওয়া নিয়ে সালমানের মজার একটি ঘটনা রয়েছে। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লন্ডন ড্রিমস’ ছবির কাজে লন্ডনে ছিলেন সালমান। লন্ডনের খাবার খেতে খেতে এক সময় খাবারের প্রতি বিরক্তি এসে যায় পুরো ইউনিটের। একদিন সালমান সবাইকে চমকে দিতে মুম্বাই থেকে তার নিজের বাবুর্চিকে লন্ডনে নিয়ে আসেন বিরিয়ানি রান্না করার জন্য।


অসাম্প্রদায়িক সালমান:
আগেই বলেছি সালমান খানের বাবা পাঠান, মা হিন্দু। গণেশ চতুর্থীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসব স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করেন সালমান খান। এজন্য ইসলামি সংগঠনগুলো সালমানের বিরুদ্ধে ফতোয়াও জারি করেছিল। এছাড়া মাদাম তুসো জাদুঘরে সালমানের মোমের মূর্তি স্থাপনের পর তার বিরুদ্ধে একবার ফতোয়া জারি হয়েছিল।
  
সালমান খানের অজানা কিছু তথ্য:
  • সালমান খান একজন বড় হৃদয়ের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রায়ই অসুস্থ শিশুদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং তাদের জন্য প্রায়ই রক্ত দান করেন।
  • লন্ডন শহরে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন সালমান।
  • সালমান খান একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী। তার মাও একজন শিল্পী।
  • কর্মজীবনের শুরুতে সালমানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১০ লাখ রুপি উপার্জন করা।
  • সালমান প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কোনো সিনেমায় কারো ঠোঁটে চুমু খাবেন না। এ কাজটি তিনি দুটি সিনেমায় করতে অস্বীকারও করেছেন।
  • সালমানের ছবি তোলার বিষয়ে খুবই আগ্রহ রয়েছে। তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের প্রচুর ছবি তুলেন তিনি।
  • বিভিন্ন ধরনের সাবানের প্রতি সালমানের খুবই আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ফলের নির্যাসসমৃদ্ধ সাবার তার খুবই প্রিয়।
  • জুতার ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর এর দায়িত্ব পালন করলেও বাড়িতে খালি পায়ে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এ তারকা অভিনেতা।
  • গাড়ি চলাতে খুবই পছন্দ করেন সালমান। বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ এবং ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ির প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে।
  • নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

Post A Comment: