ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
Decrease fontEnlarge font
পুলিশের হাতে অস্ত্র না থাকলে তারা দুর্বৃত্তদের মোকাবেলা করবে কীভাবে? অস্ত্রহীন, ‘ঢাল-তলোয়ারহীন’ পুলিশ বাহিনীর কথা তাই স্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারবে বলে মনে হয় না। আমেরিকার পুলিশ বাহিনীকে তো আরো শক্তিশালী করতে তাদের হাতে বছর কয়েক আগে সামরিক বাহিনীর অস্ত্র পর্যন্ত তুলে দেওয়া হয়। পরে সেসব অস্ত্রের অপব্যবহারের কারণে সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। এরই মধ্যে গত দু’বছরে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী পুলিশরা নিরীহ শ’তিনেক কৃষ্ণাঙ্গকে পাখির মতো গুলি করে মেরেছে। 

এদিক থেকে ব্যতিক্রম স্ক্যানডেনেভিয়ান দেশ নরওয়ে। সেখানকার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার চায় না পুলিশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করুক। উদ্যোগটা অবশ্য এর আগেও একবার কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু আল কায়েদা ও ইসলামি জঙ্গিদের সম্ভাব্য হামলার ভয়ে বছরকয় আগে পুলিশকে আবারও সশস্ত্র করা হয়। সে ভয় নাকি এখন ততোটা নেই। তাই ১৭ নভেম্বর থেকে আবারও নরওয়ের পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নতুন করে।  এব্যাপারে পত্রিকার শিরোনাম: ‘Norway disarms its police officers.’

নরওয়ের পুলিশপ্রধান ওড রেইডার হেমেলগার্ড গত শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে আসায় ১৯ নভেম্বর আবারও তারা পুলিশকে নিরস্ত্র করবেন। তবে পুলিশ অফিসাররা অস্ত্র রাখতে পারবেন তাদের গাড়ির ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায়। কোনোমতেই প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। এটা আগেও তাদের করতে হতো। 
 
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নরওয়েতে পোশাকধারী পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ৬ হাজার।  

‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে এসেছে’ বলে ঘোষণাটি পুলিশপ্রধান যেদিন দেন, ঠিক সেদিনই কিন্তু ফ্রান্সের রাজধানীতে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়, আহত হয় প্রায় দু’শ মানুষ। ইউরোপের এমন নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পরও নরওয়ের পুলিশ তাদের শুক্রবারের ঘোষণাটা বহাল রাখে কিনা এটাই এখন দেখার বিষয়।

Post A Comment: