কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনোজ। পুরো নাম মনোজ বক্করবালা। একটি মামলায় অভিযুক্ত মনোজ আপাতত তিহাড় জেলে বন্দি। আগ্রার একটি আদালতে তার বিচার চলছে। সেই মামলার শুনানিতে মনোজকে তিহাড় থেকে ওই আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশের তিন নম্বর ব্যাটেলিয়নের ছয় পুলিশ। তিহাড় থেকে ফিরতি পথে জুতো কেনার খুব ইচ্ছে হলো মনোজের। ছয় পুলিশকে বলল সেই ইচ্ছের কথা। সদয় হয়ে পুলিশ তাকে নিয়ে গেল একটি মলে জুতার দোকানে।
 
কেনাও হল জুতা। মনোজ খুশি। আর তার ইচ্ছেপূরণ করতে পেরে খুশি পুলিশরাও। কিন্তু সেই খুশিই কাল হলো তাদের। মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তা জানিয়ে দিলেন, বিচারাধীন বন্দিকে শপিং মলে নিয়ে গিয়ে জুতো কিনে দেওয়ায় এই ৬ পুলিশকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
 
পুলিশ সূত্রে খবর, শপিং মলের যে দোকানে জুতো কিনতে গিয়েছিল মনোজরা সেই দোকানের মালিক তাদের কথাবার্তা শুনে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। তার পর জিজ্ঞেস করায় মনোজ নিজের পরিচয় দেয় তাকে। এর পর জুতো কিনে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওই দোকানদার সংবাদমাধ্যমে কাজ করা তার কয়েক জন পরিচিতকে এ কথা জানান। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসায়, বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। আর তারপরই আসে বরখাস্তের আদেশ।
ওই পুলিশকর্মীদের কাজ, সংশোধনাগার থেকে আসামিদের নিরাপত্তা-সহ আদালতে নিয়ে যাওয়া এবং শুনানি শেষে তাদের ফের জেলে ফিরিয়ে আনা। পুলিশের উচ্চপদস্থ ওই কর্তা জানান, এই প্রথম নয় এর আগেও কর্তব্যে গাফিলতির কারণে ওই ছয় পুলিশকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বিভাগীয় তদন্ত শেষে এ বার তাদের চাকরি থেকে একেবারেই বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Post A Comment: