x

লেয়া সেদু
লেয়া সেদু
Decrease fontEnlarge font
লেয়া সেদুর স্বপ্ন হলো সত্যি! বন্ডকন্যাও হয়েছেন, একই সঙ্গে জেমস বন্ড তারকা ড্যানিয়েল ক্রেগের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। স্যাম মেন্ডেসের পরিচালনায় ‘স্পেক্টর’ নামের ছবিটিতে ড. ম্যাডেলেইন সোয়ান চরিত্রে দেখা গেছে ৩০ বছর বয়সী এই ফরাসি অভিনেত্রীকে। মেয়েটি হলো বন্ডের পুরনো শত্রু মিস্টার হোয়াইটের কন্যা। ক্ষতিকর সংগঠন স্পেক্টরের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সে। 

লেয়ার চোখে ক্রেগই সেরা বন্ড। কেনো? মেক্সিকোতে ছবিটির প্রচার করতে এসে তিনি এর উত্তরে বলেছেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি তিনিই আমাদের বন্ড! আমার কাছে তাকে দারুণ লেগেছে। আমরা সবাই তার কাজে মুগ্ধ। আমার কাছে তিনিই সেরা বন্ড।’

কান পুরস্কারজয়ী ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছেন লেয়া। তবু ‘স্পেক্টর’-এ অভিনয়টাই নিজের অভিনয় জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা মনে করছেন তিনি। তার মতে, ‘দর্শকরা যা ধরে নেবে, ম্যাডেলেইন সোয়ান ঠিক তার উল্টো। গল্পে সে বন্ডের জীবন পাল্টে দেয়। বলতে পারি এটাই আমার সেরা অভিজ্ঞতা। ছবিটির প্রত্যেক কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করাটা অবিশ্বাস্য। বন্ড সিরিজের অংশ হতে পেরে আমি খুব সম্মানিত, আমি অনেক খুশি।’

জেমস বন্ড সিরিজের ২৪তম ছবিটিতে মূল বন্ডকন্যা দু’জন। এর মধ্যে মনিকা বেলুচ্চি ইতালিয়ান আর লেয়া সেদু ফরাসি। বন্ড সিরিজের আরও দুটি ছবিতে একই সঙ্গে ইতালিয়ান ও ফরাসি বন্ডকন্যা দেখা গেছে। তারা হলেন-  ইতালির লুসিয়ানা পালুজ্জি ও ফ্রান্সের ক্লদিন অগার (থান্ডারবল) এবং ফ্রান্সের এভা গ্রিন ও ইতালির ক্যাটরিনা মুরিনো (ক্যাসিনো রয়েল)। 

লেয়া এক অর্থে সপ্তম ফরাসি অভিনেত্রী যিনি বন্ডকন্যা হলেন। ফরাসিদের মধ্যে এর আগে বন্ডকন্যা হয়েছেন এভা গ্রিন (ক্যাসিনো রয়েল), ক্লদিন অগার (থান্ডারবল), করিন ক্লেরি (মুনরেকার), ক্যারল বুকেট (ফর ইউর আইজ অনলি) এবং সোফি মার্সো (দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ)। এ ছাড়া ‘স্কাইফল’-এর নায়িকা বেরেনিস মারলোহির বাবা কম্বোডিয়ান-চীনা হলেও মা ফরাসি।

লেয়া একমাত্র অভিনেত্রী যিনি জেমস বন্ড ও ‘মিশন ইমপসিবল’ সিরিজের ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘মিশন ইমপসিবল-গোস্ট প্রটোকল’ (২০১১) ছবিতে স্যাবিন মোরিউ নামে এক পেশাদার খুনির চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এবার ম্যাডেলেইন সোয়ান চরিত্রে মুগ্ধ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকরা। কেউ কেউ বলেছেন, বাদবাকি সব চুলায় যাক! অন্তত লেয়া সেদুর জন্য মনে হতে পারে পয়সা উসুল! 

দুই বছর আগে ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ কান উৎসবে অংশ নেওয়ার আগ পর্যন্ত লেয়াকে কেউ খুব একটা চিনতো না। ওই ছবিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। অথচ এর আগে কোয়েন্টিন টারান্টিনোর ‘ইংলোরিয়াস বাস্টার্ডস’ (২০০৯), রিডলি স্কটের ‘রবিন হুড’ (২০১০), উডি অ্যালেনের ‘মিডনাইট ইন প্যারিস’ (২০১১) ছবিতে কাজ করে ফেলেছেন তিনি। ২০০৯ সালে ‘দ্য বিউটিফুল পারসন’ ছবির জন্য সিজার অ্যাওয়ার্ডসে সেরা সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে কানে পাম দ’র পুরস্কার পাওয়াটা তাকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। 

লেয়া এখন কাজ করছেন কানজয়ী নির্মাতা হাভিয়ার দোলানের ‘ইটস অনলি দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘গ্যাম্বিট’ নামের একটি ছবিতে। দুটোই মুক্তি পাবে আগামী বছর। বন্ডকন্যা যেহেতু হয়েছেন, আরও নামি-দামি নির্মাতাদের ছবি আসবে তার হাতের মুঠোয়। তাকে আর ঠেকায় কে!

Post A Comment: