শুক্রবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শনিবার সারাদিনই ছিল ব্যস্ত রাস্তাঘাট সব ফাঁকা। সন্ত্রাসী হামলার জায়গাগুলোতে রক্তের দাগ এখনো স্পষ্ট। নিহতদের স্মরণে ফুলের তোড়া রেখে গেছে অনেকে। ভয় আর আতঙ্কে প্যারিস এখন জড়োসড়ো।

জানুয়ারিতে শার্লি হেবদোর কার্টুন সাময়িকীর দপ্তরে হামলার পর প্রশ্ন উঠেছিল- প্যারিস এখন কতটা নিরাপদ। জনমনে প্রশ্ন থাকলেও প্যারিস নিয়ে কিন্তু কারো মধ্যে আতঙ্ক ছিল না। ওই সময়ে হামলার লক্ষ্য ছিল কার্টুনিষ্ট এবং ইহুদীরা। কিন্তু শুক্রবারের রাতে ঘটনা সব বদলে দিয়েছে।

বাগদাদ কিংবা বৈরুতে যে হামলা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার, সেই হামলা প্রত্যক্ষ করেছে প্যারিস। আর সে কারণেই এবার যেন ভয় আর আতংক গ্রাস করেছে এই নগরীকে।

শনিবার সকাল থেকেই প্যারিসের জনজীবন ছিল থমথমে। রাস্তাঘাটে লোক নেই। এমনকী শনিবার স্থানীয় কোনো বাজারও বসেনি বলে জানিয়েছেন প্যারিসের বাসিন্দা আনা।

সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল স্কুল-কলেজ সব বন্ধ থাকবে। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকটি প্যারিসের সবচেয়ে বড় ল্যান্ডমার্ক আইফেল টাওয়ারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শার্লি হেবদো হামলার পর থেকে প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তা রক্ষী। শুক্রবারের হামলার পর প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় তাদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে।

ফরাসী মা এখন তার কিশোর ছেলেকে বাইরে যেতে দিতে নারাজ। স্ত্রী ঘরে ফিরতে বিলম্ব করলে উদ্বিগ্ন স্বামী।এভাবেই প্রত্যেকের নিত্যদিনের আচরণ যেন পাল্টে দিচ্ছে এই ভয় আর আতংক।

এর আগে শার্লি হেবদোর হামলার পর দশ লাখ মানুষ প্যারিসের রাস্তায় মিছিল করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে, শার্লি হেবদোর কার্টুনিষ্টদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। কিন্তু এখন প্রতিটি মানুষই যখন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, তখন কে কার সঙ্গে সংহতি জানাবে ? শুক্রবার

Post A Comment: