নাম দেখে অনেকের কাছেই অপরিচিত মনে হবে। তবে “কথাবন্ধু মিথিলা” নাটকে অভিনয় করা নায়িকাটির কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। ইনিই হলেন প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল। মিডিয়ায় অনিয়মিত হওয়ার কারণে নাম শুনে অনেকেই তাকে চিনতে পারেন না। তবে ছবি দেখলে কারোর পক্ষেই চিনতে কষ্ট হয় না। অসংখ্য টিভি নাটকের পাশাপাশি টিভি বিজ্ঞাপনেও তিনি অভিনয় করেছেন। তিনি বর্তমানে কানাডা প্রবাসী।

ছোটবেলার গল্প:
মোহাম্মদপুরের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গ্রীন হেরাল্ড স্কুলের চুপচাপ ধরনের এই মেয়েটি নিজের ভুবন নিয়েই মেতে থাকে সারাণ। ছোটবেলা থেকেই ভীষণ পড়ুয়া অগ্নিলার ছিল চারপাশের সবকিছুতেই ভীষণ আগ্রহ। অনুসন্ধানী চোখে খুঁজে ফিরেন না জানা হাজারো প্রশ্নের উত্তর। চিত্রশিল্পী বাবা সৈয়দ ইকবাল ও মা শাহানা ইকবাল তাদের একমাত্র মেয়ের এই আগ্রহে খুব খুশি। মেয়ের হাতে তার তুলে দিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী। মিষ্টি হাসির এই মেয়েটি স্বপ্ন দেখতেন মাদাম কুরী হবেন। কাউকে কিচ্ছু না জানিয়ে নিউমার্কেট থেকে একগাদা টেষ্টটিউব, স্পিরিট এনে পড়ার ঘরটিকে ছোটখাটো একটি ল্যাবরেটরীই বানিয়ে ফেললেন। কিন্তু সে স্বপ্নেও জল ঢেলে দিল একটি দুর্ঘটনা। খুব মনযোগী হয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে স্পিরিট ছিটকে এসে লাগল মুখে। এখানেই শখ মিটে গেল ডাক্তার বা  ইঞ্জিনিয়ার হবার। কিন্তু এতটুকুও দমে যান নি তিনি। গৎবাঁধা নোট বইয়ের নোট মুখস্ত না করে নিজের ভাষায় লিখতে পছন্দ করতেন। কাস এইটে পড়ার সময় স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণের দিন ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’র পোর্সিয়া চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে চমকে দেন। এরই মধ্যে মা মেয়েকে দেশে ফেলে রেখে কানাডায় উড়াল দিলেন আর্টিষ্ট বাবা সৈয়দ ইকবাল।

ক্যামেরার সামনে দাড়ানোর সুযোগ:
অগ্নিলার বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখন তিনি প্রথম মডেলিং করেন। প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিনয় ১০ বছর বয়সে। তারপর ২০০১ সালে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের বিপ্রতীপ নাটকে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে নতুন অবয়বে ফেরা। অগ্নিলার দীপা হয়ে উঠার গল্পটা খুব মজার। গ্রীন রোডের বাসায় ব্যালকনিতে বিকেল হলেই মেতে উঠতেন প্রিয় কুকুর টমি কে নিয়ে। এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করলেন পাশের ফ্যাটের এক শখের ফটোগ্রাফার নাসরিন আকতার। তার বন্ধু ছিলেন নাট্যকার ও পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম। টিনএজারদের বয়োসন্ধির নানা সমস্যা নিয়ে লেখা ‘ বিপ্রতীপ’ নাটকটির প্রধান চরিত্র ‘ দীপা’র জন্য তখন তিনি নতুন মুখ খোঁজ করছিলেন। নাসরিন আকতারের তোলা ছবি দেখে অগ্নিলাকেই মনে ধরল পরিচালকের। এক নাটকে অভিনয় করেই প্রিয়মুখ হয়ে উঠলেন ছোটপর্দার।

কানাডা চলে যাওয়া:
২০০২ সালে বাবা তাদের সপরিবারে কানাডায় নিয়ে যান। সেখানে অগ্নিলা ভর্তি হলেন ইষ্টার্ন স্কুল অব কমার্সে। মেধার স্বার রাখলেন অগ্নিলা কানাডাতেও । কানাডার হায়ার স্কুল ডিগ্রী ওএসডিডি’তে ভাল  রেজাল্টের জন্য ‘কুইন এলিজাবেথ এইম ফর দ্য টপ স্কলারশিপ’ এবং কানাডা সরকার থেকে ‘অন্টারিও স্কলার অ্যাওয়াডর্’  অর্জন করেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পালা। ২০০৬ সালে ভর্তি হলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো আন্তজার্তিক উন্নয়ন বিভাগে।

Post A Comment: